ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

মালদ্বীপকে ব্যবধান বোঝাল সৌম্যরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

ক্রিকেট বিশে^ বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানিয়া এক দল। সেখানে মালদ্বীপে যে ক্রিকেট খেলা হয়, এটাই তো অজানা অনেকের! এসএ গেমসের কল্যাণে জানা গেল তা। জানা গেল ক্রিকেট আঙিনায় মালদ্বীপ নিতান্তই এক শিশু। শৈশব, কৈশর পেরিয়ে যৌবনে পা রাখা বাংলাদেশ তাদের থেকে বিস্তর এগিয়ে। কতটা এগিয়ে বুধবার সেই ব্যবধানটাই মালদ্বীপকে বুঝিয়েছে সৌম্য সরকার-নাজমুল হোসেন শান্তদের দল।
নেপালের কাঠমান্ডু আর পোখারায় চলমান এসএ গেমসের ত্রয়োদশ আসরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট দলের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। সোনা জয়ের মিশনে প্রথম ধাপেই মালদ্বীপকে ১০৯ রানে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। দুর্বল-অনভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সৌম্য-নাঈম, শান্তদের ব্যাটে প্রত্যাশিত ঝড় না উঠলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৭৪ রানের বড় পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে তানভীর ইসলামের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে মালদ্বীপ গুটিয়ে যায় ৬৫ রানে। পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে বড় জয় এনে দেন স্পিনার তানভীর, নিজের করে নেন ম্যাচসেরার খেতাব।
২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হয় ক্রিকেট। সেবার সোনা জিতেছিল মোহাম্মদ মিঠুনের
নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। সবশেষ আসরে ক্রিকেট ছিল না, এবারের আসরটি তাই সৌম্য-শান্তদের সামনে এসেছে সোনা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ হয়ে। আফিফ, নাঈম, ইয়াসির, জাকিরদের মতো পরিচিতদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী বাংলাদেশ দলই নেপালে গেছে। সেই দলটার সামনে মালদ্বীপ পাত্তা পাবে না, সেটা অনুমিতই ছিল। বুধবার ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট মাঠে সেই অনুমানটাকেই বাস্তবরূপ দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার নাঈম শেখ আর সৌম্য। ৭.২ ওভারে এই জুটি তোলে ৫৯ রান। দুই ওপেনারের মধ্যে তুলনামূলক আগ্রাসী ব্যাটিং করা নাঈমকে রানআউটের ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন মোহামেদ মাহফুজ। ৪টি চার আর একটি ছক্কায় ২৮ বলে নাঈম করেন ৩৮ রান। অধিনায়ক শান্তকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এরপর দলকে আরও কিছুটা টানেন সৌম্য। তাদের ৩৬ বলের জুটিতে আসে ৫৩ রান। ওই জুটি গড়ার পথে হাফসেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছিলেন সৌম্য। কিন্তু ৩৩ বলে ৪টি চার আর দুটি ছক্কায় ৪৬ রান করে এই বাঁহাতি থামেন মাহফুজের বলে।
১৩.৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের ঝুলিতে যখন ১১২ রান জমা, তখন ক্রিজে আসা আফিফ হোসেন মালদ্বীপের বোলারদের ওপর চড়াও হন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৯ বলে একটি করে চার আর ছক্কায় ১৬ রান করে স্টাম্পড হন আজিয়ান ফারহাতের বলে। শেষদিকে ইয়াসির আলী (১২*) আর জাকির হাসান (৪*) ঝড় তুলতে পারেননি। হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া দলপতি শান্ত ফেরেন ইব্রাহিমের করা ইনিংসের ২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে। ৩৮ বলে ৪৯ রান করেন শান্ত। দলকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েই ফেরেন তিনি।
তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকেছে মালদ্বীপ। রান তোলার গতি ছিল মন্থর, পুরো ২০ ওভার ক্রিজে কাটিয়ে দেওয়াই যেন লক্ষ্য ছিল তাদের। সেই লক্ষ্যটাও পূরণ হতে দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। ৬৫ রানে যখন অলআউট হয় মালদ্বীপ, তখনও ইনিংসের ৪ বল বাকি। রান তাড়ায় প্রথম চার ওভার ভালোভাবেই পার করে মালদ্বীপ। এরপরই শুরু তানভীরের দাপট। ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। দুটো করে উইকেট নিয়েছেন মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি আর আফিফ। একটি উইকেট গেছে সৌম্যর ঝুলিতে। তাদের দারুণ বোলিংয়ে দুই ওপেনার আহমেদ হাসান (১০) আর আলি ইভান (১২) ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]