ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ভৈরবে ৩ সন্তানের জননীকে নিয়ে পালালো কিশোর
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:১২ পিএম আপডেট: ২০.১১.২০১৯ ১২:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1362

ভৈরবে ৩ সন্তানের জননীকে নিয়ে পালালো কিশোর

ভৈরবে ৩ সন্তানের জননীকে নিয়ে পালালো কিশোর

ভৈরবে তিন সন্তানর জননীকে নিয়ে পালালো এক কিশোর। এ ঘটনায় দুই পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত নারীর নাম আবুনি বেগম (৩৬)। সে পৌর এলাকার কালীপুর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী পিয়ার মিয়ার স্ত্রী।

পিয়ার মিয়ার দাবী, তানভির গত বুধবার দুপুরে তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। পালানোর সময় তার ঘরে রাখা  লাখ টাকাসহ  শিশুপুত্র রিফাতকে  নিয়ে গেছে স্ত্রী।

অপরদিকে তানভিরের মা স্বপ্না বেগমের অভিযোগ, আমার ছেলে ৫ দিন যাবৎ নিখোঁজ। গত বুধবার পিঠা খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তানভিরের বাড়ীও আবুনির বাড়ীর পাশে এবং তার বাবার নাম খলিল মিয়া। তিনি প্রবাসে থাকেন বলে জানান তার মা। ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তার মায়ের দাবী।

এই ঘটনা নিয়ে গতকাল রোববার রাতে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে ভৈরব থানায় দুটি জিডি করা হয়। জিডি নাম্বার ৮৩৯ ও ৮৪০। বিষয়টি প্রকৃত পক্ষে প্রেমঘটিত ঘটনা বলে পুলিশ বুঝতে পারে। ছেলের বয়সী তানভিরের সাথে তিন সন্তানের ওই জননী প্রেম করে পালিয়ে গেছে কথাটি লজ্জায় পুলিশের কাছে বলতে পারছিলেন না নারীর স্বামী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পরে একথা স্বীকার করেন স্বামী পিয়ার মিয়া।

রোববার রাত সাড়ে ৮ টায় পালিয়ে যাওয়া আবুনি বেগমের স্বামী পিয়ার মিয়া ভৈরব থানায় তার জামাতা উজ্জল মিয়াকে নিয়ে উপস্থিত হন। এসময় তিনি পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)  বাহারুল খাঁন বাহারকে ঘটনাটি জানান।

তিনি অভিযোগে বলেন, তানভির আমার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। গত বুধবার বাসা থেকে সে লাখ টাকাসহ  আমার একমাত্র ছেলে রিফাত (১১) কে নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। আমি ঢাকায় ব্যবসার কারণে ঢাকায় থাকি। খবর পেয়ে আমি ঢাকা থেকে বাড়ীতে এসে আত্মীয়- স্বজনসহ  অনেক স্থানে খোঁজেও ৫ দিন যাবৎ তাকে পাচ্ছি না।

ঘটনার দুদিন পর আমার স্ত্রী এক অপরিচিতি মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে বলেছে, আমি তোমার সংসার করব না। বেশী বাড়াবাড়ি করবে না তুমি। একথা বলে ফোন কেটে দেয়। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই তার সাথে।

এসময় পুলিশ অফিসারকে বার বার অনুরোধ আর আকুতি করে স্বামী বলছিল- আবুনিকে না পেলেও ছেলেকে পেতে চাই আমি। একটি মাত্র ছেলে আমার। আপনারা আমার ছেলেকে উদ্ধার করে দিন।

পিয়ার মিয়ার  কথা শেষ হওয়ার পর পরই প্রেমিক তানভিরের মা স্বপ্না বেগম পুলিশ অফিসারের রুমে ঢুকে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এসময় তার মা পাল্টা অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে ৫ দিন যাবৎ খুঁজে পাচ্ছি না। কে বা কারা আমার ছেলেকে অপহরণ করেছে তার দাবী।

এসময় পুলিশ পরিদর্শক বাহারুল খাঁন বাহার তাকে বলেন, আপনার ছেলে প্রতিবেশী আবুনি বেগমকে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে স্বামী পিয়ার মিয়া অভিযোগ করেছে। এবিষয়ে তার মা কিছুই জানেন না বলে পুলিশকে জানান। স্বপ্না বেগম পুলিশের কাছে দাবী করেছে, আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছেলেকে খুঁজে বের করার দাবী জানান তিনি পুলিশের কাছে।

দুই পক্ষের অভিযোগ শুনে পুলিশ পরিদর্শক পড়ে যান বিপদে। বিব্রত পুলিশ অফিসার বাহারুল  উপায় না দেখে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  মো. শাহীনকে ফোনে ঘটনাটি জানান। এসময় কাজে ওসি থানার বাইরে ছিলেন। থানায় বসে স্বামী কাঁদছে স্ত্রীর আর ছেলের জন্য। অপরদিকে  মা কাঁদছে তার ছেলের জন্য। অবশেষে ওসির নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের দুটি জিডি নেয়া হয়। দুই পক্ষই জিডিতে উল্লেখ করেছে তারা নিখোঁজ হয়েছে।

ঘটনাটি উভয় পক্ষের অভিযোগ শুনে পুলিশ ধারণা করছে প্রেমঘটিত ঘটনায় তারা স্বেচ্ছায় পালিয়েছে। মায়ের বয়সী আবুনি বেগমের সাথে তানভিরের প্রেম হয়ে শারীরিক সম্পর্ক ছিল কিনা সন্দেহ করছে পুলিশ।

ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাহারুল খাঁন বাহার জানান, চাকরি জীবনে আমি এমন ঘটনার সম্মুখীন হইনি। নতুন অভিজ্ঞতায় ওসির পরামর্শে ব্যবস্থা নিলাম। জিডি করেছে দুই পরিবারের পক্ষের অভিভাবক। এখন দেখি পুলিশের চেষ্টায় দুজনকে উদ্ধার করতে পারি কিনা। দুজনকে পাওয়া গেলে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানান তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]