ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

শৈলশহর শিলংয়ে রবীন্দ্রনাথ
লুৎফর চৌধুরী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কখনও এক জায়গায় স্থির থাকতে পারতেন না। শান্তিনিকেতন স্কুলের ছুটির ঘণ্টা বাজলেই বেরিয়ে পড়তেন সব বেঁধেছেদে। বিশেষ করে ভারতবর্ষের পাহাড়ি এলাকাগুলো তাকে সারা বছরই হাতছানি দিত। ১৯১৯, ১৯২৩ ও ১৯২৭ সালে মোট তিনবার তিনি শিলং গিয়েছেন। ব্রিটিশ-ভারতে শিলং আসামেরই অংশ ছিল। পরে আসাম থেকে মেঘালয় মহকুমা আলাদা হয়ে নতুন রাজ্যের জন্ম হয়। শিলং সেই মেঘালয়ের রাজধানী। শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ সীমান্ত বরাবর নয়নাভিরাম শৈলশ্রেণিই মেঘালয়। মেঘালয় পাহাড়ে মেঘের আনাগোনা যে একটু বেশিই সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
শিলংয়ের মানুষ, পাহাড়ি উপত্যকা, বৃক্ষ লতা গুল্ম, মাটি, আকাশ আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি কবিকে স্পর্শ করেছিল দারুণভাবে। তাই তিনি বারবার শিলং গেছেন।
১৯১৯ সালে তিনি প্রথমবার যান শিলংয়ে। উঠেছিলেন শিলংয়ের ব্রুকসাইড বাড়িতে। ছিলেন তিন সপ্তাহ। কিন্তু বোলপুর থেকে শিলং যেতে যেতে দুপাশের আকর্ষণীয় প্রকৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকারভাবে তার লেখনীতে। ব্রুকসাইড একটি ভাড়াবাড়ি। মালিক কিরণচন্দ্র দে। চট্টগ্রাম ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার। এটি একটি দ্বীপের মতো। প্রায় ত্রিশ ফুট নিচে জল গড়িয়ে পড়ছে সশব্দে। চারদিকে কী বিচিত্র প্রকৃতি!
১৯৬১ সালে রবীন্দ্রশতবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ শিলংয়ে যে তিনটি বাড়িতে ছিলেন, সবগুলোতে স্মৃতিফলক স্থাপিত হয়। ব্রুকসাইডের বাড়ির স্মৃতিফলক :
বিপদে মোরে রক্ষা কর
এ নহে মোর প্রার্থনা।
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
বাঁদিকের পিলারে লেখা :    
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তার তৃণ সমদহে।
এখানে বসেই তিনি ছোট মেয়ের অনুরোধে লেখেন শিলংয়ের চিঠি। জিৎভূমি বাড়িটি ছিল কবির ভাইঝি মনীষাদেবীর। এখানে তিনি ছিলেন ১৯২৩ সালের মে, জুন ও জুলাই। কাঠের রেলিঙঘেরা ছোট পাহাড়ের ওপর চমৎকার একটি বাড়ি। বাড়ির বারান্দা, প্রলম্বিত টিনশেড দেখতে ভারি সুন্দর। সামনে বিরাট অঙ্গন। দেয়ালের পাশে নানা জাতের ফুলের গাছ। প্রবেশ দরজার দুপাশে দুটি জাপানি চেরিগাছ। প্রায় শত বছরের আগের গাছ দুটো বেশ মোটাসোটা এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এখনও। কবি এখানে বসেই লেখেন রক্তকরবী নাটক। জিৎভূমির স্মৃতিফলকে লেখা :
এসো হে আর্য, এসো অনার্য
হিন্দু মুসলমান
এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ
এসো এসো খৃষ্টান।
১৯২৭ সালে কবি সর্বশেষ এসেছিলেন শিলংয়ে। উঠেছিলেন সীডলী হাউসে। এবার এসেছিলেন সপরিবারে। আম্বালাল সারাভাই রবীন্দ্রনাথকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
কবি এখানে বসেই লেখেন ‘যোগাযোগ’ উপন্যাস। স্থানীয় কুইনটন হলে একদিন ‘চিরকুমার সভা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। টিকেটের মূল্য পাঁচ টাকা, তারপরও হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। পাশেই ছিল আসাম বেঙ্গল থিয়েটার আর ইন্ডিয়া ক্লাব।
কবি একদিন খাসিয়াদের নাচের অনুষ্ঠানও দেখতে যান। সামাজিক কারণে ময়ূরভঞ্জের রানীর সঙ্গে দেখা করতে যান। এর বাইরে তিনি বিশেষ কোথাও যাননি সেবার। তার শরীর ভালো যাচ্ছিল না।
তিনি শান্তিনিকেতনে ক্ষিতিমোহন সেনকে লেখেন, এখানে হাওয়া বদল হয়েছে কিন্তু তার শুভ ফল এখনো পাইনি। আমি অসুস্থ হয়েছিলুম এখন পুপের অসুখ চলছে। শিলংবাসীর ইচ্ছে করছে আপনি এখানে আসুন, আমারও সেই ইচ্ছে যোগ করি।
কবি চিঠিতে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা বলেছিলেন ঠিকই কিন্তু শিলং তার ভালো লেগেছে এর কারণ তিনি শ্রী ক্ষিতিমোহন সেনকে শিলংয়ে আসবার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
ষ শিশুসাহিত্যিক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]