ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সময়ের আলো সাক্ষাৎকার
গণমুখী ও সেবাবান্ধব চিলমারী উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলতে চাই
তৌহিদ বকসী ঠান্ডা কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১১.২০১৯ ১:০৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 55

গণমুখী ও সেবাবান্ধব চিলমারী উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলতে চাই

গণমুখী ও সেবাবান্ধব চিলমারী উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলতে চাই

দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুড়িগ্রামের চিলমারীর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেছেন, আমি মাদকমুক্ত, আধুনিক, গণমুখী ও সেবাবান্ধব চিলমারী উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলতে চাই।

উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর উল্লেখযোগ্য কি কি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিলমারী উপজেলায় অষ্টমীরচর, থানারহাট (চিলমারী সদর), রমনা ও নয়ারহাট ইউনিয়ন ব্রহ্মপুত্র নদীভাঙনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ভাঙন রোধ করতে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। চিলমারী থেকে রানীগঞ্জ যেতে বকুলতলায় ব্রিজ নির্মাণ করেছি। চিলমারী ডিগ্রি কলেজ, কয়ারপাড় বীরবিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়, কয়ারপাড় বীরবিক্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়ারপাড় খালেদা শওকত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছি। এ ছাড়া পুরনো মসজিদ সংস্কার করার পাশাপাশি নতুন মসজিদও নির্মাণ করেছি। কবর স্থানও সংস্কার করা হয়েছে। আর রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো ছোট ছোট কালভার্ট নির্মাণ করেছি। এ ছাড়াও অনেক উন্নয়ন কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাল্যবিয়ে রোধ ও উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে ও মাদক সমাজের ব্যাধি। ইতোমধ্যেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে সামাজিক সচেনতা বৃদ্ধির জন্য অনেকগুলো সভা-সমাবেশের আয়োজন করেছি। এর পাশাপাশি সদর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সব কাজী ও ইমামদের নিয়ে সভা-সেমিনার করেছি। এ ছাড়াও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং আমার উপজেলাকে মাদকমুক্ত জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট বিলবোর্ড বিভিন্ন পয়েন্টে টাঙানো হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থানও সুদৃঢ়। আমার উপজেলা পরিষদে দুর্নীতির কোনো আশ্রয় নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে দুর্র্নীতি দূর করা ছাড়া কোনো গতি নেই।

তিনি বলেন, চিলমারী একটি নদীবিধৌত উপজেলা। এখানে মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে আমি গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য উপজেলা পরিষদে একটি তহবিল গড়ে তুলেছি। অবশ্য এ তহবিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ তহবিল থেকে প্রতিবছর ১৫০ জন দরিদ্র, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের অনুদান দেওয়া হয়। এ বছর অনুদান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিবছর আমি ব্যক্তিগতভাবে দুস্থ, হতদরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা দিয়ে থাকি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে শওকত আলী সরকার বলেন, উত্তরের অনগ্রসর এ উপজেলা যাতে দেশের অন্য দৃষ্টিনন্দন উপজেলাগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠতে পারে তা নিশ্চিত করতে চাই। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে চাই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে যাতে শহরের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায় সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। যেসব গ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধা নেই সেসব গ্রামে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, এ অবহেলিত জনপদে রয়েছে অন্তহীন সমস্যা। সব সমস্যা একেবারে সমাধান সম্ভব নয়। এ উপজেলায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করার পাশাপাশি রাস্তাঘাট সংস্কার করা, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা খুবই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকারি বরাদ্দের শতভাগই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে এ উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে চাই।

তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ১১ দফার স্বায়ত্বশাসনের আন্দোলন চলাকালীন আমি কুড়িগ্রাম সরকারি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করি। নিজেকে গুটিয়ে রাখতে না পেরে এ আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ি। ’৭০-এর নির্বাচন পরবর্তী স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি চলাকালীন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিষ্কার দিকনির্দেশনা ছিল। তিনি ঘরে ঘরে শক্রর মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন হ্যামিলনের সেই জাদুকর বংশীবাদকের মতো। তার কথাই আইন, তার ইশারাই নির্দেশ। তীর-ধনুক, কাচি আর কোদাল নিয়ে উন্মত্ত বাঙালি সে সময় রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে বসেছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে চিলমারীতে আমরা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করি। আর মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে চলে যাই রৌমারীতে যুদ্ধে অংশ নিতে। ১১নং সেক্টরের হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সদ্য স্বাধীন দেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চিলমারী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। ১৯৭৯ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। উল্লেখ্য, বর্ষীয়ান নেতা মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকার বীরক্রিম ১৯৮৫ সাল থেকে অধ্যাবধি চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।                                                                                                                                 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]