ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

আলু রফতানিতে আরও দুই বছর প্রণোদনা প্রয়োজন : কৃষিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আলু রফতানিতে আরও দুবছর প্রণোদনা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, রফতানি উপযোগী আলুর জন্য কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও টিস্যু কালচারে যেতে হবে। এই শিল্পকে লাভবান করতে বিএডিসি এখন থেকে শুধু বীজ উৎপাদন নয় আগামীতে আলু রফতানি করবে। বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলু রফতানির বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় আলু উৎপাদনকারী, রফতানিকারক ও আলুবীজ উৎপাদনকারীরা অংশ নেন। এছাড়া সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থার প্রধান, কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলু রফতানিতে প্রণোদনা নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আলু রফতানিতে ২০ শতাংশ প্রণোদনা দেই। এ বিষয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তা করছি। উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করব। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য ও ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রণোদনা দুয়েক বছর বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। বাজারে প্রবেশের পর তা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া আলু রফতানির উদ্দেশ্য আমদানিকারকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অ্যাক্রিডেটেড ল্যাব স্থাপন করবে। বারি এ পর্যন্ত ৯১টি আলুর জাত অবমুক্ত করেছে। আলু প্রসেসিং করে রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে।
‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিপসের জন্য আলুর জাত আবাদ করতে হবে। আলু প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে রফতানির মাধ্যমে এই শিল্পকে লাভবান করতে হবে। এজন্য আমাদের রফতানি উপযোগী আলু পেতে হলে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে যেতে হবে। সরকার যে রফতানি উপযোগী আলুর বীজ অবমুক্তির সময়সীমা তুলে নিয়েছে, এখন যে কেউ রফতানি উপযোগী আলুর জাত আবাদ করতে পারবে। তবে রোগ-বালাইয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান তদারকি করবে। যেকোনো মূল্যে আলু রফতানি করতে হবে। এ ব্যাপারে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে এ শিল্পটিকে লাভজনক করতে হবে। আলুর উৎপাদন বছরে ৫-১৯ শতাংশ হারে বাড়ছে।’ কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আলু রফতানির জন্য যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা পূরণ করে রফতানির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আরও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে।
কোল্ডস্টোরেজ নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভালো কোল্ডস্টোরেজ নেই, যেটা দিয়ে আলুর গুণাগুণ অক্ষুণ্ন রাখা যায়। কোল্ডস্টোরেজ করার জন্য কেউ যদি এগিয়ে আসে তা হলে সরকার তাদের দেখবে। আর বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা টিসস্যু কালচারের ওপর গুরুত্ব দেব। এজন্য বিএডিসিকে বলব, তারা টিস্যু কালচার করবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বছর আমাদের আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ টন। আমাদের বাৎসরিক চাহিদা ৭০-৮০ লাখ টন। সে হিসেবে আমাদের ৩০ লাখ টন অতিরিক্ত থাকে। এ আলু কীভাবে বাজারজাত করতে পারি এবং যারা কৃষক বা উৎপাদনকারী তারা যেন ভালো দাম পায় সে নিশ্চয়তা আমাদের দিতে হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পাকিস্তানের আলুর মূল্য কম হওয়ায় তারা বাজার দখল করে রেখেছে, সেক্ষেত্রে কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে। পরিবহন খরচ কমাতে হবে। আর আলু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় দাম না পেয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ এবং সংরক্ষণ প্রযুক্তির সহজলভ্যতার অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানিকারক দেশ যেসব শর্ত দিয়েছে তা মেনে ফাইটো স্যানিটারি সার্টিফিকেট বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট (পিসি) নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]