ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সিটি নির্বাচনের প্রচারণা চলছে দেওয়ালে-ফেসবুকে
মাদকমুক্ত মডেল ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় প্রার্থীদের
ভোটের হাওয়া ডিএনসিসি ২০নং ওয়ার্ড
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০১.১২.২০১৯ ১১:৫৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 337

মাদকমুক্ত মডেল ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় প্রার্থীদের

মাদকমুক্ত মডেল ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় প্রার্থীদের

ভোটের ডামাঢোল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচন। নির্বাচনে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রচারে নেমেছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে প্রচারণার অনেকটাই চলছে দেওয়াল পোস্টার আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সবাই মাদকমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।  তবে এ প্রতিশ্রুতিতে ভোটারদের রয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।

কয়েকদিন ধরে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মহাখালী, আমতলী ও নিকেতন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার অলিগলি, মোড় ও দেওয়ালে টানানো হয়েছে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানার। পোস্টারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নজর কাড়ছেন। অন্যদিকে ফেসবুকেও চলছে বেশ প্রচারণা। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. নাছির তার নিজস্ব পেজ থেকে চালাচ্ছেন ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও তার কর্মকান্ড নিয়ে প্রচারণা। শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য প্রার্থীরা জুমা ও বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন।

ডিএনসিসির ২০নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. নাছির, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জসিম উদ্দিন, ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ আসলাম, ওয়ার্ড আওয়ামী  লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল রহমান দুলাল। প্রার্থিতার দৌড়ে ছিলেন ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হবিও। কিন্তু রোববার তিনি মারা যান। হাবিবুর রহমান ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে রয়েছেন বনানী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্চু ও ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. সেলিম (যাদু সেলিম)। রাস্তা সংস্কার, পরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবৈধ দখলমুক্ত করা, মাদক নির্মূল করে মডেল ওয়ার্ড গড়ার অঙ্গীকার করছেন এ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

বর্তমান কাউন্সিলর মো. নাছির সময়ের আলোকে বলেন, মাদক সমূলে নির্মূল করতে ওয়ার্ডে ৫২টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ৫৩টি ঘর তৈরি করেছি। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছি। মহাখালী ওয়ারলেস গেটের ঠিক সামনের জায়গাটুকুতে আগে ইয়াবা আর গাঁজা বিক্রি হতো। এখন তার বালাই নেই। এগুলো উচ্ছেদ করে একটি মনোমুগ্ধকর বিশ্রামের স্থান করে দিয়েছি। যেখানে সবাই নির্ভয়ে আয়েশি আড্ডা দিতে পারে। আগে এখানে ছিনতাইকারীর উৎপাত ছিল।
ওয়ার্ডবাসীদের সেবার জন্য কাউন্সিলরকে অফিসে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু কাউন্সিলরের দাবি, অভিযোগটি সত্য নয়। দায়িত্বে অফিসে সারাক্ষণ কর্মকর্তারা থাকেন। আমাকে ওয়ার্ডের অনেক উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ব্যস্ত থাকতে হয়।

তিনি বলেন, যদি আবারও জনগণ সুযোগ দেয় তাহলে ওয়ার্ডে একটি কবরস্থান, খেলার মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্র তৈরি করব। সরু রাস্তাগুলো বড় করব। বেলতলা ও সাততলা বস্তি এলাকায় অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বাণিজ্য বন্ধ করেছি। বেশিরভাগ সড়ক ও ফুটপাথ সংস্কার করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এখনও কাজ চলছে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ওয়ার্ডকে আরও আধুনিক ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

আরেক প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ আসলাম। তিনি বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মহাখালীর বিভিন্ন স্থানে তার নির্বাচনি পোস্টার শোভা পাচ্ছে। কাউন্সিলর প্রার্থী আসলাম বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত ও সুস্থ পরিবেশবান্ধব ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চাই। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও ফুটপাথ সংস্কার করে সবার বাসযোগ্য এলাকা করতে চাই।

প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা গেলেও মাঠে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্চুর কোনো কর্মকান্ডের দেখা মেলেনি।
আমতলীর হোটেল ব্যবসায়ী বুলবুল মিয়া বলেন, গতবার নির্বাচন করছিলেন বাচ্চু, কিন্তু এবার তার কোনো প্রচারণা চোখে পড়ছে না। বর্তমান কাউন্সিলর বেশ কিছু প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। মাদক ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য অনেকটা কমেছে। যিনি আমাদের খেটে খাওয়া মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন তাকেই ভোট দেব।

তবে মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের প্রচারণা চলছে ভিন্নভাবে। প্রতিক‚লতার মধ্যে আমি জয়ী হলে নাগরিকদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে সচেষ্ট থাকব। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ একটি ওয়ার্ড উপহার দেব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডটি ঘনবসতি এলাকা। এই ওয়ার্ডটি রাজধানীর অভিজাত ওয়ার্ড হিসেবে সুপরিচিত। প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাসের এই ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার। মহাখালী, গুলশান ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ডটি গঠিত। গুলশান থানার অন্তর্ভুক্ত এই ওয়ার্ডের আয়তন ২ বর্গ কিলোমিটার। পূর্বে নিকেতন আবাসিক এলাকা, পশ্চিমে আমতলী, উত্তরে বনানী ২নং রোড ও দক্ষিণে রসুলবাগ, যা গুলশান-১-এর আংশিক, বনানীর আংশিক পুরো মহাখালী ‘ক’ ব্লক, ‘গ’ ব্লক, ‘ছ’ ব্লক, ‘জ’ ব্লক, বসুলবাগ, সাততলা ও বেলতলা বস্তি, টিঅ্যান্ডটি ও নিকেতন আবাসিক এলাকা নিয়ে গঠিত। এই ওয়ার্ডে রয়েছে একটি সরকারি কলেজ, একাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাখালী কলেরা হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাসপাতাল।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]