ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সোনায় রাঙা একদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৪.১২.২০১৯ ১২:৫৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

সোনায় রাঙা একদিন

সোনায় রাঙা একদিন

পূব আকাশে সূর্য্যমিামার হাসি, সকালের সোনা রোদে তেপান্তর সেজে উঠতে না উঠতেই সু-খবরটা এলো। হিমালয়ের দেশ নেপালে শুরু হওয়া এসএ গেমসের ১৩তম আসরে বাংলাদেশ পেয়েছে আরও একটি সোনা, আকাক্সিক্ষত পদকটি ছিনিয়ে এনেছেন আল আমিন। খানিক পর বাংলাদেশের বহরে ফের সোনালি উৎসব, প্রথম নারী অ্যাথলেট হিসেবে এবার নেপালে সোনা জিতে সেই উৎসবের মধ্যমনি মারজান আক্তার প্রিয়া। এখানেই শেষ নয়, আগের দিন গেমসে বাংলাদেশকে প্রথম পদক এনে দেওয়া হোমায়রা আক্তার অন্তরা মঙ্গলবারের সকালটাকে আরও একবার সোনা রঙে রাঙিয়ে তোলেন।
একদিনেই তিনটি সোনার পদক, তাও আবার একটা ডিসিপ্লিন থেকে। দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এসএ গেমসে অতীতে এমন সোনায় রাঙা দিন কবে দেখেছে বাংলাদেশ? চট করে মনে করা কঠিন। তবে ২০১৬ সালে গোয়াহাটি আর শিলংয়ে অনুষ্ঠিত আগের আসরে যে এমন দিন আসেনি, সেটা অজানা নয় কারও। ওই গেমস থেকে বাংলাদেশের অর্জন ছিল ৪টি সোনা, এবার সমসংখ্যক সোনার পদক বাংলাদেশের পাশে জমা পড়েছে তৃতীয় দিনের সকালেই। বিকালে অবশ্য সংখ্যাটা বাড়েনি। হাই জাম্পে জাতীয় রেকর্ড গড়েও রুপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাহফুজুর রহমানকে। ফুটবলে এদিন জিততে জিততে মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করেছে জামালরা। তবে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুখবর দিয়েছে মেয়েদের ক্রিকেট।
কাঠমান্ডু আর পোখারায় রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা ওঠা এবারের এসএ গেমসে সোমবার বাংলাদেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দেন দিপু চাকমা। তায়কোয়ান্দো থেকে পদক এনে দেন তিনি। এদিন আল আমিন, মারজান আর হোমায়রা সোনার পদক জিতেছেন কারাতে থেকে। কাঠমান্ডুর সাতদাবাতোর আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে পুরুষ এককে অনূর্ধ্ব-৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে পাকিস্তানের ইকবাল জাফরকে ৭-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সেরা হন আল আমিন।
সেমিফাইনালে স্বাগতিক নেপালের প্রতিযোগীকে ৭-৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনার লড়াইয়ে নাম তুলেন ২৫ বছর বয়সি আল আমিন। সেই লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দেননি তিনি। নিজের এমন অর্জনে যারপরনাই আনন্দিত রাজশাহী থেকে উঠে আসা এই কারাতেকা, ‘এই আবেগ বলে বোঝাতে পারব না। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আমি কিছু নিয়ে আসতে পেরেছি, বিদেশের মাটিতে দেশের পতাকা তুলে ধরতে পারছি, এজন্য গর্ব হচ্ছে।’
একই সুরে কথা বললেন সোনার কন্যা মারজান। মেয়েদের অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পাকিস্তানের কৌসরা সানাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেন তিনি। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন, মারজানের চোখেমুখে তখন প্রাপ্তির উচ্ছ¡াস, ‘এই অনুভ‚তি আসলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আজ যতটা খুশি, এতটা খুশি আমি কখনও হইনি। এটা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, কেননা তার ইচ্ছেতেই আমি আজ এখানে।’
আগের দিন বাংলাদেশকে প্রথম পদক (একক কাতায় ব্রোঞ্জ) এনে দেওয়ার আনন্দ ছিল হোমায়রার, তবে পদকের রঙ বদল করতে না পারার আক্ষেপটাও ছিল। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা নিয়ে এই অ্যাথলেট জানিয়েছিলেন, নিজের পরবর্তী ইভেন্ট সোনা রঙে রাঙাবেন। রাঙিয়েছেনও। অনূর্ধ্ব-৬১ কেজি কুমির ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের প্রতিযোগী আনু গুরুংকে ৫-২ পয়েন্টে উড়িয়ে দেন তিনি। মেতে ওঠেন সোনা জয়ের উল্লাসে। নিজের অনুভ‚তি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যখন ম্যাটে উঠি তখন আমার দেশের পতাকার কথা মনে পড়েছিল। জাতীয় সঙ্গীত বাজবে। আমি চেয়েছি দেশের পতাকা উপরে তুলতে।’
হোমায়রার সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে আল আমিন আর মারজানের অনুপ্রেরণায়! সকালে দুই ইভেন্টে দুই সতীর্থের সোনা জয়ই অনুপ্রাণিত করেছিল তাকে, হোমায়রা সেটা বলে দিলেন এভাবে, ‘আল আমিন আর মারজানের স্বর্ণপদক দেখেই আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। আত্মবিশ^াস বেড়ে গিয়েছিল যে আমিও পারব। এই জয়টা আমি দেশকে উৎসর্গ করলাম।’
হোমায়রা-আল আমিনদের সোনালি সাফল্যে খারাপ কাটেনি বাংলাদেশের। এই রিপোর্ট তৈরি করা পর্যন্ত ৩টি সোনা, একটি রুপা আর ৭টি ব্রোঞ্জ পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দুদিনে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৪টি সোনা, ৩টি রুপা আর ২১টি ব্রোঞ্জ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]