ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

রিজার্ভ চুরির অর্থ আদায়ে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৪.১২.২০১৯ ১২:৪১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 26

রিজার্ভ চুরির অর্থ আদায়ে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন

রিজার্ভ চুরির অর্থ আদায়ে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ আদায়ের বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ফিলিপাইন। তবে শিগগিরই অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব (এশিয়া ও প্যাসিফিক) মাসুদ বিন মোমেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় ফিলিপাইনের সঙ্গে দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বা সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। চার বছর পরে দুদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম সচিব মাসুদ বিন মোমেন। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
এই অর্থ কবে নাগাদ ফেরত আসতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া সবসময় একটু লম্বা হয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন এবং বাংলাদেশে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়ার ওপর হাত নেই কারও। যুক্তরাষ্ট্রে বা ফিলিপাইনে যে বিচার চলছে, তা চলবে। এগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এসব মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়ে নির্ধারিত কোনো সময় বাঁধা নেই।
তিনি বলেন, বৈঠকে ফিলিপাইনের কাছে আমরা কয়েকটি বিষয়ে সাহায্য চেয়েছি। যেমন, কিছু অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যাপার। এই তথ্য ফিলিপাইন আমাদের দেয়নি। সেটা আমরা চেয়েছি। এ ছাড়া কিছু ফিন্যান্সিয়াল (অর্থনৈতিক) বিষয় আছে। সেটাও তারা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবে বলে আশ^াস দিয়েছে। এই ফিন্যান্সিয়াল তথ্য এবং আইডেন্টিটির বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হলে বাংলাদেশে যে মামলা চলছে, তার অভিযোগপত্র দিতে সুবিধা হবে।
এই তথ্য দেওয়ার বিষয়ে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কাছে এই তথ্য জমা আছে। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে ফিলিপাইন এটি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবে।
তিনি জানান, ফিলিপাইন আরসিবিসি ব্যাংককে ২০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। এই টাকাটাও বাংলাদেশকে দেওয়ার ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা চলছে। তবে তারা এ বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে ফিলিপাইনের অন্যরকম যুক্তি আছে। তারা বলছে যে, ২০ মিলিয়ন ডলার তারা আরসিবিসিকে জরিমানা করেছে সেটা তাদের দেশের আইন অমান্য করার জন্য। এটার সঙ্গে আমাদের হারানো টাকার সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে আমরা আমাদের দাবি জানিয়ে যাচ্ছি অন্তত ওই টাকাটা দেওয়ার জন্য কারণ আমাদের রিজার্ভ চুরি যাওয়ার কারণেই ওই জরিমানা করা হয়েছে।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আর কিছু টাকার সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। আমরা ধাপে ধাপে এগুচ্ছি। ফিলিপাইন থেকে কিছু টাকা পাচার হয়ে গেছে। ওদের দেশে তদন্ত চলছে বিভিন্ন পর্যায়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফিলিপাইনের আরসিবিসির প্রতিনিধি আলাদা করে বৈঠক করেছেন। কীভাবে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা যায় এ ব্যাপারে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রায় চার বছর পরে এই দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হলো। বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা এবং ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত ফেরত এসেছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ফেরত পাওয়া যায়নি। এদিকে রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি হলেও বিষয়টি জানাজানি হয় প্রায় দেড় মাস পর। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৫ মার্চ পদত্যাগ করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। একই দিন সরিয়ে দেওয়া হয় দুই ডেপুটি গভর্নরকে। তৎকালীন ব্যাংকিং সচিব ড. আসলামকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সাবেক অর্থ সচিব ফজলে কবিরকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]