ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯

কোন পথে ভারত?
তারেক শামসুর রেহমান
প্রকাশ: রোববার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 60

১ নভেম্বর ভারতে দুটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। একটি জম্মুু ও কাশ্মির, অপরটি লাদাখ। এর আগে অঞ্চল দুটি একত্রিত ছিল। এবং সংবিধানের ৩৭০ ধারা মতে এই অঞ্চলটি একটি বিশেষ সুবিধা ভোগ করত। কিন্তু ৫ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্ট এই সুবিধা বাতিল করে দেয় এবং দুই ভাগে এই রাজ্যটিকে ভাগ করে। এখন কেন্দ্র থেকে এই দুটি অঞ্চল শাসিত হবে। জম্মু ও কাশ্মিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিল। তাই এই রাজ্যটি ভেঙে দুটি অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত, সেই সঙ্গে মূল ধারার ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে এই অঞ্চল এখন এক ধারায় মিলিত হবে, এই ছিল যুক্তি। এই যুক্তির সমালোচনা করেছেন অনেকে। বিরোধী দলগুলোও জম্মু ও কাশ্মির যে এর আগে বিশেষ সুযোগ পেত, তা বাতিল করায় মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিল। নির্বাচিত একটি সরকার ওই অঞ্চলের জনগণের মতামত না নিয়ে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না এটাই ছিল সমালোচনার ভাষা। সেই থেকে ভারতের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অনেকে। একজন ভারতীয় বংশোদ্ভ‚ত লেখক ও গবেষক রামচন্দ্র গুহ ওয়াশিংটন পোস্টে (১৪ আগস্ট) একটি প্রবন্ধ লিখেছেনÑ ‘ইন্ডিয়া ওয়াজ অ্যা মিরাকল ডেমোক্র্যাসি, বাট ইট ইজ টাইম টু ডাউনগ্রেড ইটস ক্রিডেনশিয়াল’। তার বক্তব্য পরিষ্কারÑ ভারত রাষ্ট্রটি অনেকগুলো জাতি ও উপজাতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল। সেখানে উত্তরাঞ্চলের
সংস্কৃতির সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সংস্কৃতির কোনো মিল নেই। আচার-আচরণ, ধর্ম, সংস্কৃতির মাঝেও পার্থক্য রয়েছে।
তার মতে ভারত হচ্ছেÑ ‘অ্যা নেশন অব মেনি নেশনস’। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও প্রাকটিস ভারতকে এক কাঠামোয় রাখতে পেরেছিল। কিন্তু এখন সেই গণতন্ত্রকে আর প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র বলা যাবে না। মিথ্যা বলেননি রামচন্দ্র গুহ। বিশাল এক দেশ ভারত। ধর্মীয়ভাবে অনেক ধর্মের অনুসারীদের বাস এই ভারতে। জনসংখ্যার ৭৯ দশমিক ৮০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এরপরেই মুসলমানদের স্থান, জনসংখ্যার হার ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। খ্রিস্ট ও শিখ ধর্মাবলম্বীদের হার যথাক্রমে ২.৩০ ও ১.৭২ শতাংশ। ২০ কোটির ওপর মুসলমানদের এই সংখ্যা যেকোনো মুসলমান প্রধান দেশের চাইতে বেশি। বর্ণ, ধর্ম ও জাতিভিত্তিকভাবে বিভক্ত ভারতকে এক কাঠামোয় রাখতে ভারতীয় সংবিধান প্রণেতারা একদিকে যেমন দলিত শ্রেণির (নিম্ন শ্রেণির, অশিক্ষিত মানুষ) জন্য সংবিধানে এক ধরনের রক্ষাকবচ রেখেছেন, অন্যদিকে বিশেষ বিশেষ রাজ্যের জন্য (যেমনÑ উত্তর পূর্বাঞ্চল, কিংবা কাশ্মির, অন্ধ্র প্রদেশ) বিশেষ মর্যাদা তথা সীমিত স্বায়ত্ত শাসনের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্টÑ একটি ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামোয় কিছু রাজ্যকে কিছু সুবিধা দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক
সংস্কৃতির আওতায় ভারতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখা। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ ৭২ বছর এই ঐক্য টিকে থাকলেও, এখন এই ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এখন ভারতীয় ঐক্যের জন্য রীতিমতো হুমকি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলে আসছিল, তা একটা পর্যায়ে স্তিমিত হয়ে আসলেও, কাশ্মিরের ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ায় নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই অসন্তোষ এখন অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ এবং একই সঙ্গে ৩৫-এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মির আলাদা মর্যাদা পেত। এ ধরনের বিশেষ সুবিধা (স্থানীয়দের চাকরি শিক্ষা থেকে সুবিধা, স্থায়ী নাগরিকের মর্যাদা ইত্যাদি) শুধু জম্মু ও কাশ্মিরের ক্ষেত্রেই যে প্রযোজ্য ছিল তেমনটি নয়, অন্যান্য বেশ কিছু রাজ্য এখনও সাংবিধানিকভাবে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা ভোগ করে থাকে। ৩৭১-এ ও ৩৭১ ধারাবলে
উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থানীয় জনগোষ্ঠী অনেকটা কাশ্মিরিদের মতো একই ধরনের সুবিধা পায়। পার্বত্য এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জমির ওপর, বন ও খনিজ সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত অধিকার স্বীকৃত। তাদের
কোনো কর দিতে হয় না। চাকরির ক্ষেত্রেও রয়েছে অগ্রাধিকার।
এই অঞ্চলে সংবিধানের অনেক ধারা কার্যকর নয়। সেখানে দেশীয় আইন, ঐতিহ্য অনুযায়ী অনেক কিছু নিয়ন্ত্রিত হয়। সম্পত্তি ও জমির হস্তান্তরও নিজস্ব নিয়মে চলে। সংবিধানের ৩৬৮ ধারার ভিত্তিতে ৩৭১ নম্বর ধারায় ৯টি রাজ্যকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কাশ্মিরের বাইরে মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও অন্ধ্রপ্রদেশ রয়েছে সেই তালিকায়। ৩৭১-বি ধারায় কিংবা
২৪৪-এ ধারায় আসাম বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে। ৩৭১-ডি ও ই ধারায় অন্ধ্রপ্রদেশে শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণসহ কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতির হাতে। ৩৭১-এইচ ধারামতে অরুণাচল রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত উল্টে দিতে পারেন কেন্দ্র থেকে নিযুক্ত রাজ্যপাল। সুতরাং যেসব অঞ্চল বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে তাদের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে নাগাল্যান্ড, মিজোরামে বিক্ষোভ হয়েছে এবং স্থানীয় নেতারা কঠোর হুমকি দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, জম্মু ও কাশ্মির দ্বিখÐিত হওয়ায় অনেক রাজ্যেই এর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দার্জিলিংয়েও পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। দার্জিলিংয়ের পৃথক রাজ্য গড়ার নেতা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল ওরং আত্মগোপন স্থল থেকে এক বার্তায় দার্জিলিংয়েও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এটা একটা অশনিসংকেত। অন্যান্য রাজ্য থেকেও এ ধরনের দাবি উঠতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন্দ্রের বিজিপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার কি শুধু মিশন কাশ্মির নিয়েই ক্ষান্ত থাকবেন? নাকি অন্যান্য অঞ্চলগুলোর ব্যাপারে সংবিধানে যে সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তা খর্ব করারও উদ্যোগ নেবেন? কাশ্মিরে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে জনঅসন্তোষ গড়ে উঠছে। তা যদি কেন্দ্র বিবেচনায় নেয়, তাহলে সংবিধানে অন্যান্য ও পশ্চাৎপদ রাজ্যগুলোর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থে সংবিধানের রক্ষাকবচগুলো বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
তবে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য জম্মু ও কাশ্মিরের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত মুসলমানবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হবে। কেননা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে মুসলমানরা সংখ্যালঘু।
ভারতের সংবিধান প্রণেতারা এ ধরনের রক্ষাকবচ দিয়েই ভারতের ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামোকে এক রাখতে চেয়েছেন। দীর্ঘদিন কোনো সরকারই এই রক্ষাকবচের ওপর হাত দেয়নি। কেননা তারা জানত, সংবিধানে লিপিবদ্ধ এসব রক্ষাকবচে যদি হাত দেওয়া হয়, তাহলে ভারতের সংহতি বিনষ্ট হবে। ভারত ভেঙে যেতে পারে। বিজেপি সরকারের কাশ্মির প্রশ্নে নেওয়া সিদ্ধান্ত এখন একদিকে সংবিধানকে যেমন আঘাত করেছে, তেমনি ভারতের সংহতি ও ঐক্যকেও আঘাত করেছে। একই সঙ্গে ভারতের গণতান্ত্রিক সংহতিকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। এমনিতেই ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে।
বলা হচ্ছে, ভারতের গণতন্ত্র হচ্ছেÑ ‘ইলেকশন অনলি ডেমোক্র্যাসি’। অর্থাৎ শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিকই হচ্ছে এই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের মূল স্প্রিট অনেক ক্ষেত্রেই এখানে অনুপস্থিত। পারিবারিক শাসন তথা পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি (স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে কিছু পরিবার), দলিতদের ব্যবহার করে স্থানীয় তথা জাতীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা (মায়াবতী, লালু প্রসাদ), ক্রিমিনালদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব (শতকরা ৪৩ শতাংশ সংসদ সদস্যের ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে, দ্য হিন্দু, ২৬ মে ২০১৯) ভারতীয় গণতন্ত্রকে সনাতন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে পৃথক করেছে। মোদি জমানায় এখন একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে তা হচ্ছেÑ জনগণের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ নিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি অব্যাহত রাখা। রাষ্ট্রীয়ভাবে এখন হিন্দু জাতীয়তাবাদী নীতি প্রমোট করা হচ্ছেÑ যা সনাতন গণতান্ত্রিক
সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নামে এক ধরনের করপোরেট সংস্কৃতি (ধনী গোষ্ঠীর সুবিধা নেওয়া) সনাতন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকেও এখন চ্যালেঞ্জ করছে। এই করপোরেট সংস্কৃতির প্রতিনিধি হচ্ছেন মোদি। সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে কাশ্মিরে জমি কিনে করপোরেট জগতের ব্যবসায়ীরা কাশ্মিরে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। যেখানে সাধারণ কাশ্মিরিদের কিংবা কাশ্মিরের জনগণের প্রতিনিধিত্বকারীদের কোনো ভ‚মিকা নেই। একদিকে কাশ্মির অন্যদিকে আসামে এনআরসি, সব মিলিয়ে এক অনিশ্চয়তার পথে হাঁটছে ভারত। তাই দীপক সিনহা যখন সাউথ এশিয়া মনিটর-এ লেখেনÑ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ধূমায়িত ক্ষোভ (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯), তখন ভারতের ভবিষ্যৎ আমাদের ভাবিত করে। ভারতের অনেক কিছু দেখার আছে।
আমাদের উন্নয়নের অংশীদার ভারত। ১২ অক্টোবর চীনা প্রেসিডেন্ট ভারত সফর শেষ করেছেন। শি জিনপিং-মোদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কাশ্মির ইস্যু স্থান পায়নি। স্পষ্টতই এটা মোদি সরকারের কৌশলী অবস্থান। আন্তর্জাতিক পরিসরে কাশ্মির প্রশ্নে মোদি সরকার সমর্থন আদায় করার উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি ভারত ঘুরে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল। তারা স্বীকার করেছে, কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
এ ক্ষেত্রে কাশ্মির প্রশ্নে তারা কোনো
মন্তব্য করেনি। সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর মেরকেল ভারত সফর করেছেন। কাশ্মির প্রশ্নে ভারতের নেওয়া সিদ্ধান্তেরও তিনি সমালোচনা করেননি। তবে এটা স্বীকার করেছেন ‘কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তার মতে যেখানে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এটাই হচ্ছে আসল কথা। সেখানে পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে স্থানীয় নেতারা এখনও
অনেকটা গৃহবন্দি।
মোদি সরকার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলে, পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। ভারতের জন্য এটা মঙ্গল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এখানে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাÐ বেড়ে যেতে পারে। আর তাতে করে সুবিধা নেবে পাকিস্তান। এটাকে পুঁজি করে ভারতবিরোধী প্রপাগান্ডায় নামবে পাকিস্তান, বাড়বে উত্তেজনা। এই উত্তেজনা ভারত ও পাকিস্তান, কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

প্রফেসর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]