ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সৌদিতে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরেও চিকিৎসাবঞ্চিত নারী
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৩.১২.২০১৯ ১২:২৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 8

সৌদিতে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরেও চিকিৎসাবঞ্চিত নারী

সৌদিতে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরেও চিকিৎসাবঞ্চিত নারী

সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা মৌলভীবাজারের এক তরুণী সরকারের কাছে বিচার চেয়েছেন।
২০ বছর বয়সি ওই তরুণীর বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৯ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নে। ২৬ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার দুদিন পর শ্রীমঙ্গলের ‘মুক্তি মেডিকেয়ার’ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই ১ ডিসেম্বর তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই হাসপাতালের প্রধান সেবিকা দীপ্তি দত্ত জানান, মেয়েটার গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষত সারতে সময় লাগবে।
নির্যাতনের ফলে ওই তরুণী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক সাধন চন্দ্র ঘোষ জানান, মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আবোল-তাবোল বকছেন। দ্রæত তাকে মানসিক চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।
মুক্তি মেডিকেয়ারে চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরে যাওয়া ওই তরুণী সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ঙ্কর বিবরণ দেন গণমাধ্যমকে।
তিনি জানান, বিয়ের সাত মাসের মাথায় স্থানীয় আদম বেপারি মোস্তফা কামালের প্রলোভনে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। তখন তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দাম্মামে পৌঁছানোর পর এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, চার লাখ টাকায় তাকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যৌনকর্মে রাজি না হলে তার ওপর চালানো হতো নির্যাতন। একটি অফিসে রেখে প্রতিদিন কয়েকজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করত। তরুণী জানান, ‘জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে আমার বুক, স্পর্শকাতর জায়গা ওরা পুড়িয়ে দিয়েছে। তার দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হাত-পা ও উরুতে জখম করে দিয়েছে। দল বেঁধে ৪-৫ জন মিলে ধর্ষণ করতো, তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম।
অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক সময় সৌদি আরবের পুলিশ তাকে ‍উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সে সময় গোপনে তিনি আহত হওয়ার ছবি দেশে পাঠান। তার দিনমজুর স্বামী নির্যাতনের বিষয়টি সেই ‘আদম বেপারিকে’ জানালে ‘মিথ্যা কথা’ বলে উড়িয়ে দেন মোস্তফা নামের সেই ব্যক্তি।
শেষ পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন ওই তরুণীর স্বামী। প্রশাসনের তৎপরতায় ছয় মাস ২৬ দিন পর দেশে ফেরেন তার স্ত্রী।
ওই তরুণীর স্বামী বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক সাব্বির এলাহিকে ঘটনাটি জানান। তার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি পাঠায় জেলা প্রশাসকের কাছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাংবাদিকরা মোস্তফা কামালের বাড়িতে গেলে তাদের বলা হয়, মোস্তফা বাড়িতে নেই। পরে মোবাইলে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]