ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯

চবিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর
চবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:৫০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 107

ভুক্তভোগী শুক্কুর আলম

ভুক্তভোগী শুক্কুর আলম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে রিফাত নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শুক্কুর আলম দর্শন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে মারধরকারী মোরশেদুল আলম রিফাত ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের বিজয় পক্ষের কর্মী বলে জানা গেছে। 

রোববার রাত আটটার দিকে চবি সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়স্থ নুর আলম স্টোরের সামনে এঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে প্রত্যক্ষদর্শীরা চবি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল বডির ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করে তারা।

এতে ভুক্তভোগী শুক্কুর আলম বলেন, পরের দিন পরীক্ষা থাকায় রাতের জন্য খাবার কিনতে আমি দোকানে যাই। আমার হাতের কনুই লাগায় এক ছেলে আমার পেটে চিমটি দিয়ে বলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে। আমি বললাম কিভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ায় আমি ত জানিনা। এরপর বলে আমাকে চিনোস, সিনিয়রের সাথে বেয়াদবের মত কথা বলিস। এরপর আমার গায়ে পেছন থেকে লাথি মারে আর কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দেয়। বিষয়টি প্রক্টর স্যারকে জানানো দরকার বললে সে আমার মুখে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। এসময় পাশে থাকা আমার এক অতিথিকেও মারধর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ৭-৮ মাস আগে চোখের সমস্যার কারণে অপারেশন করা হয়। আমার অপারেশনের বাম চোখে সে মেরেছে। চোখে সানগ্লাস লাগানো ছিল, মারের কারণে সেটাও কোথায় পড়ে গেছে। 

অভিযুক্ত রিফাতের বিরুদ্ধে রিকশাচালককে মারধর, অস্ত্রবহন ও মাদকাসক্ত হওয়া সহ আরও অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ব্যপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে রিফাতের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজয় পক্ষের নেতা এস এম জাহেদুল আওয়াল বলেন, বিষয়টি আমি পুরোপুরি জানিনা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রিফাতের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চবি চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, চোখের আশেপাশে কোন আঘাত লাগলে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এতে চোখের বিশেষ প্রেশার উঠানামা করলে ব্যাথা বাড়ে। আমরা প্রাথমিকভাবে ব্যাথার ঔষধ দিয়েছি, চোখ স্পর্শকাতর হওয়াতে চোখের চিকিৎসক ছাড়া কোন ধরণের ড্রপ ব্যবহার করা সম্ভব না। ব্যাথা না কমলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রেরণ করা হবে। 

বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়া বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক। আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। আগামীকাল প্রক্টর অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা রয়েছে, এরপর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]