ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

লজ্জার হার টাইগারদের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৭.১১.২০১৯ ১:০২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 40

লজ্জার হার টাইগারদের

লজ্জার হার টাইগারদের

আরও একবার নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে ব্যর্থ টাইগার ব্যাটসম্যানরা, তাতে তিন দিনেই যবনিকাপাত ইন্দোর টেস্টের। যে টেস্টে মুমিনুল হকের বাংলাদেশ পেয়েছে ইনিংস এবং ১৩০ রানের বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা, দুই টেস্টের সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে ১-০ ব্যবধানে।

ঘাসে ভরা উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দলপতি মুমিনুল, সেই সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত করে প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রানের পাহাড় গড়ে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ওখানেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, এই টেস্টের ভাগ্যে কী লেখা। এরপর দেখার অপেক্ষা ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে কতটা লড়াই করতে পারে টাইগাররা। খুব বেশি লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩৪৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা অতিথিরা গুটিয়ে গেছে ২১৩ রানে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইবাদত হোসেন যখন আউট হলেন, তখনও দিনের খেলা ১৯.৪ ওভার বাকি! অর্থাৎ পুরোপুরি তিনটা দিনও মাঠে থাকতে পারেনি বাংলাদেশ। দায়টা ব্যাটসম্যানদের। ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামের যে উইকেটে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা, সেই উইকেটেই তারা আত্মসমর্পণ করেছেন।

এক মুশফিকুর রহিম ছাড়া বাকি ব্যাটস্যানদের কেউই নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। আগের দিনের স্কোরটাকে যথেষ্ট মনে করে ভারতীয়রা শনিবার তৃতীয় দিনে আর ব্যাটিংয়ে না নামায় সকালেই দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসের মতো সেই শুরুটা হলো দুঃস্বপ্নের মতো। দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস আর সাদমান ইসলাম এবারও আটকা রইলেন ৬ রানের বৃত্তে। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও ইশান্ত শর্মার শিকার সাদমান, উমেশ যাদবের ইমরুল।
অধিনায়ক মুমিনুলও ব্যর্থ, এই বাঁহাতিকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলে শিকার ধরা শুরু করেন আরেক পেসার মোহাম্মদ শামি। ৩১ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি। মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ আর তাইজুল ইসলামকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন তিনি। ১৮ রান করে ম্যাচসেরা মায়াঙ্কের হাতে ক্যাচ দেন মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ ১৫ রান করে ধরা পড়েন রোহিত শর্মার হাতে। তাতে ৭২ রানেই ৫ উইকেট খুইয়ে বসে বাংলাদেশ, তখন তাদের পরাজয়টা ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা।
এই টেস্টে বাংলাদেশ হারতে চলেছে, দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর অপেক্ষা ছিল সেই হারটা দেখারই। তবে অপেক্ষাটা যে তৃতীয় দিনেই ঘুচে যাবে, সেটা পরিষ্কার হয় দুই ওপেনারের পর মুমিনুল, মিঠুন আর মাহমুদউল্লাহর দ্রুত বিদায়ে। এরপর লিটন দাস আর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে লড়াই গড়ার চেষ্টা চালিয়েছেন মুশফিক। টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পথে লিটনকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৬২ রানের জুটি।
৩৯ বলে ৬টি চারে ৩৫ রান করা লিটনের ব্যাটে ছিল ভালো কিছুর ইঙ্গিত। সেই ইঙ্গিত মিলিয়ে গেল অশি^নের ঘূর্ণিতে। টাইগার কিপার ব্যাটসম্যান ৪২ রানে ৩ উইকেট নেওয়া ভারতীয় অফস্পিনারকে দেন ফিরতি ক্যাচ। এরপর ক্রিজে যাওয়া মিরাজও ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেন। মুশফিকের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়ার পথে ৫টি চার আর একটি ছক্কায় ৫৫ বলে করেন ৩৮ রান। উমেশের বলে তিনি যখন বোল্ড হন, দলের রান তখন ৭ উইকেটে ১৯৪।
৭টি চারের মারে ১৫০ বলে ৬৪ রান করা মুশফিক সেখান থেকে দলকে ২০৮ পর্যন্ত টেনে নেন তাইজুল ইসলামকে সঙ্গী করে। ৬ রান করা তাইজুল ফেরেন শামির বলে ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে। অশি^নের করা ঠিক পরের ওভারেই খেই হারান মুশফিক, চেতেশ^র পূজারার দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন সাজঘরে। এরপর ইবাদতকে উমেশের ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন অশি^ন। ৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, হারতে হয় ইনিংস ব্যবধানে। ওই হারের লজ্জা নিয়েই ইন্দোর থেকে কলকাতায় পাড়ি জমাবে মুমিনুলের দল। ২২ নভেম্বর সেখানেই হবে সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্ট, যে টেস্টটি হবে দিবা-রাত্রির।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]