ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

মুচকি হাসি মুমিনের সৌন্দর্য
মাওলানা দৌলত আলী খান
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২১.১১.২০১৯ ১১:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 61

হাসি মানব চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য। মানুষের অন্তরের অভ্যন্তরীণ উৎফুল্লতা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম। নিজের মুখের হাসি অপরের জন্যও আনন্দ বয়ে আনে। হাসি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের দুঃখের বোঝা হালকা করতে সহায়ক ভ‚মিকা রাখে। কারণ, হাসি অন্তরের চাপা ব্যথা দূরীভ‚ত করে। রাসুল (সা.)-এর অনুপম আদর্শের মধ্যে একটি মহৎ আদর্শ হলো তিনি হাজার দুঃখের মাঝেও হাসতেন। তবে তিনি মুচকি হাসতেন। অট্টহাসি দিতেন না কখনও। অট্টহাসি অভদ্রতা ও অহংকারের পরিচায়ক। আর হাসি একটি ইবাদতও। হাসি যদি সুন্নত তরিকায় হয় তাহলে তা অবশ্য ইবাদতে গণ্য হবে। এ ছাড়াও মুচকি হাসি পারস্পরিক হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিপূরক। মুচকি হাসি মুমিন বান্দার সৌন্দর্য প্রদর্শন করে।
হাসি দৈহিক স্বচ্ছন্দতার মহা লক্ষণ। তবে এর মানে সারাক্ষণ কেবল হাসাহাসি নয়। কারণ, হাসির বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। আবার প্রত্যেক শ্রেণির হাসি ইসলামের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় নয়। তাই হাসার সময় ইসলামের বেঁধে দেওয়া সীমাবদ্ধতার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। তাহলে মুমিনের হাসি আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম ও কারণ হবে। সাধারণত হাসি তিন প্রকার। ১. তাবাসসুমÑ মৃদু বা মুচকি হাসি। এ হাসিতে শব্দ হয় না। নবী করিম (সা.) সদাসর্বদা মুচকি হাসতেন। এ হাসিই উম্মতের জন্য সুন্নত। ২. জিহকÑ এ হাসিতে দাঁত দেখা যায় ও শব্দ হয়। এ প্রকারের হাসিতে অনেক সময় ব্যক্তির ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ হয় এবং নামাজ ভেঙে যায়। ৩. কাহকাহাÑ এ হাসি হলো অট্টহাসি। এটি নির্লজ্জ লোকদের হাসি এবং এতে চেহারার
আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। তাই অট্টহাসি নিষিদ্ধ। কারণ, এতে অন্তর মরে যায়। এ ছাড়াও নামাজে অট্টহাসলে ওজু ও নামাজ উভয়টি নষ্ট হয়ে যায়।
সুতরাং মুসলিম উম্মাহর স্বীয় চেহারায় মুচকি হাসির উপস্থিতিই হলো ভদ্রতা ও কোমলতার সেরা নিদর্শন। মুচকি হাসির মধ্যে দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের সমন্বয় রক্ষা হয়। তাই মুসলমানদের মুচকি হাসতে অভ্যস্ত হওয়া উচিত।
নবীজি (সা.) মুচকি হাসতেন। হাদিসে আছেÑ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারেস ইবনে জায (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.) অপেক্ষা অধিক মুচকি হাসিতে কাউকে দেখিনি।’ (তিরমিজি : ৪০০২)। অন্য হাদিসে আছে, হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ আল বাজালি (রা.) বলেন, ‘আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তখন থেকে নবী করিম (সা.) আমাকে তার কাছে আসতে বাধা প্রদান করেননি। আর তিনি যখনই আমাকে দেখতেন, মৃদুভাবে মুচকি হাসতেন।’ (বোখারি : ৬১৫৬)





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]