ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

মিষ্টিকুমড়ায় মিষ্টি হাসি
কিকিউ মারমা বান্দরবান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.১১.২০১৯ ১:৩০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 113

মিষ্টিকুমড়ায় মিষ্টি হাসি

মিষ্টিকুমড়ায় মিষ্টি হাসি

চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে জুমপাহাড়ের ঢালে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে খুব ভালো সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। পাহাড়ের ঢালে জুমচাষিদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। খেতেও সুস্বাদু। পুষ্টিসমৃদ্ধ এ সবজির চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। সবজিটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। স্থানীয় হাটবাজারগুলোয় বছর জুড়েই জুমের মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে চাষিরা অবগত নন। এতে মাঝপথে ফায়দা ভোগ করেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। আর ঘাম ঝরানো শ্রম দিয়ে উৎপাদন করা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন চাষিরা।

বান্দরবানের পাহাড়ের বিভিন্ন জুমক্ষেত থেকে কৃষকরা মিষ্টিকুমড়া সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রির জন্য। এ দৃশ্য এখন নিত্যকার। আড়তদাররা এসব মিষ্টি কুমড়া কিনে গাড়ি করে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ নানা জায়গায় নিয়ে যায়।

কৃষি বিভাগ সূত্রমতে, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও সদরসহ জেলার সাত উপজেলায় চলতি বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে ৫৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে পাহাড়ের ঢালুতে জুম পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়া চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এ বছর মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টন। গতবারের তুলনায় এ বছর চাষ বেড়েছে ১০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের পরিমাণ ১০০ টন বৃদ্ধি পেয়েছে।

বান্দরবান থানচি সড়কে ১২ মাইল এলাকার পারিং ম্রো বলেন, আমি এই বছরও জুমের পাশাপাশি পাহাড়ের সাত একর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছি। প্রচুর মিষ্টি কুমড়ার ফলনও হয়েছে। গত বছরে প্রতিকেজি মিষ্টি কুমড়ার মূল্য ৬ থেকে ৮ টাকার মধ্যে ছিল। কিন্তু এ বছর প্রতি কেজি ৯ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছি।

মেনরুম ম্রো নামে আরেক চাষি বলেন, এ বছর সময় মত বৃষ্টি হয়েছে। এতে জুমের ধানও ভালো হয়েছে। মিষ্টি কুমড়ার ফলনও ভালো হয়েছে আমার জমিতে। গত বছরে প্রতি মণ ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে এ বছর প্রতি মণ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। এতে আমার পরিশ্রমের মূল্য কিছুটা হলেও উঠে আসছে।

বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ড. এ কে এম নাজমুল হক বলেন, আদিকাল থেকে জুম চাষ করে আসছে পাহাড়িরা। পাহাড়ের ঢালে জুমের ধান চাষের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার চাষও বাড়ছে। এই অঞ্চলে দুটি মৌসুমেই এখানে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়। তাই বলতে গেলে সারা বছরই এ অঞ্চলের বাজারে মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়।

চাষিদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ন্যায্যমূল্য চাষিরা পান নাÑ এমন অভিযোগ একেবারে মিথ্যা নয়। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষিরা উৎপাদিত সবজি সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারেন না। এ কারণে তারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য চাষিদের কৃষক সংগঠন গড়ে তুলে নিজেদের পণ্য নিজেদের বাজারজাতকরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগ থেকে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]