ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে আর চিন্তা নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৭.১১.২০১৯ ১:০৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 97

পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে আর চিন্তা নেই

পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে আর চিন্তা নেই

পেঁয়াজের দাম কেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে সেটা খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রায় সব দেশেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে এটা ঠিক। আমাদের দেশে কেন এত অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে জানি না। কাজেই আমি ব্যবস্থা নিয়েছি বিমানের কার্গোতে আমরা পেঁয়াজ নিয়ে আসছি। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো চক্রান্ত জড়িত কিনা তাও দেখছি।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন কমে বা বাড়ে। যারা মজুদ করে দাম বাড়াতে চায় তাদের মনে রাখতে হবে পেঁয়াজ পচেও যায়। দাম বৃদ্ধির পেছনের মূল কারণ খুঁজে বের করত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মূল কারণ না জেনে বিভিন্ন গুজবও ছড়ানো হয়। তিনি বলেন, আমরা যেখান থেকে কিনছি সেখান থেকে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। তবে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে। কাজেই চিন্তা নাই। দুয়েক দিনের মধ্যেই কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছবে।

দেশে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, সব দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশে কেন কী কারণে এতটা অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে আমি ঠিক জানি না। আমরা দেখতে চাই এই ধরনের চক্রান্তের সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না। স্বাভাবিকভাবে আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় অনেক পণ্যের উৎপাদন বাড়ে বা উৎপাদন কমে। যেহেতু পেঁয়াজটা বেশি দিন রাখা যায় না। কেউ যদি এখন দাম বাড়িয়ে দু পয়সা কামাতে চান, তাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, পেঁয়াজ তো পচেও যাবে। পচা পেঁয়াজও শুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাহলে এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া কেন?
শেখ হাসিনা বলেন, যতই আমরা এগিয়ে যাই, মানুষ যখন ভালো থাকে, একটা না একটা ইস্যু তৈরি করে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার একটা চেষ্টা শুরু হয়। সবাইকে অনুরোধ করব, এভাবে চেষ্টা না করে এর পেছনে কারণটা কী সেটা খতিয়ে দেখা। অবশ্য ইন্ডিয়াতেও পেঁয়াজের দাম অনেক। সেখানে তারা একশ রুপিতে প্রতিকেজি পেঁয়াজ কিনছে। শুধু একটা স্টেটে দাম কম। তারা তাদের পেঁয়াজ বাইরে যেতে দেয় না। সার্বিকভাবে সেখানেও দাম বেশি। আমরা যেখান থেকে কিনছি সেখান থেকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের আরও নির্মোহ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, একজন রাজনীতিকের জীবনে কী পেলাম না পেলাম সেটা বড় কথা না, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, মানুষকে দিতে পারলাম সেটাই বড় কথা। সেই চিন্তা নিয়ে রাজনীতি করলে সেই রাজনীতি কখনও ধ্বংস হয় না।

‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা এই দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দূর করতে চাই। এর বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেই অভিযান আমরা অব্যাহত রাখব। কারণ বাংলাদেশের মানুষের জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেই উন্নতি সম্ভব।
অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সৎ পথে নুন ভাত খাওয়া অনেক মর্যাদার, অনেক ভালো এ কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কেন দুর্নীতি করে চুরি করে টাকা বানাতে হবে, কেন? সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অসদুপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেইটা দিয়ে আবার বিলাসবহুল জীবনযাপন করা, ওটা দিয়ে ফুটানি করা এদেশের মানুষ বরদাশত করবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুন দুর্নীতি মানিলন্ডারিংয়ে ব্যস্ত খালেদা জিয়া ও তার দল যেন কোনো দিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে না পরে তার জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে। এরা আসা মানেই মানুষের দুর্ভোগ, এরা ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের শাসনকালে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে নেতাকর্মীদের এসব ভালো কাজ জনগণের কাছে প্রচার করার আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা বারবার জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে ক্ষমতায় আসছি। রাষ্ট্র পরিচালনা করে আজকের বাংলাদেশ। যেখানে বিএনপির আমলে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ ভাগ, আজকে আমরা কমিয়ে এনেছি ২১ ভাগে। আজকে মাথাপিছু আয় প্রায় দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি। প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগে উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আজকে বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিয়েছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সব ইউনিয়নে (৪৫০০) ব্রডব্যান্ড পৌঁছে যাবে। আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, আজকে দেশের সব মানুষ তার সুফল ভোগ করতে পারছে। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প শুরু করেছিলাম। এখন নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে আমার বাড়ি আমার খামার।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। দুই কোটি তিন লাখ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি, যাতে টাকার অভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত না হয়। বাংলাদেশে যে টাকায় উচ্চশিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তা পৃথিবীর কোনো দেশে দেওয়া হয় না। স্বাক্ষরতার হার ৭৩ ভাগে উন্নীত হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিনা পয়সায় ৩০ প্রকার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম ‘চক্রান্তের’ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন ভালো থাকে আমাদের দেশে কিছু কিছু ক্ষুদ্র মানুষ আছে তাদের আঁতে ঘা লাগে। কাজেই তারা সেখানে বারবার একটা বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করে, অপপ্রচার চালাতে চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ জনগণকে যে সেবা দিয়েছে তার খবর জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই গতিধারাটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখেন। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু বক্তব্য রাখেন।
সংগঠনের সহ-সভাপতি এবং সম্মেলন অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি স্বাগত বক্তৃতা করেন। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
বক্তৃতা পর্বের শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনের দফতর সম্পাদক সালেহ মো. টুটুল। এরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদ, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শহীদ এবং দেশের সব গণ-আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্মেলনে ১ হাজার ৯৭৫ জন কাউন্সিলর এবং প্রায় ১৮ হাজার ডেলিগেট অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রায় ১৫ হাজার।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]