ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

রেলওয়ে সেবা সপ্তাহ শুরু
তদারকি বাড়ুক, আরও যাত্রীবান্ধব হোক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

রেলওয়ে সেবা সপ্তাহ শুরু হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও যাত্রীবান্ধব হতে পারেনি রেলওয়ে। যাতায়াত ব্যবস্থার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন হচ্ছে রেল। এর প্রতি সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ কম আমরা তা মনে করছি না। তারপরও রেলওয়ে যাত্রীসেবা মানসম্মত করতে পারছে না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে রেলওয়ে যাত্রীসেবা ঈর্ষণীয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় তাদের রেলওয়ে এখন রোল মডেল। বিগত সময়ে রেলকে নিয়ে যে পরিমাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হতো, তাহলে আজ এ প্রশ্নগুলো জনমনে আসত না। বিনিয়োগ বাড়লেও রেলের সেবার মান বাড়েনি। ট্রেনে বিনা টিকেটের যাত্রীদের ভিড়, টিকেটপ্রাপ্তিতে কোটার বিড়ম্বনা, টিকেট কেটেও নির্ধারিত আসন না পাওয়া, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের যন্ত্রণা তো আছেই। এখনও রেলের সময়সূচির ঠিক নেই। ছোট-বড় দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে। বরং অনিয়ম আর ভোগান্তি নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই। রেলের কোনো অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে গেলে কোনো ফল মেলে না। অভিযোগ করে নাজেহাল হয়েছে এমন যাত্রীর সংখ্যা অনেক। যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক ঘটনা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।রেলের উন্নয়নে বিগত ৫ বছরে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮টি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যার অনেক বাস্তবায়িত হয়েছে, কয়েকটি বাস্তবায়নাধীন। এ ছাড়া রেলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং রেলকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানও গৃহীত হয়েছে। গত ৫ বছরে ১৪টি নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। আমদানি করা হয়েছে ২৭০টি বিলাসবহুল কোচ। আরও কোচ আসছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। বরং এই সময়ে রেলের ভাড়া বেড়েছে দুবার। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রেলওয়ের লোকসানও।
গত পাঁচ বছরে রেলওয়েতে লোক নিয়োগ কম নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের চিনকি আস্তানা থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথ সংস্কারের কাজ শেষ। এদিকে টঙ্গী-ভৈরব পথের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে। চীন থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় ২০টি ডেমু কেনা হয়েছে।
রেলের নথিপত্রে আন্তঃনগর ট্রেনের ৯০ শতাংশই সময় মেনে চলছে বলে দেখানো হয়েছে। আসলে ট্রেনের চলাচলের সময় সমন্বয় করে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ট্রেন লাইনচ্যুত হলে পুরো সপ্তাহের চলাচলের সময়সূচি বিঘ্ন ঘটে। তখন চৌদ্দ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ট্রেন চলাচলের রেকর্ডও আছে। এ রকম শিডিউল বিপর্যয় হরহামেশাই হচ্ছে। বিগত অতিনিকট সময়ে বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। প্রাণহানির সংখ্যা কম নয়। রেলে দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশই ঘটে লাইনচ্যুতির কারণে। বিগত বছরে রেলের পূর্বাঞ্চলেই ৫৬টি লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। ওই বছর সারা দেশে শতাধিক একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এভাবে লাইনচ্যুতির ঘটনাকে স্বাভাবিকই মনে করেন রেলের অনেক কর্মকর্তা। অথচ এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এ ছাড়া ১৯৪৩ সালে রেলওয়ে সংশোধন আইনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর প্রাণহানি, শারীরিক ক্ষতি, মালামাল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ আমরা ব্রিটিশ আমলের রেল আইনে রয়ে গেছি।
ঢাকার বাইরের স্টেশনগুলোয় কালোবাজারে টিকেট বিক্রি বহুদিন ধরেই ওপেন সিক্রেট। ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনেও প্রকাশ্যে কালোবাজারে টিকেট বিক্রি হয়। কমলাপুরসহ দেশের বেশিরভাগ স্টেশনে বিশ্রামাগারে কোনো পরিবেশ নেই। কোথাও কোথাও বাথরুমও নেই। কোনো কোনো স্টেশনে বাথরুম থাকলেও পানি থাকে না। বেশিরভাগ স্টেশনে প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার খোলা থাকে না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা খেয়ালখুশিমতো আসে-যায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রেল সপ্তাহকে সামনে রেখে রেলমন্ত্রী বলেছেন, রেলব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার রেলকে একটি মানসম্মত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শিগগিরই দেশের মানুষ সুফল পাবে।
আমরাও বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি আধুনিক এবং সুব্যবস্থাপনাময় যাত্রীসেবার মাইলফলক সংস্থা হিসেবে দেখতে চাই। সরকারও সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। দরকার শুধু দুর্নীতিমুক্ত তদারকি।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]