ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাকির হোসেন জীবন, জাবি
প্রকাশ: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:৪২ পিএম আপডেট: ০২.১২.২০১৯ ১:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 352

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

● শীতের মৌসুমে ১২৬ প্রজাতির দেশি এবং ৯৮ প্রজাতির বিদেশি পাখির দেখা মেলে ক্যাম্পাসে।
●ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরিযায়ী অবস্থান করে ক্যাম্পাসে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শীতের শুরুতেই জাহানঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মুখরিত হচ্ছে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট-বড় প্রায় ১৪টি লেকের মধ্যে পরিবহন চত্বরের পাশের লেক, ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের পাশের লেক ও রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন লেকে অতিথি পাখির সমাগম সবচেয়ে বেশি।

নৈসর্গিক শোভামণ্ডিত ও পাখির কলতানে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহনীয় প্রকৃতির সবুজ ক্যাম্পাস আকর্ষণ করে যে কাউকে। পাখির কিচিরমিচির আওয়াজে ঘুম ভাঙে এ ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এছাড়া শীতের সময়ে পরিযায়ী পাখিদের সঙ্গে বসবাসের দুর্লভ সুযোগ মেলে এ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের।

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চির সবুজ এ ক্যাম্পাসে হেমন্তের আমেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখর হয়ে ওঠতে শুরু করে জলাশয় গুলো। শীতের সময়ে প্রতিদিনই দেখা মিলে ঝাঁকে ঝাঁকে হাজারো বাহারি রঙের অতিথি পাখি।

কনকনে শীতের সকালে সোনামাখা রোদে লেক গুলোতে হাজারো অতিথি পাখির জলকেলি, সারাদিন খুনসুটি, সারা ক্যাম্পাসের আকাশে মুক্ত ডানায় ভর করে বাতাসে গা ভাসিয়ে দলবেঁধে হেলে-দুলে মনের সুখে উড়ে বেড়াচ্ছে এটি হচ্ছে প্রতিদিনের শীতের জাহাঙ্গীরনগররে সাধারণ চিত্র।

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসের ছোট ও বড় আকারের জলজ পদ্ম সুশোভিত জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির শত শত অতিথি পাখির আগমন ঘটে প্রতিবছরই। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের আবহাওয়ায় সবুজে সুশোভিত বিশাল এই এলাকা অতিথি পাখিদের কলরব পাখিপ্রেমী দর্শকদের মুগ্ধ করে তুলে।

রক্তকমল শাপলার মাঝে সেই সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা রকমারি প্রজাতির অতিথি পাখির বাহারি খেলায় মেতে ওঠা আকর্ষণীয় দৃশ্যে এখানের লেক গুলো জানান দেয় হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক অনন্য প্রকৃতির গ্রাম বাংলার চিরচেনা সেই প্রাচীন রূপসী গ্রামীণ দুর্লভ এক মনোরম পরিবেশ।

এ অতিথিদেরকে স্বাগত জানাতে নতুন রূপে সেজেছে জাবির জলাশয়গুলো। অসংখ্য রক্তিম ফুটন্ত লাল শাপলার সৌন্দর্যে মন মাতানো রূপ ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দূর থেকে তাকালেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। যে কারও নজর কাড়বে এ দৃশ্য। শহরের ব্যস্তময় যান্ত্রিক জীবন আর ইট পাথরে ঘেরা ধুলাবালি থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শণার্থী ভিড় করে ক্যাম্পাসে।

গত পাঁচ নভেম্বর অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ও হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থী শূন্য ক্যাম্পাসে  এখন রাজত্ব করছে পরীযায়ী পাঁখিদের দল। কোলাহল না থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বেশি বলে ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি গবেষকরা।

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

হিমালয়ের উত্তরের সুদূর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ও নেপালে এ সময়টায় প্রচুর তুষারপাত হয়। এ তুষারপাতে পাখিরা মানিয়ে নিতে না পেরে বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। শীতের শুরুতেই আসতে শুরু করে পরিযায়ীরা। শীত বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যাম্পাসে বাড়তে থাকে অতিথি পাখির সংখ্যা। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির অর্ধেকটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরিযায়ী পাখির উপস্থিত লক্ষ্য করা যায়। দুই ধরনের পাখির আগমন ঘটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি ডাঙায় শুকনো স্থানে বা ডালে বসে বিশ্রাম নেয়। আরেক ধরনের পাখি বিশ্রাম নেয় পানিতে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায় ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখি দেখা মিলে। শীতের সময়ে ক্যাম্পাসে ১২৬ প্রজাতির দেশীয়, ৯৮ প্রজাতির বিদেশি মিলিয়ে, ২০৪ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এরমধ্যে ৭৮ প্রজাতির পাখি নিয়মিত ক্যাম্পাসে অবস্থান করে।

পানিতে বিশ্রাম নেওয়াদের বেশিরভাগই হাঁসজাতীয়। এর মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনি, ছোট জিরিয়া, পান্তামুখী, পাতারি, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক, পাতারী হাঁস, জলকুক্কুট, খয়রা ও কামপাখি অন্যতম। এছাড়া মানিকজোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি, বামুনিয়া হাঁস, লাল গুড়গুটি, নর্দানপিনটেল ও কাস্তে চাড়া প্রভৃতি পাখিও হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসে এই ক্যাম্পাসে।

ক্যাম্পাসের পাখি মেলার আহ্বায়ক, পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অতিথি পাখিদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লেকগুলো পরিষ্কার করা, লেকে ঘের দেওয়া, সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে ডিসেম্বরের  শেষ দিকে পরিযায়ীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ পাখিদের খুবই পছন্দ কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ দিকে ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীর সংখ্যা খুবই বেশি থাকে এবং লেকের পারে কোলাহল পূর্ণ পরিবেশ তৈরি  হয়। তাই দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে পাখিদের ভয় না দেখিয়ে, বিরক্ত না করে দূরত্বে থেকে পাখি দেখার জন্য।

ক্যাম্পাসে পাখি দেখার সবচেয়ে ভালো সময় সকাল এবং বিকাল। তাই খুব সকালে গিয়ে সারাদিন কাটাতে পারেন ক্যাম্পাসে। তবে আর দেরী কেন ঘুরে আসুন অতিথি পাখির রাজত্ব দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপিঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]