ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার
চলতি সপ্তাহে অচল ক্যাম্পাস সচল হতে পারে
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১১.২০১৯ ১:১২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 55

বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার

বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১) নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পর থেকে প্রথমে ক্যাম্পাসে আন্দোলন ও পরে একাডেমিক অসহযোগে রয়েছেন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে বুয়েট কার্যত অচল রয়েছে। মনুষ্যত্বকে নাড়িয়ে দেওয়া আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় ছয়জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনটি দাবি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন। সেই দাবিগুলোর একটি ছিল অভিযোগপত্রে নাম আসা ছাত্রদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা। 

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের পরিচালক ও বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের সদস্য সচিব অধ্যাপক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যে ২৬ ছাত্রকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জন আবরার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রের আসামি। ওই ২৬ জনের বাইরে আরও ছয়জনকে বিশ^বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েটের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যেসব শিক্ষার্থীকে বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে, তারা হলোÑ বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭তম ব্যাচ), এএসএম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬তম ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল) এবং মোর্শেদ-উজ জামান মণ্ডল।
এদের মধ্যে আশিকুল ইসলাম বিটু ছাড়া বাকি সবার নাম পুলিশের অভিযোগপত্রে রয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ছয়জন হলোÑ বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ছাত্র আবু নওশাদ সাকিব, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ গালিব, মো. শাওন মিয়া, সাখাওয়াত ইকবাল অভি ও মো. ইসমাইল। আবরার হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থাকাসহ কয়েকটি অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
আবরার হত্যায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, অভিযুক্তদের বহিষ্কারের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তারা পরে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাবেন। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও সোচ্চার হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
আবরার হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটে যা আছে : আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। চার্জশিটে বলা হয়েছে, আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১১ জন সরাসরি সম্পৃক্ত এবং বাকিরা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। গ্রেফতারদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, আবরার থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ১০১১ নম্বর কক্ষে। এটি হলের নিচতলায় অবস্থিত। একই কক্ষে থাকতেন ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমানের নাম মামলার এজাহারে ছিল না। তদন্তে জানা যায়, আবরার হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও সূচনাকারী হিসেবে চিহ্নিত মিজানুর রহমান। ৪ অক্টোবরের আগে মিজানুর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে বলে, ‘আবরারকে তার শিবির বলে সন্দেহ হয়।’
মিজানুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেহেদি হাসান ওরফে রবিন বিষয়টি শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের নিজস্ব ফেসবুক মেসেঞ্জারে জানায়। ৪ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনে মেহেদি হাসান ওরফে রবিন এবং ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্নার নেতৃত্বে অমিত সাহা, ইফতি মোশাররফ সকাল, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনির, মিফতাহুল ইসলাম জীয়নসহ অন্য আসামিরা মিটিং করে। এ সময় আবরার তার কক্ষে আছেন কি না তা জানতে একাধিক সহযোগীকে পাঠিয়ে খোঁজ নেয়। কিন্তু আবরার সেদিন তার কক্ষে ছিলেন না। ছিলেন কুষ্টিয়ায়, নিজ বাড়িতে। পরদিন ৫ অক্টোবর মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে আসামি হোসেন মোহাম্মাদ তোহা, আকাশ হোসেন, মাজেদুর রহমান মাজেদ, মোয়াজ আবু হুরায়রাসহ সবাই গেস্টরুমে একত্রিত হয়ে মিটিং করে। সেই মিটিংয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করার সিদ্ধান্ত হয়।
৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুজতবা রাফিদ তার সহযোগী ইফতি মোশাররফ ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে জানায়, ‘সে বাড়ি যাবে। আবরারকে ধরলে আজই ধরতে হবে।’ তাদের মধ্যে যখন এই কথোপকথন চলছিল, এর কিছুক্ষণ পর হোসেন মোহাম্মদ তোহা ও শামসুল আরেফীন ইফতি মোশাররফসহ সবাইকে জানায়, আবরার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে এসেছে। এই খবর পাওয়ার পর সবাই ২০১১ নম্বর কক্ষে আবার একত্রিত হয়। রাত ৮টার দিকে মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ও ইফতি মোশাররফের নির্দেশে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি, এএসএম নাজমুস সাদাত আবুজার মিলে আবরারের কক্ষে যায়। আবরার তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তানিম ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে আবরারকে। সে আবরারকে বলে, ‘বড়ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ নম্বর রুমে যেতে হবে।’ কখন যেতে হবে, কেন যেতে হবে, জানতে চান আবরার। তানিম জানিয়ে দেয়, ‘গেলেই দেখতে পাবি।’
তখন আবরারের ল্যাপটপ, মোবাইলসহ তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায় তারা। ওই কক্ষে যাওয়ার পর তাবাখখারুল, ইফতি মোশাররফ ও মুজতবা রাফিদ চেক করতে থাকে আবরারের মোবাইল-ল্যাপটপ। একজন বলে, আবরারের মোবাইলে শিবিরের তথ্য পাওয়া গেছে, তখনই মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ক্ষিপ্ত হয়। আবরারকে তার চোখ থেকে চশমা খুলে ফেলতে নির্দেশ দেয়। আবরার চশমা খোলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন প্রচণ্ড জোরে তার মুখে কয়েকটি থাপ্পড় মারে। এরই মধ্যে মোরশেদ অমর্ত্য ইসলাম কাঠের তৈরি শক্ত ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসে। এরপর ইফতি মোশাররফ প্রথমে জোরে থাপ্পড় মারে আবরারকে। হাতে তুলে নেয় ক্রিকেট স্টাম্প। এরপর আবরারের পিঠে, পায়ে, হাতেসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকে। প্রচণ্ড মারধরের কারণে ক্রিকেট স্টাম্প দুই টুকরা হয়ে যায়। তখন এহতেশামুল রাব্বি ও তানিম আরও একটি ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসে। এরপর অনিক সরকার একটি স্টাম্প হাতে তুলে নেয়। অনিক একাধারে আবরারের সারা শরীরে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করে। এতে আবরার মেঝেতে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম ও শামিম বিল্লা স্কিপিং রোপ (মোটা দড়ি) দিয়ে আবরারকে দুই থেকে তিনটি আঘাত করে। আবরার ফাহাদ তখন বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তাতেও তার রক্ষা হয়নি। বরং মিফতাহুল ইসলাম ওরফে জীয়ন ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। বারবার জানতে চায়, আবরার শিবির করে কি না?
চার্জশিটে বলা হয়েছে, রাত তখন ১১টা। তখন ওই কক্ষে এসে হাজির হয় এসএম মাহমুদ ওরফে সেতু। আবরারের ব্যাপারে উপস্থিত অন্যদের কাছ থেকে সে জানতে চায়। তখন অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ ও মুজাহিদুল ইসলাম জানায়, ‘আবরার কোনো তথ্য দিচ্ছে না।’ তখন মাহমুদ ওরফে সেতু অন্যদের বলে যায়, ‘মারতে থাক।’ এমন নির্দেশনার পর আবরারকে আবার ক্রিকেট স্টাম্প, স্কিপিং রোপ দিয়ে মারা হয়।
আবার ইফতি মোশাররফ ও অনিক সরকার আববারকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটাতে থাকে। হাতের কনুই দিয়ে আবরারের পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করে। তখন সবাই মিলে প্রচণ্ড শক্তিতে আবরারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি চড়-থাপ্পড় লাথি মারতে থাকে। এরপর ওই কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে অনিক সরকার ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিন অন্যদের বলে যায়, ‘তোরা আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর।’ তখন মনিরুজ্জামান মনির বলে, সে আবরারের মোবাইল চেক করে শিবিরের তথ্য পেয়েছে। এরপর মনিরুজ্জামান ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে থাকে। তাবাখখারুল, নাজমুস সাদাত, এহতেশামুল রাব্বী ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারে। বাইরে থেকে আবার ওই কক্ষে ঢোকে অনিক সরকার। হাতে তুলে নেয় ক্রিকেট স্টাম্প। তখন অনিক সরকার আবার আবরারকে প্রচণ্ড জোরে আরও ৪০ থেকে ৫০টি আঘাত করে। তখন আবরার বমি ও প্রস্রাব করে ফেলেন। বাঁচার জন্য ইশারা-ইঙ্গিতে আকুতি-মিনতি করেন। এমন অবস্থায় আবরারকে হলের বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ধুয়ে মুছে আবরারের জামা কাপড় বদলানো হয়।
এরপর ইফতি মোশাররফ ও মেহেদী হাসানের নির্দেশে নাজমুস সাদাত, শামীম বিল্লাহ, শামসুল আরেফিন, আকাশ, মোয়াজ আবু হোরায়রা, মুনতাসির আল জেমি ও এহতেশামুল রাব্বি আবরারকে ধরাধরি করে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। ইফতি মোশাররফ হলের মেস বয় জাহিদ হাসানকে ডেকে আনে। ২০১১ নম্বর কক্ষটি তাকে দিয়ে পরিষ্কার করানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আবরারকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেওয়ার পর ইফতি মোশাররফ অন্যদের বলে, ‘তোরা এবার আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর। বুয়েটে কে কে শিবির করে।’ তখন মোয়াজ আবু হোরায়রা ও অমর্ত্য ইসলাম আবরারের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে মেহেদি হাসান ওরফে রবিনকে জানায়, ‘আবরারকে হাসপাতালে নিতে হবে।’ এই কথা শোনার পর মেহেদি হাসান ওরফে রবিন বলে, ‘ও নাটক করছে। শিবির চেনস না। শিবির চেনা কষ্ট।’ রাত আড়াইটার সময় ইফতি মোশাররফ, মুজাহিদ, তাবাখখারুল ও তোহা মিলে আবরারকে তোশকে করে হলের দোতলার সিঁড়িতে রাখে।
এরপর আসামিরা বুয়েটের চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনে। চিকিৎসক আবরারের দেহ পরীক্ষা করে ঘোষণা দেন তিনি মারা গেছেন। আবরারকে হত্যার পর ক্রিকেট স্টাম্প, তোশক, বালিশ, আবরারের ল্যাপটপ, চাপাতি হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদের কক্ষে নিয়ে রেখে দেওয়া হয়। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ওই হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে অপরাধ ঘটাতে সার্বিক সহায়তা করে। আবরারের মৃতদেহ হলের নিচে নামানোর পর তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল বুয়েটের চিকিৎসকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরস্পর যোগসাজশে পরস্পরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]