ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্ররাজনীতি!
রাশেদ শুভ্র রাবি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৪.১২.২০১৯ ১২:৪৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 174

ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্ররাজনীতি!

ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্ররাজনীতি!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রয়েছে ছাত্ররাজনীতির গৌরব ও ঐতিহ্যের ইতিহাস। অতীতে যারা এখানে সক্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন, তাদের অনেকে জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ছাড়া দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতারা। তবে বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতির বিকাশ ও চর্চার এই সূতিকাগার ঝিমিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরোধীদলীয় ছাত্র সংগঠন ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলোতে অনেক আগে থেকেই নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে ছাত্রলীগেও বিরাজ করছে ঝিমিয়ে পড়া অবস্থা। ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জায়গা থেকে সরে এসে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডেই ক্ষমতাসীন দলের এই ছাত্র সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বেশি সক্রিয় দেখা যায় বলে অভিযোগ।
সাংগঠনিক কর্মকান্ডেও নেই শৃঙ্খলা। দলের নেতাকর্মীদের নামে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হলের সিট বাণিজ্য, সাংবাদিক লাঞ্ছনা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ বিস্তর। তবে সাংগঠনিক কর্মকাÐে তেমন সক্রিয়তা নেই। শুধু জাতীয় দিবসগুলোতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম।
অন্যদিকে অস্তিত্ব সঙ্কটে বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এক কমিটিতে পাঁচ বছর ও নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয়তায় ক্যাম্পাস থেকে অদৃশ্য প্রায় দলটি। তবে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের চাপে তারা কোনো ধরনের কার্যক্রম চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ দলটির নেতাকর্মীদের। এদিকে বামপন্থি ছাত্র সংগঠন, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্র মৈত্রীর কার্যক্রম চলছে নামমাত্র। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই।
এক সময় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন ছাত্র শিবিরের ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত ছিল এই বিশ^বিদ্যালয়। নব্বইয়ের দশকে ক্যাম্পাসে শিবির আধিপত্য বিস্তার করে। এরপর এক দশকের বেশি সময় ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বজায় রাখে দলটি। শিবিরের অতীত ইতিহাসে দেখা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছিল দলটি। বিরোধীদলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, রগ কাটাসহ নানা পাশবিক কর্মকাÐ চালিয়েছে তারা। তবে শিবিরের এই ‘ত্রাসের’ রাজত্ব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের প্রচেষ্টায় ‘রাজত্ব’ হারাতে থাকে তারা। শিবির কোণঠাসা হয় মূলত ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যার পরে। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে নিহত হয় বিশ^বিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী। অনেকে মনে করেন, নোমানী হত্যার বদলা নিতে ফারুককে হত্যা করে শিবির। ফারুক হত্যার পর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযানে নামলে ধীরে ধীরে শিবিরের আধিপত্য কমতে থাকে। তবে শিবিরের বর্তমান নিষ্ক্রিয়তার পেছনে কাজ করেছে প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কঠোর অবস্থান। ক্যাম্পাসকে শিবিরমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় অভিযান পালন করে থাকে বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। তবে অনেকেই মনে করেন, ক্যাম্পাসে এখনও শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপনে তাদের কর্মকাÐ চালাচ্ছে।
এদিকে ছাত্রলীগের কার্মকাÐে নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের এক সহসভাপতি বলেন, কিছুদিন আগেই শোকের মাস আগস্ট চলে গেল। কিন্তু অন্য সব সংগঠনের মতো ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ছাড়া ছাত্রলীগকে কোনো আয়োজন করতে দেখা যায়নি। কিন্তু ছাত্রলীগের অন্য বিভিন্ন ইউনিট কিন্তু বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল।
তবে ছাত্রলীগের ব্যর্থতার চেয়ে অর্জনটাই অনেক বেশি দাবি করছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সবসময়ই ছাত্রবান্ধব কর্মসূচিতে ছিল রাবি ছাত্রলীগ। তবে কিছু ঘটনা আছে যেটা আমাদের ব্যর্থতা। কিন্তু আমি মনে করি ব্যর্থতার চেয়ে রাবি ছাত্রলীগের অর্জনের ঝুলিটাই অনেক বেশি।
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় তিন বছর হলো। ২০১৪ সালে দুই বছরের জন্য গঠিত কমিটি পার করেছে পাঁচ বছর। কিন্তু ক্যাম্পাসে দলীয় কোনো কার্যক্রম তো নেই-ই, নেতাকর্মীদেরও দেখা যায় না। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সবসময়ই অভিযোগ যে, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের বাধার কারণে তারা কোনো কর্মসূচি দিতে পারছেন না।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের বাধার কারণে আমরা কোনো কর্মসূচি ঠিকভাবে চালাতে পারি না। তাদের হুমকি ও বিভিন্ন সময় আমাদের ওপর হামলার কারণে নেতাকর্মীরা কর্মসূচি দিতে ভয় পায়। তবে সাংগঠনিক কাজের স্থবিরতা স্বীকার করে তিনি বলেন, রাবি ছাত্রদলের একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু কমিটির জন্য কর্মিসভা, কাউন্সিল ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে না থাকার কারণে আমাদের পিছিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হলেও নিজেদের এককভাবে কোনো কর্মসূচি নেই। বিভিন্ন সময় তাদের কিছু কর্মসূচি দেখা গেলেও কর্মীদের উপস্থিতি থাকে একেবারেই অল্প।
বামপন্থি রাজনীতির বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা খাতুন বলেন, আমাদের রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের রাজনীতি। আমরা বিশ^বিদ্যালয়ের সব অনিয়ম-অবিচারের বিপক্ষে সবসময় সোচ্চার।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]