ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

সব দায় নিলেন মুমিনুল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

প্রথমবার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় দলকে, কিন্তু মুমিনুল হক নেতৃত্বের রোমাঞ্চটা উপভোগ করতে পারছেন কই? প্রথম দিনেই টাইগারদের টেস্ট দলপতি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বাস্তবতা। মাঠে ভারতের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিচ্ছে তার দল, দিচ্ছেন মুমিনুলও। তবে শুধু মাঠে নয়, পরীক্ষাটা দিতে হচ্ছে মাঠের বাইরে সংবাদ সম্মেলনেও। তীর্যক সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে তাকে। সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই করলেন অসহায় আত্মসমর্পণ, ঠিক যেভাবে ভারতের বোলারদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে টাইগার ব্যাটসম্যানরা।
ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামের উইকেটে ঘাস ছিল। কন্ডিশন ছিল পেসারদের পক্ষে। প্রতিপক্ষ শিবির একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার নিয়ে। এসব কিছু জানার পরও টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত কেন? উইকেট কি আনপ্লেয়েবল ছিল, যদি তাই হয় এই উইকেটেও তিন পেসার খেলানোর সাহস দেখাল না কেন বাংলাদেশ?
নেতৃত্বের অভিষেকের দিনেই সংবাদ সম্মেলনে এমন সব কঠিন প্রশ্ন বাউন্সারের মতো ফণা তুলে তেড়ে গেছে মুমিনুলের দিকে। ওইসব বাউন্সারে পুল বা হুক শট খেলার দুঃসাহস দেখাননি তিনি। ডাক করে গেছেন। সতীর্থদের ব্যর্থতা আড়াল করে সব দায় নিয়েছেন নিজের কাঁধে।
এমন উইকেটেও টস জিতে মুমিনুলের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তকে সকালেই ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ বলে দিলেন সুনীল গাভাস্কার। আরও অনেকের কণ্ঠেই শোনা গেল সাহসী সিদ্ধান্তের কথাটা। আসলেই কি তাই? সে না হয় মানা গেল। আসল কথা হচ্ছে, সিদ্ধান্তটা কি সঠিক ছিল? নিজের ব্যাখ্যায় মুমিনুল বললেন, ‘টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর দল এমন খেললে আমার মনে হয়, প্রশ্নটা উঠতেই পারে। আমরা কম রানে অলআউট হওয়াতে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হচ্ছে, সিদ্ধান্তটা বাজে ছিল। আর এটাকে আমি নিজের ভুল মনে করছি।’
শুরু থেকেই এদিন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে নড়বড়ে দেখিয়েছে। টাইগারদের টেস্ট অধিনায়কের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে ব্যাটসম্যানদের এত ভীত দেখাল কেন? জবাবে মুমিনুল বললেন, ‘উইকেট আনপ্লেয়েবল ছিল না। টেস্টে তারা এক নম্বর দল। তাদের সঙ্গে খেলতে হলে আমাদের অনেক বেশি শক্ত হতে হবে। আমার কাছে মনে হয় এ জায়গায় একটু পিছিয়ে গিয়েছিলাম। আনপ্লেয়েবল হলে হয়তো অনেকে চোটে পড়ত, বল এখানে-ওখানে লাগত। যে রান করেছি, মুশফিক ভাই যতটুকু রান পেয়েছে সেটা করতে পারত না।’
৩১ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা ভালোভাবেই সামাল দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সময়ে রবিচন্দ্রন অশি^নের একটি বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়ে যান মুমিনুল। সফরকারীরা শেষ ৭ উইকেট হারায় ৫১ রানে। হলকার স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে দলের ১৫০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পেছনে ভুল সময়ে নিজের আউটকে দায় দিচ্ছেন অধিনায়ক, ‘আমার মনে হয়, পরে আমরা ভালো অ্যাটাক করে গেছি। আমি আর মুশফিক ভাই খুব ভালো অ্যাটাক করেছি। তারপর লিটন অ্যাটাক করেছে। তাই পুরো ইনিংসে হয়তো আমার ভুল ছিল, আমি যদি ওই সময়ে আউট না হতাম, হয়তো একটু বড় ইনিংস খেলতে পারতাম। ভালো একটা সংগ্রহ হতো শেষে।’
অশি^নের সøাইডার বুঝতে না পেরে ছেড়েছিলেন। কি ভেবে ছেড়েছিলেন, আউটের পর উপলব্ধি কি ছিল, বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে চাইলেন না মুমিনুল। শুধু বললেন, ‘আমার দিক থেকে একটা ট্যাকটিক্যাল ভুল ছিল। যার কারণে আউট হয়ে গেছি।’ মুমিনুল ব্যাখ্যা করেছেন তিন পেসার নিয়ে একাদশ না সাজানোর বিষয়টিও, ‘আমরা সবসময় কিন্তু ব্যাটিংয়ে একটু বেশি মনোযোগ দেই। যার কারণে হয়তো দুইটা পেস বোলার।’
সেই পেসাররা খুব ভালো করেছেন, সেটা বলা যাবে না। প্রথম দিনে ভালো করতে পারেননি গোটা বোলিং বিভাগই। যে উইকেটে নাস্তানাবুদ হয়েছে টাইগার ব্যাটসম্যানরা সেখানেই ভারতীয়রা নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে শুরু করেছেন। দিন শেষে ভারত ১ উইকেটে করেছে ৮৬ রান। একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন পেসার আবু জায়েদ। ইবাদত হোসেন উইকেটশূন্য। এই দুই পেসারের ওপর বেশি প্রত্যাশার ভার চাপাতে রাজি নন মুমিনুল, ‘যে দুজন পেসার এই ম্যাচে খেলছে তারা খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। বেশি হলে, ৫-৬টা। আমার মনে হয়, খুব বেশি প্রত্যাশা করা যাবে না। সবে শুরু করেছে, ওদের একটু সময় লাগবে।’
টিম বাংলাদেশ যেন ধরেই নিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে পারা যাবে না! তাদের কাছে পড়ে পড়ে মারই খেতে হবে! এ ক্ষেত্রে অবশ্য সংবাদমাধ্যমের দায় দেখছেন মুমিনুল। তিনি বিষয়টা ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘তারা মানসিকভাবে তৈরি হয়ে নেমেছে। যদি বলি আপনাদের কাছে হয়তো হাস্যকর লাগবে। আমরা যখন কোনো সিরিজ খেলতে নামি আপনাদের (সংবাদমাধ্যম) একটা বড় ভূমিকা থাকে। কথাটা হয়তো আমার বিপক্ষে যেতে পারে। আপনারা কিছু মনে করবেন না প্লিজ। এমনভাবে সব প্রশ্ন করেনÑ যেমন ধরুন রশিদ খান আছে, সেটা বারবার মনে করিয়ে দিতে থাকেন। আপনি যতই সেটা (রশিদের বিষয়টা) চিন্তা না করতে চান, আপনাকে ভাবিয়ে তুলবেই।’





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]