ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশ্বনাথের তৃণমূল নারীদের কাছে জনপ্রিয় ‘তথ্য আপা’
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 97

বিশ্বনাথের তৃণমূল নারীদের কাছে জনপ্রিয় ‘তথ্য আপা’

বিশ্বনাথের তৃণমূল নারীদের কাছে জনপ্রিয় ‘তথ্য আপা’

‘তথ্য আপা : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায় প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর ‘তথ্য আপা’য় ক্রমশই আলোকিত হচ্ছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা। এ উপজেলার ছাত্রী ও তৃণমূলের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তথ্য আপা নামক সেবাটি।

বিশ্বনাথ উপজেলা তথ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ৫ শত ৪৪ কোটি ৯০ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের তথ্য আপা (২য় পর্যায়) প্রকল্পটির (৫বছর মেয়াদী) কার্যক্রম দেশের ৬৪ জেলার ৪ শত ৯০টি উপজেলায় পরিচালিত করা হচ্ছে।

 ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে উপজেলা তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেটের বিশ্বনাথে তথ্য আপার কার্যক্রম শুরু হয়। এই তথ্য কেন্দ্রে ১জন তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও ২জন তথ্য সেবা সহকারী তথ্য সেবা প্রদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। যদিও বর্তমানে তথ্য সেবা সহকারীর ১টি পদ শূন্য রয়েছে।

বিশ্বনাথ উপজেলার তথ্য কেন্দ্রের তথ্য আপারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সেবা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ডোর টু ডোর সেবা প্রদান এবং উঠান বৈঠক-মুক্ত আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এতে করে উপজেলার ছাত্রী ও তৃণমূল নারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তারা। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রকল্পটি। ফলে ক্রমশই আলোকিত হচ্ছে প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলা।

উপজেলার তবলপুর গ্রামের মনারা বেগম বলেন, তথ্য আপারা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে আমরা নারীদের নানা সরকারী সেবা ও সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে অবহিত হয়েছি।

উপজেলার রহিমপুর গ্রামের রুশনা বেগম বলেন, যেকোনো সমস্যায় আমরা তথ্য আপাকে ফোন দিলে অথবা দেখা করলেই তিনি আমাদেরকে যথাযথ সেবা প্রদান করেন।

একজন কলেজছাত্রী জানান, তথ্য আপারা গ্রামে এসে ইন্টারনেট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা, জেন্ডার ও কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য সেবা প্রদান করছেন। এতে করে আমরা উপকৃত হচ্ছি। আমাদের কাছে এখন এক জনপ্রিয় নাম তথ্য আপা।

সরেজমিন বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তথ্য আপার ১৩তম উঠান বৈঠকে উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী তথ্য সেবা সহকারী তানজিয়া ইসলাম তানিয়াকে সাথে নিয়ে ৫০জন তৃণমূল নারীকে বিভিন্ন তথ্য সেবা প্রদান করছেন। এ সময় একজন রিসোর্স পারসন হিসেবে নারীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কথা বলছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার দেলোয়ার হোসেন সুমন।

জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী জানান, তথ্য কেন্দ্রে সেবা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ও ডোর টু ডোর ছাত্রী এবং নারীদেরকে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তুলছি।

এছাড়াও, নারীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বাল্যবিয়ে, নারীর প্রতি সহিংসতা, চাকুরী সংক্রান্ত তথ্য, আইনগত তথ্য, সরকারের বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত তথ্য, কৃষি বিষয়ক তথ্যসেবা প্রদান এবং ই-কমার্স, স্কাইপি, ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্স ইত্যাদি ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে অবহিত করছি।

তিনি আরও জানান, নারীরা তথ্য আপায় দারুণ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এ পর্যন্ত বিশ্বনাথ উপজেলা তথ্য কেন্দ্র থেকে ৪শত, ডোর টু ডোর থেকে ১ হাজার এবং উঠান বৈঠক থেকে ৯৫০জন নারী সেবা পেয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল বলেন, বিশ্বনাথে তথ্য আপা সেবাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছাত্রী ও তৃণমূলের নারীরা সরকারের ডিজিটাল সেবাসমূহ পাচ্ছে। বিশেষ করে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তথ্য আপা সেবাটি নারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। আমি নিজেও নিয়মিত এসব উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]