ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যালয় ভবনে দখলদারদের দৌরাত্ম্য
সরকারি জায়গা দখল করে ‘কৃষাণ রেস্তোরাঁ’ ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি’ নামে অফিস
হুমায়ুন কবির খোকন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৩.১২.২০১৯ ১:০১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 133

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যালয় ভবনে দখলদারদের দৌরাত্ম্য

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যালয় ভবনে দখলদারদের দৌরাত্ম্য

রাজধানীর খামার বাড়িতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় এখন দখলদার ও কথিত ঠিকাদার নামধারীদের অপরাধের স্বর্গরাজ্য। সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক প্রতিষ্ঠানের অফিস এবং রেস্টুরেন্ট। পাশাপাশি কথিত ঠিকাদারদের দাপটে তটস্থ থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফার্মগেটের খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটের লাগোয়া প্রাণিসম্পদের ভবনটি ঘিরে এসব রেস্টুরেন্ট ও অফিস গড়ে ওঠায় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ ওই মিলনায়তনে প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অবস্থায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও এ নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না দখলকারীরা। এমনকি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চিঠি দেওয়ার পরও সেগুলো বহাল তবিয়তে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন পত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. আবদুল জব্বার শিকদার সময়ের আলোকে বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারে না। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আগের ডিজি চিঠি দিয়েছিলেন। আমিও আবার কয়েকদিনের মধ্যে তা দ্রæত কার্যকর করতে চিঠি দেব।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির খামারবাড়ি অফিসের অভ্যন্তরে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনের (কেবিআই) দেওয়াল ঘেঁষে অননুমোদিতভাবে ‘কৃষাণ রেস্তোরাঁ’ নামে রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে গত বছর। একইভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে ঢোকার পথেই হাতের ডান পাশে ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি’ নামে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সংগঠনের ব্যানারে অফিস গড়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যালয় ভবনে দখলদারদের দৌরাত্ম্য

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যালয় ভবনে দখলদারদের দৌরাত্ম্য

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে বহিরাগতদের আসা-যাওয়া বেড়ে গেছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা ভয়ভীতির মধ্যে কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কতিপয় ঠিকাদারদের সঙ্গে বহিরাগতরা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নানা রকম প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, জ্যোতি প্রকাশ বড়ূয়া নামে এক ব্যক্তি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে ভেতরে অবৈধভাবে এবং কর্তৃপক্ষের আপত্তির পরও ‘কৃষাণ রেস্তোরাঁ’ গড়ে তোলেন। এটি কেবিআই এর দেওয়াল ঘেঁষে গড়ে তোলায় আরও বেশি ঝুঁকিও রয়েছে। কেবিআই’তে প্রায়ই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এসব অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকেন। যার ফলে এ রকম একটি স্থাপনার দেওয়াল ঘেঁষে অবৈধ রেস্টুরেন্ট কীভাবে চলে সে নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ওঠে। ঠিক তার নিকটেই অধিদফতরের প্রধান ফটকের ডান পাশে আরেকটি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি’র নামে একটি অফিস খোলা হয়েছে। এটি নিয়ে বিভিন্ন সময় আপত্তি তোলা হলেও এটি সরানো হয়নি। সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেজগাঁও থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা আবুল বাশার, আবু সাদেকসহ একাধিক নেতা ওই অফিসটি ব্যবহার করেন। তারা কয়েকজন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ঠিকাদারও।
সূত্র জানায়, তেজগাঁও এলাকার তিন ভাই বাশার, সাদেক ও ডায়েন মূলত যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা শুধু প্রাণিসম্পদ অধিদফতরেই নয়, সংসদ ভবনে পিডবি্লউডিসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ নেন। তাদের কারণে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তটস্থ থাকেন। অভিযোগ আছে, ওয়ান ইলেভেনের সময় তারা ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর দল পিডিপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধ কর্মকাÐে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। শুধু প্রাণিসম্পদ নয়, আশপাশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধিপত্য খাটাচ্ছেন। তাদের ভয়ে কেউ কোনো কথা বলার সাহস পায় না। একাধিকবার পুলিশে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি প্রাণিসম্পদের কর্মকর্তারা।
এদিকে প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেতরের অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান। এরপর গত ১৪ ফেব্রæয়ারি আরেক দফা চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় গত ১০ মার্চ তৎকালীন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে স্থাপিত ‘কৃষাণ রেস্তোরাঁ’সহ সকল অবৈধ স্থাপনা অনতিবিলম্বে উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশানরকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। তাতে তিনি আরও উল্লেখ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গত আট মাসেও এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]