ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পাস হলো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
কলকাতা সংবাদদাতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 12

ভারতের বহুল সমালোচিত ও বিতর্কিত ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল’ অবশেষে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পাস হয়ে গেল। বুধবার দেশটির মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই আইন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে চায়। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাড়ি জমানো মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে এই বিলে কিছুই বলা হয়নি।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-২০১৬ গত লোকসভায় পাস করাতে ব্যর্থ হয় দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার। পরে সংসদের একটি যৌথ কমিটি দ্বারা বিলটির তদন্ত হয়েছিল। দেশটির মন্ত্রিসভায় বিলটি অনুমোদন পাওয়ায় আগামী সপ্তাহে তা সংসদে উঠতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভারতের বিতর্কিত এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আসামসহ দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। কিন্তু দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল এটির বাস্তবায়ন।
বিলটি সংসদের উচ্চকক্ষে পাস হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে পাড়ি জমানো হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানরা ভারতীয় নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত হবে। সংসদে এই আইন পাস হলে এসব শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য দেশটির ১৯৯৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হবে। ১৯৫৫ সালের সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট সংশোধন করতেই ওই বিল আনা হচ্ছে। এই বিল অনুযায়ী পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে আসা সেই দেশের সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষরা এদেশে ৬ বছর থাকলেই নাগরিকত্ব পাবেন। আগে এই সময়সীমা ছিল ১২ বছর। নাগরিকপঞ্জির মতো এই বিলেরও বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া যায় না। বিরোধীদের বক্তব্য ছিল ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করা হচ্ছে।
এবার সংসদে যদি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়ে যায়, তবে বিজেপির পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে কী পদ্ধতিতে প্রচার করা হয়, সেটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়েই বিজেপির অ্যাজেন্ডা ছিল নাগরিকপঞ্জি তৈরি করা। আসামে সেই নাগরিকপঞ্জি তৈরির পরই ক্ষোভ শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। কারণ নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন কয়েক লাখ হিন্দু। বিরোধীদের দাবি ওইসব মানুষদের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতেই আনা হচ্ছে এই বিল। কারণ বিজেপি প্রকাশ্যেই বলে আসছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া হিন্দুদের কোনো চিন্তা নেই। তাদের নাগরিকত্ব দিতে আনা হচ্ছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]