ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সময়ের আলো সাক্ষাৎকার
ভিশন গ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৪.১১.২০১৯ ১২:৫৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 766

ভিশন গ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা

ভিশন গ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা

স্বপন ভট্টাচার্য,
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী

তিনি যশোরের মণিপুর উপজেলার কৃতী সন্তান। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বড়ভাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন অকুতোভয় সৈনিক। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য। তার নাম পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন। পারিবারিকভাবে  মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে সংগঠিত করতে যার ত্যাগের কথা আজও সবাই স্মরণ করেন। তিনি এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, তার নাম স্বপন ভট্টাচার্য। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। আর এই প্রতিবাদের কারণে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও সাবেক পানি সম্পদমন্ত্রী মরহুম আবদুর রাজ্জাকসহ অনেকের সঙ্গে স্বপন ভট্টাচার্যকেও দীর্ঘ ১৯ মাস কারাবরণ করতে হয়। এখনও দলের জন্য, দেশের জন্য যেকোনো আত্মত্যাগে প্রস্তুত স্বপন ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার ধ্যান হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্পিত দায়িত্ব কতটা সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে পালন করা যায় তা নিশ্চিত করা।

স্বপন ভট্টাচার্য ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান পদক লাভ করেন। মাঠ থেকে উঠে আসা স্বপন ভট্টাচার্য ইতোমধ্যে ২৬টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- ভারত, নেপাল, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, দুবাই, আরব আমিরাত, রাশিয়া, ওমান, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, স্পেন, ফিনল্যান্ড, মিসর, অস্ট্রেলিয়া ও ভ্যাটিকান সিটি। দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে তিনি ২০১৪-১৯ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দফতরে কিছু প্রশ্নের জবাব পেতে এবং তার প্রত্যাশার কথা জানতে মুখোমুখি হয় ‘সময়ের আলো’। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল। আর তা হলো, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’। অর্থাৎ শহরে যারা বসবাস করে যে সুযোগ-সুবিধা পায়, গ্রামে বসবাস করেও যেন একই সুবিধা পায়। সে লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনি ইশতেহারে এই পরিকল্পনা যুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কার্যক্রমের দায়িত্ব পেয়ে আমি ধন্য। ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমে তিনটি জেলায় এই পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- রংপুর, বগুড়া ও গোপালগঞ্জ। আরও কিছু জেলায় চালু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এই প্রকল্পে অনেক সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। যারা নিম্নবিত্ত, যাদের ঘরবাড়ি নেই তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অল্প সুদে তারা ঋণের টাকা ২৫ বছরে পরিশোধ করতে পারবে। এমনকি যারা ভাড়া দেবে তারাও এসব ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব প্রকল্পে রাস্তা থেকে শুরু করে পানি সরবরাহসহ সবধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন হয়েছে। এর নাম হয়েছে, ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’। এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম স্বপ্ন ছিল এই প্রকল্পের। আর এই প্রকল্পের অনেক সফলতা এখন দৃশ্যমান। অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে, এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সমবায় ব্যাংক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই ব্যাংকের সফলতাও কম নয়। অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সমিতির মাধ্যমে ঋণের সুযোগও পাচ্ছে। তবে ব্যাংকের চাকরি নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কারণ ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এখানে ওই ধরনের দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়। যাদের হিসাব রক্ষণ সম্পর্কে কিছুটা জানা-শোনা আছে। এরপরও আমরা নিয়োগ দিচ্ছি। সুখের কথা, ৬৮ হাজার গ্রামে যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশই নারী। আর বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ। অর্থাৎ সরকার যে নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘মিল্ক ভিটা’। এই মিল্ক ভিটা নিয়ে প্রশ্ন করতে প্রতিমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেন, কিছুটা তো সমস্যা রয়েছে। তবে যে সমস্যা রয়েছে তা নিরসনে কাজ করছি। তিনি জানান, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির পঞ্চম বৈঠকে মিল্ক ভিটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একই সঙ্গে কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে এদেশের শিশুদের কথা চিন্তা করে মিল্ক ভিটা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ভারতের ‘আমূল ডেইরি’র আদলে মিল্ক ভিটা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি আরও জানান, দুর্নীতি, ম্যানেজমেন্ট দুর্বলতা ও যোগ্য লোকের অভাবে মিল্ক ভিটা লোকসান গুনছে। তবে এসব দুর্বলতা থাকবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। দুধের গুণগতমান উন্নত করার জন্য ইউরোপ থেকে টেস্টার মেশিন আনা হচ্ছে। আশা করি, মিল্ক ভিটা উৎপাদনে যেমন ঘুরে দাঁড়াবেÑ একই সঙ্গে লাভের মুখ দেখতে শুরু করবে। যে পথেই এখন আমরা হাঁটছি।

পল্লী উন্নয়ন বোর্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেন, গ্রাম উন্নয়নে এই সংস্থার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সংস্থার জন্য সময় উপযোগী জনবল প্রয়োজন। আধুনিকমনস্ক প্রযুক্তিবিদ্যায় দক্ষ জনবল খুবই প্রয়োজন। তাহলে এই সংস্থা একদিন পুরো দেশের চেহারা পাল্টে দিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সমবায় আইন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আইনে পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা রয়েছে। যেন সময় উপযোগী হয়। কো-অপারেটিভ আইনে কিছু অসংলগ্নতা রয়েছে। সেটাও দূর করা হবে। সমবায় ব্যাংক নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। এই বিভাগের জন্য চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সাবলীল ভাষায় জানান, সবক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকবে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজ করতে হবে। এই বিভাগে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারব। কোনো কাজই কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছাড়া হয় না। আশা করি, যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যাব।

এক সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগকে একীভূত হয়ে কাজ করতে হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই দুটি বিভাগের কাজ একেবারে আলাদা করে দিয়েছেন। এ কারণে কাজের গতিও বেড়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুটি বিভাগের কার্যক্রম আলাদা করে দেওয়ার ফলে এখন আর কাজের গতি থেমে নেই। যার যার ফাইল তাকেই নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে। অর্থাৎ আমার বিভাগের ফাইল এখন আর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে পাঠাতে হয় না। তবে হ্যাঁ, তাই বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়া হয় না, তা নয়। প্রয়োজনে তার পরামর্শ নেওয়া হয়। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ভালো ও নিবিড়। একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব বজায় রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যখন তিনি সরকারি কাজে দেশের বাইরে যান তখন অনেক সময় আমাকে কিছু পরামর্শ দিয়ে যান। কোনোভাবেই যেন কাজের কোনো ক্ষতি না হয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে না থাকে সেজন্য আমাকে বলে যান। অর্থাৎ দুটি বিভাগের কাজ যেন একসূত্রে গাথা। কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নই। আমাদের মধ্যে যেন একটা মেলবন্ধনের টিউন রয়েছে, যা কাজের জন্য খুবই প্রয়োজন।

এই বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার ভিশন ও মিশন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করে যেতে চাই। প্রথমে হচ্ছে , প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘আমার গ্রাম আমার শহর’কে একটি পরিপূর্ণ রূপ দিতে চাই। যেখানে গ্রামের মানুষ ভালভাবে জীবনযাপন করবে। কেউ দারিদ্র্যের কশাঘাতে থাকবে না। সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার লক্ষ্য। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ যেন বাড়ানো যায়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সমবায় ব্যাংকটিকে একটি আধুনিক ব্যাংকে রূপান্তর করা, যেন সমবায়ীরা সবধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়। আর তারা নিজেরাই যেন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারে। তৃতীয়টি হচ্ছে, মিল্ক ভিটাকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও তার সুযোগ্যকন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা। পাশাপাশি মিল্ক ভিটার মাধ্যমে যেন দেশের দুধের চাহিদা পূরণ করতে পারি এবং গুণগতমানের দুধ যেন সবার কাছে সরবরাহ করতে পারি- সে প্রত্যাশার বাস্তব রূপ দিতে চাই। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]