ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

নড়াইল শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্য
টাকা দিলেই মেলে এমপিও
ড্রাইভার ও সহকারীর মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.১১.২০১৯ ১:২৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 84

টাকা দিলেই মেলে এমপিও

টাকা দিলেই মেলে এমপিও

বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের নানা অনিয়মের সুযোগ দিয়ে কিংবা শিক্ষকদের নানা ফাঁদে ফেলে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়েদুর রহমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষকের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) প্রদানের সুযোগ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে ঘুষ গ্রহণের নানা তথ্য।

২০০৪ সালে শারীরিক শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগ দেন দূর্গাপুরের সুমতি রায়। টানা ১৫ বছর বিনা বেতনে চাকরি করেছেন তিনি। এমপিওর জন্য অনেক চেষ্টা-তদবির করেও তা হয়নি। সর্বশেষ আগস্টে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে গাড়িচালক সিদ্দিকুর রহমানের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। গরিব সুমতি দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩টি এনজিও কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ৩৮ হাজার টাকা জোগাড় করছে দিয়েছেন গাড়িচালক সিদ্দিকের হাতে। নানা টালবাহানার পর জানতে পারেন, সদর উপজেলাতে সুমতির কোনো এমপিও আবেদনই জমা হয়নি।

কেবল সুমতিই নয়, শিক্ষা অফিসারের ঘুষের শিকার হয়েছেন কয়েক ডজন শিক্ষক। এদের প্রত্যেকের দাবি নতুন এমপিও, প্রমোশন আর ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ২০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় শিক্ষা অফিসার সাইয়েদুর রহমানকে। নড়াইল সদরের দক্ষিণ শিমুলিয়া কলেজ, আশার আলো কলেজ, রতডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চালিতাতলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেবভোগ জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য ঘুষ দিতে হয়েছে জেলা শিক্ষা অফিসারকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইয়েদুর রহমান জেলা শিক্ষা অফিসার হিসাবে যোগ দেন ২০১৮ সালে ১২ নভেম্বর। নড়াইলে যোগদানের পর থেকে গত এক বছরে কেবল সদরেরই ৭০ জন শিক্ষক কর্মচারীর নানা কাজে শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক সিদ্দিক এবং অফিস সহকারী তুষারের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করেছেন এই কর্মকর্তা।

নড়াইল সদর শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছেÑ বদলি, সংশোধন, নতুন এমপিও, বিএড স্কেল, পদোন্নতি, নতুন বেতন স্কেল, ইনডেক্স ডিলিটসহ নানা কাজে প্রথমে আবেদন জমা হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আইডিতে। সেগুলো যাচাই করে ১০ দিনের মধ্যে তিনি পাঠিয়ে দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আইডিতে যা পরবর্তী মাসের মধ্যে এমপিও হওয়ার কথা। কিন্তু সদর উপজেলা থেকে বের হওয়ার পরপরই শিক্ষক-কর্মচারীরা দৌড়াতে থাকেন জেলা শিক্ষা অফিসে। শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার পরই তিনি আবেদনকারীদের নানা উপায়ে পাঠিয়ে দেন অফিস সহকারী তুষারের কাছে। সেখানে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা দিলেই কেবল এমপিওর জন্য আবেদন উপপরিচালক অফিসে পাঠানো হয়।

শুধু এমপিওই নয়, কালিয়ার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত কম্পিউটার শিক্ষকের বেতন উত্তোলন, বরাশুলা ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আরিফের এমপিও বন্ধ চক্রান্ত, মালিয়াট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মালতি বালা পাঠকের এমপিও বন্ধসহ শিক্ষকদের নানা হয়রানির মুখে ফেলে অর্থ আদায় করেন শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়েদুর রহমান।
মালিয়াট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মালতি বালা পাঠক বলেন, সদর উপজেলা অফিস থেকে আমার এমপিও কাগজপত্র ছেড়ে দিলেও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়েদুর রহমান অনৈতিকভাবে আমার ওপর দায় চাপিয়ে আমার এমপিও বন্ধের হুমকি দিচ্ছেন।

নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম সাইয়েদুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আমি এমপিও দিয়ে থাকি। তবে শিক্ষকরা অস্থির হয়ে কিছু একটা করতে চায়, তারা কোথাও যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। আমার অগোচরে কেউ যদি আমাকে ভাঙ্গায় তাহলে আমার কি করার থাকতে পারে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]