ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

শায়লা ও এলিয়েন বন্ধু
কৌশিক সূত্রধর
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শায়লা তার বান্ধবীর কাছ থেকে একটি এলিয়েন বিষয়ক গল্পের বই সাথে নিয়ে আসে। শায়লা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। এরই মধ্যে তার মাঝে ভিনগ্রহের প্রাণীদের প্রতি ভীষণ আগ্রহ দেখা যায়। সেদিন বিকেল বেলা শায়লা পড়ার টেবিলে বসে তার বান্ধবীর থেকে আনা গল্পের বইটি পড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার দিকে বেশ মনোযোগ দিয়ে বইটি পড়ার পর সে ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েনদের নিয়ে অনেক অজানা ও মজার মজার ঘটনা জানতে পারে।
প্রথম থেকেই তার এলিয়েনদের ব্যাপারে জানার ভীষণ আগ্রহ ছিল, এই বইটি পড়ার পর তার আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। সে বইটি পড়ে জানতে পারে এলিয়েনদের আচার আচরণ কেমন এবং তারা দেখতে কেমন।
বইটি পড়া শেষ হলে সে রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে এলিয়েনদের নিয়ে ভাবতে থাকে এবং মনে মনে কামনা করে যাতে সে সত্যিকারের এলিয়েনের দেখা পায়। এরপর সে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে সে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার বিছানার পাশে মানুষের আকারের ধূসর রঙের একটি প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে। সে দেখতে অনেকটা রোবটের মতো হলেও বোঝা যাচ্ছে তার মাঝে প্রাণ আছে। মাথা, হাত, পা, নাক, কান সব থাকলেও তার মাথায় বা পুরো শরীরে একটি চুলও নেই। সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, কোনো সাড়াশব্দ নেই, চোখের পলকও ফেলছে না। শায়লা তাকে দেখে বুঝতে পারে এটি নিশ্চয় একটি এলিয়েন। কারণ গল্পের বইটি পড়ে তার এলিয়েনদের বিষয়ে একটি ধারণা চলে এসেছে। সে আরও নিশ্চিত হবার জন্য এলিয়েনটির কাছে তার পরিচয় জানতে চাইল। কিন্তু এলিয়েনটি তার কথায় কোনো সাড়া দিল না। শায়লা বুঝতে পারে এলিয়েনটি হয়তো বাংলা ভাষা বুঝতে পারছে না। এরপর সে ইংরেজিতে এলিয়েনটির কাছে তার নাম-পরিচয় জানতে চায়। এলিয়েনটি তখন ভীষণ ভারী কণ্ঠে বলল, মাই নেইম ইজ টেমিন। আই অ্যাম কাম ফ্রম ইউরেনাস।
শায়লা রীতিমতো অবাক হলেও মনে মনে ভীষণ আনন্দিত। শায়লা টেমিনের সাথে বন্ধুত্ব করল। কিন্তু মজার বিষয় হলো শায়লা ছাড়া অন্য কেউ টেমিনকে দেখতে পেত না।
ধীরে ধীরে শায়লা টেমিনকে বাংলা ভাষা ও ফুল, ফলের ছবি আঁকা শেখাতে থাকে। টেমিনও খুব আগ্রহের সাথে সহজেই সব শিখে ফেলে। টেমিন এখন ছবি আঁকা ও বাংলা ভাষায় কথা বলতে শিখেছে। শায়লা বাংলা ভাষায় টেমিনের কাছে তার দেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে টেমিন জানায়, তার দেশে কোনো গাছপালা এবং ফুল বা ফল নেই। তারা সূর্যের আলোর সাহায্যে বেঁচে থাকে। শায়লা এমন কথা শুনে আরও অবাক হয়। শায়লা বলে, আচ্ছা টেমিন তুমি আমাদের দেশে এলে কীভাবে এবং নিজের দেশে যাবেই বা কীভাবে? টেমিন উত্তর দিল, আমাদের স্পেসশিপ নামক একটি বাহন আছে। যাতে চরে আমরা বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহ ভ্রমণ করি। আর আমি তোমার মনের কথা বুঝতে পেরে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি।
শায়লা বলল, তাহলে তুমি এখন থেকে আমার সাথেই থাকবে টেমিন। আমি সারা জীবন তোমার বন্ধু হয়ে থাকতে চাই।
টেমিন বলল, দুঃখিত বন্ধু, আমি তোমার সাথে বেশি সময় থাকতে পারব না। কারণ তোমাদের পৃথিবীর আবহাওয়া আমার জন্য উপযোগী নয়। এমন পরিবেশে আমি বেশিদিন বাঁচতে পারব না। আমার ভেতরের সকল সিস্টেম বিকল হয়ে যাবে। তাই আমাকে দ্রুত আমার দেশে ফিরে যেতে হবে।
এ কথা শুনে শায়লার মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর টেমিন ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি বেয়ে শায়লাদের বাসার ছাদে চলে গেল। শায়লাও টেমিনের পিছু পিছু ছাদে উপস্থিত হলো। শায়লা ছাদে এসে দেখতে পেল টেমিন নিজের দুটি আঙুল দিয়ে তার কপালটি ঘষতেই নির্দিষ্ট একটি আলোরেখার পথ তৈরি করে খুব দ্রুত একটি চায়ের কাপ আকৃতির স্পেসশিপ ছাদে এসে ভিড়ল। যেমনটা শায়লা গল্পের বইতেও পড়েছিল।
শায়লা বুঝতে পারে টেমিন এখন নিজের দেশে চলে যাবে, এই ভেবে সে চোখের জল ফেলতে লাগে। টেমিন তা দেখে শায়লাকে একটি লাল রঙের পেন্সিল উপহার দিয়ে বলে, তুমি যখনই ছাদে এসে এই পেন্সিলটি হাতে নিয়ে আমাকে ডাকবে আমি তখনই ওই আকাশ থেকে তোমার সাথে দেখা করতে চলে আসব। বিদায় বন্ধু, ভালো থেকো। এই বলে টেমিন স্পেসশিপে উঠে বসল। বসার সাথে সাথে চোখের নিমিষে স্পেসশিপটি শূন্যে মিলিয়ে গেল। শায়লা তা দেখে চিৎকার দিয়ে বলল, যেও না টেমিন। আমাকেও সাথে নিয়ে যাও। এমন সময় পাশের রুম থেকে শায়লার মা এসে দেখে শায়লা বিছানায় শুয়ে ঘুমের মাঝে চিৎকার করছে। মা শায়লাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার পর শায়লা বুঝতে পারে পুরো ঘটনাটাই আসলে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলো স্বপ্নের মাঝে টেমিন যে লাল পেন্সিলটি তাকে উপহার দিয়েছিল সেটা তার পড়ার টেবিলে ওই গল্পের বইটির পাশেই রয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]