ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

আমদানি ছবিও মুখ থুবড়ে পড়ছে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 29

দেশি ছবি মুক্তি কমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে আমদানি ছবিকেই বেছে নিয়েছেন হল মালিকরা। কলকাতার প্রসেনজিৎ, জিৎ, দেবের মতো নামিদামি তারকারাও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে পারছেন না। কলকাতার ছবিগুলোর প্রতি দর্শকের আগ্রহ নেই বললেই চলে। আমদানি ছবিগুলো ব্যবসা না করায় হতাশ হল মালিকরা। বিস্তারিত লিখেছেন নিপু বড়ুয়া

একের পর এক আমদানিকৃত সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ বছর ১০টি আমদানি ছবি মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি ছবিই ব্যবসায়িক। সর্বশেষ ঘটা করে মুক্তি পাওয়া কলকাতার ‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমাটি ভালো ব্যবসা করতে পারেনি। এই ছবির প্রচারণায় ঢাকায় এসেছিলেন দেব-রু´িনীসহ আরও অনেকে। মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছেÑ দর্শকশূন্য সিনেমা হল! ডিসি প্রতিটি শো ফাঁকা। হল কর্তৃপক্ষ জানান, এই ছবি দেখার আগ্রহ দেখছি না দর্শকদের। খুবই খারাপ অবস্থা।
কয়েক বছর ধরেই দুই বাংলায় চলচ্চিত্রে ব্যবসায়িক মন্দাভাব চলছে। কোনো ছবিই ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। মন্দাভাব কাটাতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন প্রযোজকরা। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি অর্থাৎ ‘সাফটা’ চুক্তির আওতায় দুই দেশে চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়া শুরু করেন চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীরা। দুই দেশের মধ্যে ছবি বিনিময়ের পরেও সিনেমা হলগুলো দর্শক খরায় ভুগছে। আমদানি ছবি থেকে কিছুই পাচ্ছে না চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীরা।
দেব-রু´িনী অভিনীত ‘পাসওয়ার্ড ছবির আগে মুক্তি পায় কলকাতার ছবি ‘জানবাজ’। পশ্চিমবঙ্গের নায়ক বনি সেনগুপ্ত ও নায়িকা কৌশানী মুখার্জি অভিনীত এ সিনেমা ৪০ হলে মুক্তি দিয়েছে ঢাকার হার্টবিট প্রোডাকশন। বিনিময়ে এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাহিয়া মাহি অভিনীত ‘মনে রেখো’ সিনেমাটি ওপার বাংলায় রফতানি করা হয়। রাজধানীর আনন্দ সিনেমা হলে গিয়ে জানা গেছে, ঈদ ছাড়া এখন সিনেমা হলে দর্শক যায় না। দেশীয় ছবি যাও চলে, কলকাতার ছবির প্রতি আমাদের দর্শকদের আগ্রহ একেবারেই নেই। দেশীয় ছবি না পেলেই কলকাতার ছবি মুক্তি দেওয়া হয়। রাজধানীর অন্যান্য সিনেমা হলের চিত্রও একই।
এর আগের সপ্তাহে বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছিল জয়া আহসান অভিনীত কলকাতার ছবি ‘কণ্ঠ’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা হলেও মুক্তির পর দর্শক সাড়া ফেলেনি। অথচ বাংলাদেশে নির্মিত জয়া আহসান অভিনীত ‘দেবী’ ছবিটি দর্শকরা লুফে নিয়েছিল। ২২টি সিনেমা হলে ‘কণ্ঠ’ ছবিটি মুক্তি দেয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। বিনিময়ে ওপারে পাঠানো হয় জয়া আহসান অভিনীত ‘খাঁচা’ ছবিটি। ১১ অক্টোবর বাংলাদেশে মুক্তি পায় ‘বচ্চন’। রাজা চন্দ পরিচালিত কলকাতার সিনেমাটির আমদানিকারক ইন উইন এন্টারপ্রাইজ। জিৎ অভিনীত সিনেমাটি মন্দের ভালো ব্যবসা করেছে। সাফটা চুক্তিতে আমদানি করা এই ছবিটির বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তির সুযোগ পায় বাপ্পি-মাহিয়া মাহি জুটির ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’।
২৯ জুন মুক্তি পেয়েছিল কলকাতার ছবি ‘ভোকাট্টা’। ওম অভিনীত ছবিটির রীতিমতো ভরাডুবি ঘটেছিল। ১২ জুলাই মুক্তি পেয়েছিল দেব অভিনীত ‘কিডন্যাপ’ ছবিটি। পরের সপ্তাহে মুক্তি পায় জিৎ ও কোয়েল মল্লিক অভিনীত কলকাতার ছবি ‘শেষ থেকে শুরু’। কলকাতার দুটি সিনেমা আমদানি করেছে শাপলা মিডিয়া। পর পর দুটি ছবিই মুখ থুবড়ে পড়ে। ২৬ জুলাই অঙ্কুশ ও নুসরাত ফারিয়া অভিনীত ‘বিবাহ অভিযান’। ২ আগস্ট সোহম, ওম ও শ্রাবন্তী অভিনীত ‘ভূতচক্র’। এই ছবিগুলোও ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ।
উৎসবগুলোতে দেশীয় ছবি ব্যবসা করলেও আমদানি ছবি একেবারেই ব্যবসা করতে পারছে না। কলকাতার সুপারস্টারের সিনেমা দিয়েও দর্শকদের সিনেমা হলে আনতে পারছেন না প্রদর্শকরা। এই পরিস্থিতিতে হল মালিক ও প্রযোজকরা বেশ হতাশায় ভুগছেন।
কলকাতার ছবি হলেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দর্শকরা। আমদানি করা ছবিগুলোর মধ্যে শাকিব খান অভিনীত ‘ভাইজান এলো রে’ ও ‘চালবাজ’ অনেকটা ব্যবসা করেছে। সে সময় প্রসেনজিৎ অভিনীত ‘ইয়েতি অভিযান’ ও জিৎ অভিনীত ‘সুলতান’ও ব্যবসা করেনি। আমদানিকারকেরা বলছেন, ২০১০ সালের পর যতগুলো ছবি বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে দুয়েকটি ছাড়া সব ছবিই মুক্তির দুই-তিন দিনের মাথাতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইন উইন এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, আমদানি নীতিমালা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের দাফতরিক কাজ সেরে ছবি আনতে মাসখানেক সময় লাগছে। তত দিনে এসব ছবির ভারতে মুক্তির বয়স হয়ে যাচ্ছে ২-৩ মাস। এই লম্বা সময়ের ফাঁকে পাইরেসি হয়ে যাচ্ছে ছবি। বেশ কয়েকটি ছবি আমদানি করেছেন প্রযোজক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া। তিনি হতাশা নিয়ে বলেন, যে ছবিটি আমদানি করা হচ্ছে, ভারতের মুক্তির প্রথম দিনই যদি এখানেও ছবিটি মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া করা হয়, তাহলে আমদানি করা ছবিগুলো ব্যবসা সফল হতে পারে। তা ছাড়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ থেকে যে ছবিগুলো সাফটা চুক্তিতে কলকাতায় পাঠানো হয়, সেই ছবিগুলো কি ঠিকমতো প্রদর্শিত হয়। এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]