ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

হেমন্ত ঋতু
মিনহাজ উদ্দীন শরীফ
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

মামার অফিস বেশ কয়েক দিনের জন্য বন্ধ। মা মামাকে আমাদের বাসায় আসার জন্য কতদিন ফোন করেছে। মামা শুধু বলে আসব। কিন্ত আসে না। হঠাৎ করে একদিন মামা আসল। তখন ছিল বঙ্গে হেমন্তকাল। হেমন্তের আমেজে বাংলার মাঠঘাট নবরূপে সেজেছিল। ক্ষেতে ক্ষেতে সোনালি ধানের বাহারি নাচ দেখে পল্লীজননী হাসে। বাউলেরা বাউল গান গেয়ে চলে আপন মনে। এমন দৃশ্য দেখে মন ভরে যায়। শস্যক্ষেতে প্রজাপতি ও ভ্রমরা মনের আনন্দে সকাল-দুপুর হেসেখেলে বেড়ায়। শহরে এমন চোখ জুড়ানো দৃশ্য নেই বললেই চললে।
প্রহ্লাদ এবার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং তৃষ্ণা প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তারা দুজন ক্রিম জাতীয় চকলেট খেতে বেশ পছন্দ করে। মামা সেটা অনেক আগেই জানত তাই অন্য কিছু না কিনে একটা ব্যাগ ভরে ক্রিম জাতীয় চকলেট কিনে আনল। মামা বাসায় প্রবেশ করেই প্রহ্লাদ আর তৃষ্ণাকে ডাক দিল। দুই ভাইবোন মামার কণ্ঠ শুনেই ঘোড়ার মতো টগবগিয়ে দরজায় হাজির হলো। মামা দুজনকে বুকে জড়িয়ে চুমু দিয়ে চকলেট ভর্তি ব্যাগটা দুজনের হাতে দিল। মামা মাকে ডাক দিল, দিদিমণি কোথায় তুমি! আমি এসে পড়েছি। মা রান্নাঘর থেকে জবাব দিল, আজিজ তুমি বসো। আমি হাতের কাজটা শেষ করে আসছি ভাই আমার।
মামা বলল, ঠিক আছে দিদিমণি। মামা জানালার কাছে গিয়ে বসল। জানালা দিয়ে চেয়ে দেখে সোনালি ধানগুলো হালকা বাতাসে হেলেদুলে নৃত্য করছে। মামা অবাক নয়নে চেয়ে দেখছে। কৃষকেরা দলে দলে কাঁচি দিয়ে ধান কাটছে। সেই ধান মাথায় করে উঠোনে এনে রাখছে। আরেকদল গরু ও মহিষ দিয়ে ধান মাড়াই করছে। মহিলারা সেই ধান সিদ্ধ করছে। পাখপাখালির মধুর ধ্বনিতে হেমন্ত ঋতুটা প্রাণ ফিরে পায় এমন মনে হচ্ছিল। হঠাৎ প্রহ্লাদ এসে বলল, মামা, অমন করে কী দেখছ? মামা বলে, কিছু না বাবা। তুমি কখন এলে? প্রহ্লাদ বলে, এই মাত্র এলাম মামা। তৃষ্ণা এসে বলে, মামা, অনেকদিন তোমার কাছে গল্প শুনি না, আজ তোমাকে গল্প বলতেই হবে। নইলে আমি আর তোমাদের বাড়িতে মাকে যেতে দেব না। প্রহ্লাদও তৃষ্ণার কথায় সায় দিয়ে বলে, মামা একটা গল্প শোনাও। মামা বলল, ঠিক আছে। আজ তাহলে অন্যরকম একটা গল্প শোনাব তোমাদের।
মামা কিছুক্ষণ ভেবে বলল, চিরসবুজের দেশ বাংলাদেশ, সেটা তো তোমরা জানোই। তৃষ্ণা না জানলেও প্রহ্লাদ বোধহয় ঠিক জানে। মামা প্রহ্লাদকে জিজ্ঞেস করল, কী বাবা তুমি জানো তো? সে বলে, জি মামা, আমি জানি। মামা নিশ্বাস না ফেলে একদমে বলে, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্রÑ এই বারো মাসে এক বছর সেটাও তো জানো। এখন মূল বক্তব্যে যাই। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্তÑ এই ছয় ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। আবার প্রত্যেকটা ঋতু দুটো মাস নিজের দখলে রেখেছে। যেমন, কয়েকদিন আগে শরৎকাল ছিল ভাদ্র-আশ্বিন মাসব্যাপী পর্যন্ত। বর্তমানে চলছে হেমন্তকাল। এভাবে এদেশে ছয়টি ঋতু বিরাজ করে।
মামার গল্প বলা শেষ হতে না হতেই মা নুডলস নিয়ে রুমে এলো। মামার পছন্দের খাবার নুডুলস। সেটা মা ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছে। তাই মামাকে না জানিয়েই নুডলস বানিয়ে নিয়ে এলো।
মামা নুডলসের ঘ্রাণ পেয়ে গল্পের সমাপ্তি দিয়ে দেয়। তারপর বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে একবাটি নিজের হাতে নিয়ে নিল। মা নুডলসের বাটি প্রহ্লাদ ও তৃষ্ণার হাতে হাতে দিয়ে বসল মামার পাশে। মামা ডান বাম না দেখে চুপচাপ নুডলস সাবাড় করে। তারপর মাকে জিগ্যেস করল, কেমন আছ দিদিমণি? মা বলে, এখন মনে হয়েছে দিদির কথা? মামা বলে, রাগ করো কেন? জানোই তো, নুডলস পেলে আমি সবকিছু ভুলে যাই। মা বলে, জানি রে বোকা। মামা বলে, জানো দিদি তোমাদের গ্রামটা বেশ ভালো লাগে। বিশেষ করে হেমন্তকালে। মা বলে, বেশ তো তাহলে হেমন্তকাল অবধি থেকে যা। মামা বলে, তা কি হয়? দুদিনের মধ্যেই ঢাকায় ফিরতে হবে। মামা দুদিনের অতিথি হয়ে গ্রামে এসে হেমন্তের ছোঁয়া নিয়ে ঢাকা ফিরে যায়। মামার মনের আশা মনেই থেকে যায়। হেমন্তকালের স্বাদটা গ্রামে থেকে উপভোগ করতে পারে না।

দশম শ্রেণি, জলসুখা কৃষ্ণ গোবিন্দ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, আজমিরিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]