ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

জেলার রাজনীতি : সিলেট মহানগর
সম্মেলনের অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনে গরজ নেই বিএনপির
মনোয়ার জাহান চৌধুরী সিলেট
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.১১.২০১৯ ১:২৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 482

সম্মেলনের অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ

সম্মেলনের অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সিলেটে এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত। দলটি সিলেটে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজলায় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বও তৈরি করে নিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনও খুব কাছাকাছি। আর মহানগর শাখার সম্মেলনের দিনক্ষণও ইতোমধ্যে ঠিক করা হয়ে গেছে। এ লক্ষ্য নিয়েই এখন কাজ করছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ। আগামী ৪ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা সিলেট মহানগর বিএনপির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনে কোনো গরজ নেই। কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি আজও। অনেকটা ঢিমেগতিতেই চলছে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। আর জাপা সিলেটে হ য ব র ল। দলটি সিলেট মহানগরে নিজেদের অস্তিত্বের কথাও জানান দিতে পারেনি। প্রধান বিরোধীদল জাপা সিলেট মহানগরে সংগঠিত হতে পারেনি।

মহানগর আওয়ামী লীগ : আগামী ৪ ডিসেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। ওই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ডেলিগেটরা গোপন ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বেছে নেবেন। শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইতোমধ্যে আলোচনায় আছেন ডজনখানের নেতা। তবে ব্যতিক্রম হবে সভাপতি পদে। এ পদে একমাত্র বর্তমান সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নামই শুধু শোনা যায়। এ পদে কেউ তার প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন নাÑ এমন তথ্য পাওয়া গেছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে।
কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদসহ আরও আট নেতার নাম আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তারা নিজেরাও এ পদে প্রার্থী হওয়ার আভাস দিয়েছেন। তারা হলেনÑ ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার, জাকির হোসেন, বিজিৎ চৌধুরী, তপন মিত্র, জগদীশ চন্দ্র দাস, এটিএম হাসান জেবুল, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও আজাদুর রহমান আজাদ।

প্রসঙ্গত, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছিল ২০০৪ সালে। এরপর ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই গঠিত হয় কমিটি। তিন বছর মেয়াদি সে কমিটি ইতোমধ্যে পার করে দিয়েছে আট বছর।
মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র সময়ের আলোকে বলেন, ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সব কটিতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মহানগর বিএনপি : ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে নির্বাচিত হন নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক পদে বদরুজ্জামান সেলিম। এরপর গঠন করা হয় ‘ঢাউস’ কমিটি। কিন্তু এ কমিটি রাজপথের আন্দোলনে খুব একটা ‘খেই’ তুলতে পারেনি। অনেকটা ‘বিবৃতি’ নির্ভর হয়ে পড়ছিলেন মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ আর কোন্দল দানা বাঁধতে শুরু করে। সাংগঠনিকভাবে সিলেটে দুর্বল হয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি সিলেট মহানগর শাখা।
২ অক্টোবর দলের মহাসচিব সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে ২৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। এ কমিটির অনুমোদনের পর সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতা থেকে তৃণমূলের কর্মীরাও গা ঝাড়া দিয়ে ওঠেন। কিন্তু মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও মহানগর বিএনপিতে নতুন করে কমিটি আসার কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। কবে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে তা জানেন না দলের শীর্ষ কোনো নেতাও।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের কমিটির তো মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোনো ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাইনি আমরা। তবে আমরা আশাবাদী যেহেতু কমিটি মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে তাই একটু সময়ক্ষেপণ হলেও কমিটি আসবে।

সিলেট মহানগর জাপা : আর জাপা সিলেটে হ য ব র ল। মহানগর জাতীয় পার্টির (জাপা) কোনো কমিটি নেই ছয় বছর ধরে। ছয় বছর আগে আবদুল হাই কাইয়ূমকে আহ্বায়ক ও ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়াকে জাপার সদস্য সচিব করে সম্মেলন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সময়মতো সম্মেলন করতে পারেননি। এ কারণে দলটি সিলেট মহানগরে নিজেদের অস্তিত্বের কথাও জানান দিতে পারেনি। প্রধান বিরোধীদল জাপা সিলেট মহানগরে সংগঠিত হতে পারেনি। দলের নেতাকর্মীদের মাঝে আস্থাহীনতার কারণেই হ য ব র ল অবস্থায় পড়েছে সিলেট জাপা। দলটি সিলেট মহানগরে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারেনি। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে মহানগরে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে পারেনি। দলীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় ক্রমশই রাজনীতির মাঠে জৌলুস হারাচ্ছে দলটি।

সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস শহীদ লস্কর বশির সময়ের আলোকে বলেন, ২ নভেম্বর সিলেট এসেছিলেন জাপার কেন্দ্রীয় নেতা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি সিলেট বিভাগ জাপার আহ্বায়ক। ওই দিন তিনি সিলেটে জেলা ও মহানগর জাপার নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেসব বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দলের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে হবে। এর ওপর ভিত্তি করেই মহানগর জাপার পরবর্তী কমিটি আসবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]