ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কাজ করার এটাই সময়
সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে না পারলে শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না : প্রধানমন্ত্রী
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৩.১২.২০১৯ ১২:৫৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 55

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বিশ্ব নেতার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে প্রতিটি দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ুজনিত অরক্ষিত দেশগুলোর জন্য অস্তিত্বের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন বৈশি্ব

সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে না পারলে শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না : প্রধানমন্ত্রী

সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে না পারলে শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না : প্রধানমন্ত্রী

ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক অতিক্রম করছি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যদি শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তা হলে শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না।’ শেখ হাসিনা সোমবার মাদ্রিদে শুরু হওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ-২৫) কপ ২৫ লিডার্স সামিটে ‘অ্যাকশন ফর সারভাইভাল : ভালনারেবল নেশন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন। সোমবার সকালে স্পেনের সর্ববৃহৎ এক্সিবিশন কমপ্লেক্স এবং ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফুলিয়া দা মাদ্রিদে কপ-২৫ শুরু হয়েছে। বাসস।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশের আরও অবনতি রোধকল্পে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্যারিস চুক্তির সব ধারাসহ প্রাসঙ্গিক সব বৈশি্বক চুক্তি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশে^র জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। এটি বর্তমানে মানবজীবন এবং পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। তিনি বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে ধরিত্রী সম্মেলন শুরু হওয়ার পর আমরা গ্রিন হাউস গ্যাস হ্রাসের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম হইনি। এর নিঃসরণ এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা বিশে্বর জন্য এখনও টেকসই নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মোকাবেলার সীমিত সক্ষমতা এবং সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির ধকল বয়ে বেড়াচ্ছি অথচ এক্ষেত্রে আমাদের সৎসামান্য অথবা কোনো দায়ই নেই।’ শেখ হাসিনা বলেন, এটা একটা মারাত্মক অবিচার এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালেতে ২০০৯ সালের নভেম্বরে ফোরামের প্রথম বৈঠকের পর থেকে বৈশি^ক জলবায়ু ভ‚পৃষ্ঠের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। হতাশার বিষয় হলো, ইউএনএফসিসিসি প্রক্রিয়ার আওতায় এই অগ্রগতি খুবই ধীর এবং অত্যন্ত অপ্রতুল। শেখ হাসিনা বলেন, বিশেষত আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে জাতীয়ভাবে দৃঢ় অভিযোজন উদ্যোগের সমর্থনে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ এখনও কঠিন বিষয়। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে বিভিন্ন কাজে ভিন্ন ভিন্ন তহবিল সৃষ্টি করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো সর্বাপেক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ দেশ যেগুলো সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন সেসব দেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, নতুন ক্লাইমেট ভারনারেবল ফান্ড (সিভিএফ) ও ভি-২০ ট্রাস্ট ফান্ড সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি নতুন স্পেশাল রেপোর্টারের সম্ভাবনা হবে একটা বড় সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিভিএফ এবং ভি-২০ সাউথ-সাউথ এবং ট্রায়েঙ্গেল কো-অপারেশনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ, আমরা এর সাফল্যকে আরও বিকশিত করতে চাই। আমরা আমাদের অভিযোজন প্রচেষ্টা জোরদার করতে নেদারল্যান্ডসে ২০২০ জলবায়ু অভিযোজন সম্মেলনের দিকেও নজর রাখছি। শেখ হাসিনা বলেন, সদস্যরা যদি এ বিষয়ে আমাদের সম্মান জানাতে সদয় হন তবে বাংলাদেশ ফোরামের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রথম অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতএব আমাদের ঝুঁকি, প্রভাব এবং মোকাবেলার সক্ষমতার অভাব রয়েছে এমন অরক্ষিত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি মানদÐ নির্ধারণ করতে হবে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন সমর্থনও অব্যাহত রাখতে চাই এবং নিয়মিত এর উন্নয়ন অর্থকে কঠোরভাবে পৃথক রাখতে চাই।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, কোস্টারিকান প্রেসিডেন্ট কার্লোস আলভারাডো কুইসাদা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইন, ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সম্পাদক প্যাট্রিসিয়া এস্পিনোসা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাচলেট জেরিয়া বক্তব্য রাখেন।
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সমাজের এই ‘অসুস্থতা’ নির্মূল করা হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর ধরে দেশ শাসনকারীদের অপকর্মের কারণে অনেক ময়লা ও আবর্জনা জমে গেছে এবং মানুষের চরিত্রে ভাঙন ধরেছে।
প্রধানমন্ত্রী মাদ্রিদে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় হোটেল ভিলা মাগনায় তার সম্মানে স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন। স্পেনে ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, একশ্রেণির মানুষ ঘুষ-দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে, সন্ত্রাস করে, লোকজনের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করতে চায় এবং তারা বলতে চায় যে, ‘মুই কী হনুরে’। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা চাই জনগণের মধ্যে এ ধরনের মানসিকতা থাকবে না এবং সমাজের এই অসুস্থতা নির্মূল করতে হবে।’





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]