ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি ও র‌্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ
দাবা দায়িত্বশীলতাও চিন্তা শেখায়
স্কুল দাবা প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৪.১২.২০১৯ ১:০২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 109

দাবা দায়িত্বশীলতাও চিন্তা শেখায়

দাবা দায়িত্বশীলতাও চিন্তা শেখায়

‘দাবা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা। কেননা দাবা খেলায় প্রতিটি ‘চাল’ দেওয়ার ক্ষেত্রেই চিন্তা করতে হয়। দাবা চিন্তাশীলতা ও দায়িত্বশীলতা শেখায়। তাই স্কুল পর্যায়ে দাবা খেলার প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করছি, যাতে করে স্কুলজীবনেই নিজের দায়িত্বশীলতা বা চিন্তাশীলতার বিকাশ ঘটানো যায়। এই দাবা শেখাবে ভুল করলে তার মাসুল বা দায়দায়িত্ব নিজেকেই বহন করতে। এটি করতে পারলে কেবল খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও দায়িত্বশীলতা বাড়বে।’
মঙ্গলবার বিকালে র‌্যাব ফোর্সেস সদর দফতরে নিজ কার্যালয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সময়ের আলোকে এ কথা বলেন সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সভাপতি ও র‌্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ। প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দাবা কাউন্সিলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি, যাকে বিভিন্ন সময় সবাই দেখে থাকেন জঙ্গি-সন্ত্রাস কিংবা মাদকের মতো ভয়াবহ অপরাধ দমনের লড়াকু এক দক্ষ-চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে। তিনিই এখন বুদ্ধিভিত্তিক খেলা ‘দাবা’র নিয়ন্ত্রক। তাও আবার গোটা দক্ষিণ এশিয়ার। এর আগে তিনি ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের দাবা ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি চার বছরের জন্য সাউথ এশিয়ান চেস (দাবা) কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই গতানুগতিক ধারার একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার ভেতরেও যে ক্রীড়াপ্রেম লুকিয়ে ছিল সেটিই প্রকাশ পেয়েছে তার দীর্ঘ আলাপচারিতায়। জানিয়েছেন, বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় দাবা খেলার উন্নয়ন ও করণীয় সংক্রান্ত একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা।
বেনজীর আহমেদ বলেন, দাবার ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। এটা নিয়ে আমাদের অনেক কাজ করারও আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে দাবা খেলার উন্নয়নে সরকারি বাজেট খুবই কম। সার্বিকভাবেই ক্রীড়া খাতে বাজেট আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় বর্তমানে ভালো স্পন্সর সহযোগিতা খুব প্রয়োজন। ক্রিকেট বা ফুটবলকে স্পন্সর, বাজেট বা মিডিয়া কাভারেজের ক্ষেত্রে যেভাবে সাপোর্ট দেওয়া হয়, দাবা কিংবা পিছিয়ে পড়া অন্যান্য খেলাকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এখানে গণমাধ্যমের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। অতিরিক্ত না হোক অন্তত যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় সেটাই আমার অনুরোধ।
বেনজীর আহমেদ বলেন, আগামী বছর ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গ্রান্ড মাস্টার’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এটি প্রস্তাবনা আকারে সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই বিভিন্ন দেশকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া বাংলাদেশে ‘চেস প্রিজন’ বা জেল দাবা চালু করার পরিকল্পনা আছে। কিছু রাষ্ট্রে এরই মধ্যে জেলখানায় দাবা খেলা চালু করা হয়েছে। এর উপকারিতা হলো, কোনো অপরাধীকে কারাগারে দাবা খেলা শেখানো হলে তার যে চিন্তাশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিধি বাড়বে তাতে করে সে বাইরে বেরিয়ে নতুন করে অপরাধ ঘটানোর আগে বারবার চিন্তা করবে। এই চিন্তার ফলে তার মধ্যে অপরাধপ্রবণতাও কমবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে ‘জেল দাবা’ কার্যক্রম চালুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে এটি চালু করা যেতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার দাবা উন্নয়ন নিয়ে ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, এ মুহূর্তে ভারতের পরই দাবায় বাংলাদেশ শীর্ষে অবস্থান করছে। বাংলাদেশিদের মেধার কমতি নেই। একটু নার্সিং করতে পারলে বা প্রশিক্ষণ করাতে পারলেই বাংলাদেশও সুপার পাওয়ার গ্রান্ড মাস্টার পেতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার যেসব দেশ দাবা খেলায় পিছিয়ে রয়েছে সেসব দেশের দাবা ফেডারেশনের সঙ্গে আলাপ করে নানা প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, এ মুহূর্তে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামীতেও ঢাকায় আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। তবে সবকিছুই অর্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন খেলায় স্পন্সর করে থাকে তাদের দাবার উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহŸান জানাচ্ছি। এই দাবাসহ খেলাধুলার প্রসার ঘটানো গেলে সমাজে অপরাধ কমে আসবে। খেলাধুলায় মনোনিবেশ থাকলে সামাজিক অপরাধ থেকে কিশোর-যুবকরা পরিত্রাণ পাবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ও মাদকসহ এ ধরনের অপরাধ থেকে একমাত্র খেলাধুলাই যুবসমাজকে দূরে রাখতে পারে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে অনেক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে পাঁচজন গ্র্যান্ড মাস্টার, চারজন আন্তর্জাতিক মাস্টার, তিনজন মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার, ১৪ জন ফিদে মাস্টার, সাতজন মহিলা ফিদে মাস্টার, ১৩ জন ক্যান্ডিডেট মাস্টার, তিনজন মহিলা ক্যান্ডিডেট মাস্টারসহ ১৪০০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক রেটিংপ্রাপ্ত খেলোয়াড় রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিশ^ দাবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করছে। ২০১৭ সালে এশিয়ান জোনাল দাবায় সাফল্য অর্জনের জন্য ১৪ জন খেলোয়াড়কে (পুরুষ ও মহিলা) অর্থ পুরস্কার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]