ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

নামাজের অনন্য বৈশিষ্ট্যাবলি
আব্দুল্লাহ আল মাসউদ
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 36

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানব জাতিকে পাঠিয়েছেন একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। তারই গুণকীর্তন করার জন্য। পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি মানব ও জীন জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা যারিয়াত : আয়াত ৫৬)। আর এই ইবাদতের বিভিন্ন পথ ও পদ্ধতি আল্লাহ তায়ালা সুন্দরভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেন, জানিয়েছেন।
আল্লাহ তার বান্দার জন্য কিছু ইবাদত ফরজ করেছেন। কিছু করেছেন ওয়াজিব। কিছু সুন্নত। কিছু মুস্তাহাব। আমাদের ওপর যত ধরনের ইবাদত আল্লাহ তায়ালা আবশ্যক করেছেন তন্মধ্যে নামাজ হলো অন্যতম ফরজ ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সব কিছুর মূল হলো ইসলাম, আর ইসলামের খুঁটি হলো নামাজ, আর ইসলামের শীর্ষপীঠ হলো জিহাদ।’ (তিরমিজি : ৩৫৪১)। এখানে ইসলামের মূল খুঁটিই বলা হয়েছে নামাজকে। নামাজের কত গুরুত্ব তা অনুধাবন করা যায় তার বৈশিষ্ট্যবলির দিকে তাকালেও।
নামাজের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। বিশেষত আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের ওপর যত ধরনের ইবাদত আরোপিত করা হয়েছে সব ইবাদত আল্লাহ তায়ালা জিব্রাইল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসুলের (সা.) নিকট প্রেরণ করেছেন। রাসুল (সা.) আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবশ্য সরাসরি রাসুলের অন্তরে ইলহাম করা হয়েছে। পরে তিনি সাহাবাদের জানিয়েছেন। মোটকথা, সব ইবাদতই আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে রাসুলের নিকট প্রেরণ করেছেন। কিন্তু একমাত্র নামাজই এমন ব্যতিক্রম ইবাদত, যা পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি। বরং স্বয়ং রাসুলকে (সা.) ওপরে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরশে আজিমে দাওয়াত করে ডেকে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানেই আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নামাজ রাসুলের হাতে অর্পণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কত মহত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ।
এ ছাড়াও নামাজের আরও একটি ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য হলোÑ অন্যান্য ইবাদত অক্ষমতার কারণে স্থগিত হলেও নামাজ শেষ পর্যন্ত থেকেই যায়। যেমনÑ অসুস্থ হলে রোজা স্থগিত হয়, বান্দার কাছে অর্থ না থাকলে জাকাত ও হজ স্থগিত হয়। কিন্তু নামাজ এমনই এক ইবাদতÑ যা সুস্থ হোক অসুস্থ হোক, আর্থিক সক্ষমতা থাকুক কিংবা না থাকুকÑ সর্বাবস্থায় তা আদায় করা ফরজ। এমনকি মুমূর্ষ অবস্থায়ও নামাজ আদায় না করে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
অসুস্থ ব্যক্তির নামাজের মাসআলা হলো, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ে অক্ষম হলে বসে আদায় করবে। বসে আদায়ে অক্ষম হলে শুয়ে আদায় করবে। শুয়ে আদায়েও যদি কষ্ট হয় তাহলে মাথা নেড়ে নেড়ে ইশারায় আদায় করবে। তবুও নামাজ আদায় করতেই হবে। কেবল মৃত্যু কিংবা জ্ঞানহীন (পাগল) ছাড়া কোনো অবস্থাতেই নামাজ মাফ হয় না।
অন্যদিকে নামাজ পরিত্যাগকারীর ওপরই এসেছে সবচেয়ে বড় ধমকি। কুফরের ধমকি। যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। রাসুল (সা.) বলেছেন ‘কোনো ব্যক্তি ও কুফর-শিরকের মাঝে ব্যবধান হলো নামাজ ত্যাগ করা।’ (মুসলিম: ১১৬ )। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাঝে আর অমুসলিমদের মাঝে চুক্তি হলো নামাজ, যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল সে কাফের হয়ে গেল।’ (আহমদ: ২১৮৫৯)
অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় নামাজের এসব ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্যবলির দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারি নামাজের কত গুরুত্ব ও মর্যাদা। ইসলামে নামাজের স্থান কত উঁচু। আল্লাহ তায়ালা আমাদের নামাজের গুরুত্ব বুঝে আমল করার তওফিক দান করুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]