ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

লালমনিরহাটে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ
অনিয়মের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৪.১২.২০১৯ ১২:৪০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

অনিয়মের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

অনিয়মের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

এলাকার ভূমিহীনদের দুর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তালিকায় নাম নিতেও গুনতে হয়েছে হাজার হাজার টাকা এবং শ্রমিকদের খাওয়ার দায়িত্বও নিতে হয়েছে দুস্থ সুবিধাভোগীদের।

জানা গেছে, ভূমিহীন পরিবারের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুস্থ ও অসহায় ভ‚মিহীন (যার ১০ শতাংশের নিচে জমি) পরিবার থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়। এসব তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। লালমনিরহাট জেলায় প্রথম পর্যায়ে ২৭৫টি ঘর বরাদ্দ এসেছে, যার কাজ চলমান। এ ছাড়াও নতুন করে ৩৩০টি ঘর বরাদ্দ এসেছে।
সুবিধাভোগীদের জন্য সামনে বারান্দাসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর, কড়িডোর, রান্নাঘর, টয়লেট নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় জনপ্রতি দুই লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। একজন সুবিধাভোগীকে একটি প্রকল্প ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এটি বাস্তবায়ন করছেন। তদারকি করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।

এ প্রকল্পের তালিকা প্রণয়নে আত্মীয়করণ ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বসুনিয়া স্বপনের বিরুদ্ধে। এ তালিকায় চেয়ারম্যান তার চাচা আনোয়ার হোসেন বসুনিয়া ও চাচি আফরোজা বেওয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যে আফরোজার বড় ছেলে একজন প্রকৌশলী। শুধু আত্মীয়করণই নয়, অবৈধ সুযোগও নিয়েছেন বলে সুবিধাভোগীরা দাবি করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে করা হচ্ছে ঘর। বারান্দা ও কড়িডোরে ইটের পিলার দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে জিআই তারের তৈরি বাজারের নিম্নমানের সিঁড়ি। দরজা জানালায় দেওয়া হচ্ছে আম কাঠ যা বেঁকে যাচ্ছে বলে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ।

সুবিধাভোগী ধনজঞ্জয় গ্রামের আনোয়ার হোসেন বসুনিয়া বলেন, অন্যদের কাছে বেশি নিলেও আমার কাছে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়ারম্যান ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। ঘর নির্মাণ শুরু হলে কাজের বালু, ভিটি বালু, রড, ছাউনির কাঠ, বাঁশ নিজেকে সরবরাহ করতে হয়েছে। এ ছাড়াও শ্রমিকদের দুই বেলা ভাত খাওয়াতে হয়েছে। সরকারিভাবে শুধু ইট, টিন, সিমেন্ট ও শ্রমিক মজুরি সরবরাহ করা হয়েছে। এসব না দিলে কাজ বন্ধ রাখেন প্রকল্প চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন।

সুবিধাভোগী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, কাজ শুরু করেই বালু, রড, কাঠ দাবি করেন চেয়ারম্যান। এসব না দিলে কাজ বন্ধ রাখা হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান। বাধ্য হয়ে দুই এনজিও থেকে ৬৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এসব সরবরাহ করেছি। নামে সরকারি ঘর, বাস্তবে এ ঘর পেতে প্রায় লাখ টাকা গুনতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই গ্রামের অপর সুবিধাভোগী আফরোজা বেওয়া বলেন, আমার ছেলে বেসরকারি একটি ফার্মের প্রকৌশলী হলেও ঘরে নাম দিয়েছেন ভাতিজা ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন। কড়িডোর ও বারান্দায় ইটের পিলার দিলে ভেঙে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বাজারের সিঁড়ি কিনে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান স্বপন বলেন, টাকার বিনিময়ে বা আত্মীয়করণে নয়, মানবতার পরিচয় দিতে নামগুলো দেওয়া হয়েছে। কাজের অনিয়ম মনে হলে ইউএনওকে অভিযোগ করেন। যা করার তিনি করবেন।

সদর পিআইওর দায়িত্বে থাকা আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, ভিটি বালু বা রড ইস্টিমেটে ধরা নেই, তাই সুবিধাভোগীদের কাছে নিতে পারে। তবে কাঠ, বাঁশ, কাজের বালু ও খাওয়ার খরচ নেওয়া ঠিক হয়নি। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনবাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, সুবিধাভোগীদের কাছে কোনো কিছু সরবরাহ নেওয়া অন্যায়। ঘর নির্মাণে সব খরচ সরকার বহন করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]