ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

চুয়াডাঙ্গায় মাচায় টমেটো  চাষের কদর বাড়ছে
মাহফুজ মামুন চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৩.১২.২০১৯ ১২:৩৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 30

চুয়াডাঙ্গায় মাচায় টমেটো  চাষের কদর বাড়ছে

চুয়াডাঙ্গায় মাচায় টমেটো  চাষের কদর বাড়ছে

মাচায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায়। মাচায় টমেটো চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বাজারে অসময়ের এ টমেটোর চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা দাম ভালো পাচ্ছেন। এ জাতের টমেটো খেতে সুস্বাদু। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করলে ফলন অনেক বেশি ও খরচ কম। পাশাপাশি কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতাও করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া অনুক‚ল ও মাটি উর্বর হওয়ায় টমেটো চাষ ভালো হচ্ছে। কৃষকরা এ জাতের টমেটো গাছ লাগানোর দুই মাসের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করে। এ টমেটো ৩-৪ মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেন কৃষকরা। প্রথম বছর মাচায় টমেটো চাষ করতে খরচ বেশি হলেও পরবর্তী বছর থেকে খরচ কম।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গ্রীষ্মকালীন হাইব্রিড জাতের টমেটো ২২ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। গত বছর মাচায় টমেটো চাষ হয়েছিল ১১ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে টমেটোর উৎপাদন টার্গেট ধরা হয়েছে ৩০-৫০ টন। যা অন্য জাতের চাইতে অনেক বেশি। এই জাতের টমেটো চাষের আগে বীজতলা থেকে চারা তৈরি করতে হয়। মাঠের জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়। পলিথিন ভরে ছোট ছিদ্র করে জমিতে টমেটোর চারা লাগাতে হয়। টমেটোর চারা লাগানোর পর মাচা তৈরি করতে হয় গাছে ফুল আসার পর। পাটখড়ি, বাঁশের কঞ্চি, নাইলনের দড়ি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করতে হয়। গাছ বড় হলে মাচার ওপর তুলে দিতে হয়। টমেটোগুলো মাচায় ঝুলে থাকে। টমেটো মাটিতে ঠেকে থাকলে দ্রæত পচে নষ্ট হয়।
টমেটো গাছ লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। কারণ অসময়ের টমেটো হওয়ায় নানা রোগ দেখা দিতে পারে। পানি, সার, কীটনাশক ও ভিটামিন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। টমেটো গাছের পাতা কুড়মুড়ে হলে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায় দ্রæত সময়ে। দামুড়হুদা উপজেলার মাঠে শুধু মাচায় টমেটো ঝুলছে, দূর থেকে দেখতে দারুণ লাগে। গাছে থোকা থোকা টমেটো ঝুলছে, রঙ লাল আর সবুজ। মাচায় টমেটো চাষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ফলন ভালো হয়, টমেটোর সাইজ বড় হয়, পচে নষ্ট হয় না ও পোকামাকড় ক্ষতি কম করে। অসময়ের টমেটোর চাহিদা রয়েছে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের টমেটো চাষি লুৎফর রহমান বলেন, তিন বিঘা জমিতে এ বছর আগাম হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। খরচ বাদেও লাভ হবে এক লাখ টাকা। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, এ জাতের টমেটো চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছে। গ্রামের সবাই কম-বেশি চাষ করেছে। গাছে যথেষ্ট ফল ধরেছে। কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের মুকুল আলি বলেন, টমেটোর দাম গত বছরের তুলনায় ভালো। এখনও পর্যন্ত ৫০ মণ টমেটো বিক্রি করেছি। দাম ৬০-৯০ টাকা প্রতিকেজি পেয়েছি। টমেটোর আকার ও ওজন ভালো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গ্রীষ্মকালীন জাতের টমেটো চাষ হচ্ছে। এক সময় এ জাতের টমেটো কৃষকরা চাষ করত না। প্রথম বছর টমেটো চাষে খরচ বেশি হলেও লাভ বেশি হয় পরের বছর থেকে। কৃষকরা নিয়মিত এ টমেটো চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। টমেটোর উৎপাদন অন্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]