ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কাস্টম হাউসের ভল্ট  ভেঙে সোনা চুরি তদন্ত কমিটি গঠন
৭ জন ডিবি হেফাজতে
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.১১.২০১৯ ১:৩১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 35

কাস্টম হাউসের ভল্ট  ভেঙে সোনা চুরি তদন্ত কমিটি গঠন

কাস্টম হাউসের ভল্ট  ভেঙে সোনা চুরি তদন্ত কমিটি গঠন

যশোরের বেনাপোল কাস্টম হাউসের নিরাপদ গোপনীয় ভল্ট ভেঙে প্রায় ২০ কেজি স্বর্ণ চুরির রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি গত চারদিনেও। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির হেফাজতে থানা ৭ জনের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। নতুন করে এ ঘটনায় আর কাউকে আটক করা হয়নি। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিন বেনাপোল কাস্টম হাউসে তদন্ত শুরু করবেন আগামী রোববার থেকে।

কাস্টম সূত্র জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই টিমের নেতৃত্বে আছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) খন্দকার আমিনুর রহমান,সি আইসেলের যুগ্ম কমিশনার জাকির হোসেন, যশোরের পুলিশ সুপার মইনুল হক, বেনাপোল কাস্টম কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী ও বেনাপোল কাস্টমের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম।

দুর্ধর্ষ চুরির রহস্য উদ্ঘাটনে বেনাপোল পোর্ট থানাসহ র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বেনাপোলের বিভিন্ন স্থানে তদন্ত কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন আলাদা করে। স্থানীয় সূত্র বলছেন, বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী অতীতে এখানে এমন ভয়ঙ্কর চুরির ঘটনা ঘটেনি। লকারের কক্ষটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং সেখানে দায়িত্বশীল ছাড়া কারও প্রবেশাধিকার নেই। কক্ষের চারপাশে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বলা হচ্ছে চোররা ঘরে প্রবেশের আগে সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গোপন কক্ষে ঢুকে লকার ও ভল্ট  ভেঙে ১৯ কেজি ৩৮৫ গ্রাম সোনা নিয়ে যায়। এই চুরি অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং দীর্ঘ পর্যালোচনার ফসল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৮ ও ৯ নভেম্বর সাপ্তাহিক ছুটি ও ১০ নভেম্বর রোববার ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটির কারণে কেউ অফিসে ছিল না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোররা অফিসের ভল্ট  ভেঙে ২০ কেজি সোনা চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির ঘটনায় দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনাস্থলে ডেপুটি কমিশনারের অফিস কক্ষ। ঝুলানো রয়েছে উচ্চ মতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা। তবে ক্যামেরায় কিছুই ধরা পড়েনি। কারণ ক্যামেরাটি সচল থাকলেও মূল মেশিন থেকে সেটি বিকল করা ছিল। কেন বিকল ছিল? এমন প্রশ্ন অনেকের।

বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) সৈয়দ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সবাইকে যশোর ডিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেখানেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’। যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ জানান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাহারুল সর্দার, সিপাহি পারভেজ, দৈনিক মুজুরিভিত্তিক পিয়ন টিপু সুলতান, আজিবর রহমান, মহাব্বত হোসেন, সুরত আলী ও আলাউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। যা তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না।
যশোর থেকে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দল বেনাপোল কাস্টম হাউসে স্বর্ণ চুরির ঘটনা তদন্ত করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত টিমের সদস্য পরিদর্শক (পিবিআই) কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি। খুব শিগগির চুরির রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশা করছি’।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]