ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

উন্নয়নেও প্রয়োজন গণতন্ত্রের ছোঁয়া
শহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

সমাজ ও সভ্যতা পরিবর্তনশীল। সেই সঙ্গে পরিবর্তনশীল ভৌগোলিক পরিবেশে। কোনো এলাকার টপোগ্রাফি পরিবর্তন অর্থাৎ এলাকার খালবিল নদীনালা পরিবর্তনের সঙ্গে সেই এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর চিন্তাভাবনারও পরিবর্তন হয়। যেহেতু ধর্ম বৃহত্তর সংস্কৃতিরই অঙ্গ, তাই সংস্কৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেরও পরিবর্তন হয়। আবার কেউ যখন ধর্মান্তরিত হয়, এক ধর্মে বিশ^াসী মানুষ যখন অন্য আর একটি ধর্ম গ্রহণ করে, সে তার আগের ধর্ম পরিত্যাগ করলেও, আগের সংস্কৃতি সহজে পরিত্যাগ করতে পারে না। ইচ্ছা থাকলেও পারে না। তার পুরনো ধর্ম সংস্কৃতির অনেক রীতিনীতি তার মধ্যে অব্যাহত তাকে অনেকদিন বা কয়েক প্রজন্ম ধরে। এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ আমাদের হাতের কাছেই আছে। প্রায় দুই বছর আমি গোপালগঞ্জে বসবাস করেছি। গোপালগঞ্জে সনাতন ও ইসলাম ধর্মের মানুষ বাস করে। গোপালগঞ্জ একসময় বৃহত্তর বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই জেলায় (বরিশাল) দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিম। এই বিপুলসংখ্যক মুসলমান এখানে এলো কি করে? এর ওপর অনেকেই গবেষণা করেছেন। ১৮৭২ সালের প্রথম আদমশুমারি রিপোর্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আমি ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত এইচ রেভারেজ বিসিএসের বই থেকে সামান্য উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করব। তিনিও ১৮৭২ সালে প্রথম আদমশুমারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু এমন একসময় ছিল যখন এ অঞ্চলে মুসলমানের সংখ্যা এত ছিল না। মি রেভারেজ ১৮৭২ সালের আদমশুমারি রিপোর্টে লিখছেন, ‘...বাংলায় মুসলমানদের সংখ্যাধিক্যের কারণ জাতিভেদ প্রথার কারণেই এদেশের আগের অধিবাসীরা ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছে।’ নিজেদের অবদমিত অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের আশায় নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ব্যাপক হারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে এসে স্থায়ী হয়। কিন্তু ধর্ম পরিত্যাগ করে তাদের কতটুকু লাভ হয়েছিল, সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা না করেও বলা যায় তাদের আগের ধর্মীয় অভ্যাসগুলোর অনেকটাই তাদের চেতনায় রয়ে যায়। রেভারেজ বলছেন, ‘মুসলমানরা তাদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বহু সংখ্যক হিন্দু রীতিনীতি গ্রহণ করেছে।’

উনিশ শতকে ধর্মান্তরিত মুসলমানদের জীবন থেকে অমুসলিম ওইসব সংস্কৃতির প্রভাব দূর করার জন্য এ দেশে ফরায়জি আর ওয়াহাবি আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু সেই শুদ্ধি অভিযানে খুব একটা লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না। আজও মুসলমানরা ইসলাম পূর্ব সংস্কৃতির অনেক কিছুই তাদের অজান্তেই লালন করে। এ অঞ্চলে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। যারা ছিলেন তারাও দেশভাগের পর দেশ ত্যাগ করেন। এবারে গোপালগঞ্জে আমার দুই বছরের অভিজ্ঞতার কথায় ফিরে আসি। অতীতকাল থেকে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর বরিশাল জেলায় বাইরের জেলাগুলো থেকে আগত নিম্ন শ্রেণির হিন্দুরা এখানেই খালবিল নদীর ওপর নির্ভর করে স্থায়ী হয়। কিন্তু বাইরে থেকে কোনো পদস্থ সরকারি-বেসরকারি মানুষ এসে এখানে থাকতে চায়নি। ইংরেজ সরকারি বা বেসরকারি অফিসাররা এখানে এসেই বদলি নিয়ে অন্য কোনো স্থানে চলে যেতে চাইতেন। এখনও ব্যতিক্রম দেখি না। এর ফলে বাইরের সংস্কতির প্রভাব এখানে ক্ষীণ। সংস্কৃতির লেনদেন হয়েছে কম। এখানকার মানুষ সাধারণভাবে সহজ-সরল জীবনযাপনে আজও অভ্যস্ত বলেই আমার মনে হয়েছে। পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্ক এবং বুর্জোয়া সংস্কৃতি এখানে তেমন লক্ষণীয় নয়। যারা আধুনিক শিক্ষা লাভ করেছেন, তাদের ধরে রাখার মতো কোনো সুযোগ এখানে নেই। তাই তারা তাদের জন্মস্থানে স্থিত হতে পারেননি। ঢাকাসহ বাইরের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি বিদেশে গিয়ে স্থায়ী হয়েছেন।
এর ফলে স্থানীয় সাংস্কৃতিক মান, দীর্ঘদিন ধরে, বলা যায় অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর মুসলমানরা যখন শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তখন তারা তাদের অর্থনৈতিক ভীত যতটা শক্ত করতে পেরেছেন, সংস্কৃতি নির্মাণে ততটাই ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কৃতির সঙ্গে শিক্ষার যোগাযোগ প্রত্যক্ষ। কিন্তু সেই শিক্ষা লাভ করে যারা এখানে উন্নত সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারতেন, তারা বাইরে চলে যান। ধরে রাখার মতো প্রতিষ্ঠান এখানে অনুপস্থিত ছিল। ফলে বাঙালি সংস্কৃতি নির্মাণে তারা তেমন অবদান রাখতে পারেননি। তাই এখানকার হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ধর্ম-বিশ^াস যতটা প্রবল, বাঙালি
সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ যেন ততটাই কম। অথচ রেভারেজ বলছেন, ‘হিন্দু বা মুসলিম হওয়ার আগে তারা বাঙালি ছিল, সাধারণভাবে গোটা বিশ্বের দিক থেকে তাদের ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হচ্ছে, তারা বাঙালি জাতির অন্তর্ভুক্ত।’ কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ এ দেশের মুসলমান জনগোষ্ঠীকে বাঙালি হওয়ার চাইতে মুসলমান হওয়ার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করে। তাদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও বাঙালি
সংস্কৃতির প্রতি এক বৈমাত্রসূলভ মনোভাবের জন্ম দেয়। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জয়লাভ সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি মনোভাবের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়েছে, দাবি করার সাহস খুঁজে পাওয়া যায় না।
বাঙালি সংস্কৃতির যে হতচ্ছাড়া চেহারা এখানে লক্ষ করা যায়, তা সবাইকে পীড়িত করে। আমরা যে আজও পাকিস্তানি ভাবাদর্শ, ধর্মীয় সংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি, এটা আমি এখানে এসে ভালোভাবে উপলব্ধি করছি। এখানে দুই বছর বাস করার এটাই আমার বড় অভিজ্ঞতা। তাই শুরুতেই যে কথাটি বলতে চেয়েছিলাম, সেই কথায় ফিরে আসি। ধর্ম, সংস্কৃতির এক শক্তিশালী উপাদান এ কথাটি সত্য, কিন্তু তা কখনও বৃহত্তর বাঙালি
সংস্কৃতির প্রতিপক্ষ হতে পারে না। ধর্ম ও বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে কোনো সংঘাত থাকতে পারে না যদি না সে ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। এ প্রসঙ্গে মোতাহার হোসেন চৌধুরীর লেখা ‘সংস্কৃতির কথার’ প্রথম বাক্যটির কথা মনে পড়ে গেল। ধর্ম ও সংস্কৃতির কোনো পৃথক অস্তিত্ব থাকতে পারে না। উচ্চ শ্রেণির হিন্দু পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ করেন কিন্তু উচ্চ শ্রেণির মুসলমান খুব কমই সে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ফলে একই শ্রেণির হিন্দু ও মুসলমানের চিন্তাচেতনার মধ্যে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়, এ কথা রেভারেজ তার বইতে লিখেছেন। পার্থক্য তৈরি হয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে। শিক্ষাই মানুষকে নিম্নতর সংস্কৃতি থেকে উচ্চস্তরের সংস্কৃতির দিকে নিয়ে যায়। তাই মোতাহার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত লোকের ধর্ম।’ সংস্কৃতিবান উচ্চশিক্ষিত মানুষের দেশ ত্যাগ এ অঞ্চলের বেশ ক্ষতি সাধন করেছে।
৩.
গোপালগঞ্জের সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর জন্ম মাত্র ২০১০ সালে। আমি বিশ্বাস করি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের স্থবির সমাজ ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে। ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ নামটিই প্রমাণ করে এটি কোনো আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। এটা বিশ্বের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেই নয় শুধু, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও পণ্ডিত ব্যক্তিদের এখানে আগমন ঘটবে। শিক্ষায় নিয়োজিত দেশ-বিদেশের ছাত্র-শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের একটা কেন্দ্র স্থাপিত হলো এখানে। কিন্তু তার ফল ঘরে তুলবে গোপালগঞ্জবাসী। যত বেশি বিদেশিদের এখানে আগমন ঘটবে, এখানে স্থায়ী হয়ে বসবাস করবে, তত বেশি এ অঞ্চলে আলোর দীপশিখা উজ্জ্বলতর হবে। এই প্রতিষ্ঠানটি যেন সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে তার জন্য গোপালগঞ্জবাসীর মধ্যে একটা ধনাত্মক মনোভাব গড়ে উঠবে এবং তা স্থায়ী হবে। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফল সবচেয়ে বেশি গোপালগঞ্জবাসীর ঘরেই উঠবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যত বেশি পণ্ডিত ব্যক্তিদের এখানে টানা যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে এ অঞ্চল ততই সমৃদ্ধ হবে। উন্নত বাঙালি সংস্কৃতি ততই প্রসার লাভ করবে। এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে দেশ-বিদেশের বড় বড় মানুষের যোগাযোগ ঘনিষ্ঠতর হবে। উভয়পক্ষের দৃষ্টি হবে প্রসারিত। আশা করা যায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ঘিরে এখানে একটি বাঙালি এলিট শ্রেণি গড়ে উঠবে, যারা এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। তার কিছু কিছু আলামত ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। তার জন্য প্রয়োজন স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন।
গোপালগঞ্জে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম চক্ষু হাসপাতাল। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই হাসপাতালটি এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম চক্ষু হাসপাতাল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ এখান থেকে নিয়মিত সেবা গ্রহণ করছে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারসহ ছাত্রছাত্রীদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠার বড় সুযোগ রয়েছে গোপালগঞ্জের। তারপরও একটা ‘চিন্তা’ থেকেই যায়। কারণ এখনও এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অনেক অভাব। তাই ঢাকা থেকে মাত্র ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গোপালগঞ্জে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান মানুষ স্থিত হতে পারছে না। গোপালগঞ্জে রেলস্টেশন ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই সেতুটির নির্মাণকাজের সমাপ্তির মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে গোপালগঞ্জবাসীর যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সে ক্ষেত্রে ঢাকার মতো উন্নত স্কুল, হাসপাতালসহ অন্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অভাবে শিক্ষিত সংস্কৃতিবান মানুষের গোপালগঞ্জ ত্যাগের হার বাড়বে বই কমবে না। কারণ এতে করে গোপালগঞ্জের সরকারি কর্মকর্তাদেরও পরিবার-পরিজন ঢাকায় রেখে ঢাকা-গোপালগঞ্জ যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। সে সুযোগ কোনো কর্মকর্তাই ছাড়বে না। ফলে উন্নত সেবা প্রতিষ্ঠানের অভাবে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন গোপালগঞ্জের শিক্ষা সাংস্কৃতির জগতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে বলেই আমার মনে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেমন গোপালগঞ্জবাসীর ওপর প্রভাব ফেলবে, তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে ভালো ছাত্রছাত্রীদের ধরে রাখার মতো অবকাঠামো গড়ে না তুললে সেসব ছাত্রছাত্রীরা গোপালগঞ্জ ছেড়ে ঢাকাসহ বিদেশে পাড়ি জমাবে। এ শিক্ষা শুধু গোপালগঞ্জবাসীর জন্য সত্য নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্যই।
ঢাকাকেন্দ্রিক প্রশাসনিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সমগ্র বাংলাদেশের ক্ষতিই করছে বেশি। তাই ঢাকাকেন্দ্রিকতার বেড়াজাল ভেঙে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ভাবনা-চিন্তা করা জরুরি। যোগাযোগের সুবিধার জন্য ঢাকা থেকে অনেক দূরের যেকোনো শহরে স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাসে পাঁচ-ছয় দিনের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকছেন না। ঢাকায় থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন বহুদূরের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এটা শুধু বিশ^বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই নয়, অন্য দিকেও সত্য। বিশ^বিদ্যালয়ের মনকাড়া উপাচার্য ভবনে উপাচার্যদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। আশা করি সরকার এ দিকটায় নজর দেবে। উন্নয়নেও প্রয়োজন গণতন্ত্রের ছোঁয়া।

শিক্ষাবিদ, সাবেক অধ্যাপক
     রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]