ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০

পঙ্গপাল কাহন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০, ১১:৪০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 38

মহামারি বা দুর্ভিক্ষের সঙ্গে পঙ্গপালের গভীর সম্পর্ক। ইতিহাসের সেই ধারা আজও রয়ে গেছে। করোনা-মহামারির পর দেশে দেশে হানা দিচ্ছে পঙ্গপাল বাহিনী। এই পঙ্গপাল আসলে ঠিক কী ধরনের পতঙ্গ? যারা আকাশ অন্ধকার করে ধেয়ে এসে শেষ করে ক্ষেতের পরে ক্ষেতের ফসল। আসলে পঙ্গপাল কোনো নির্দিষ্ট পতঙ্গ নয়। বরং বহু ধরনের কীট একসঙ্গে দলবেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ করে। জীবজন্তুদের এই প্রবণতাকে বলে ‘গ্রেগারিয়াস’। এই প্রবণতায় বিচ্ছিন্ন থাকা বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ জোটবদ্ধ হয়। সাধারণত খাবারের আকাল দেখা দিলে প্রাণীজগতে এ প্রবণতা দেখা দেয়।
এই ধারা মেনেই দল বাঁধে নানা রকমের ফড়িং। তারপর ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করে ফসলের জমিতে। এই ঝাঁককেই বলা হয় পঙ্গপাল। তারা পরিযায়ী। পঙ্গপাল বাহিনী এক দিনে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব পাড়ি দিতে পারে। দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার সময় পথে যেটুকু ফসল পায়, সব খেয়ে ফেলে। প্রত্যেক পতঙ্গ দৈনিক নিজের ওজনের সমান (২ গ্রাম) খাবার খায়। ফলে একটি ঝাঁকের একাংশ এক দিনে যা খায়, তা ১০টি হাতির খাবারের সমান!
পঙ্গপালের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘লোকস্ট’ এসেছে লাতিন শব্দ ‘লোকস্টা’ থেকেÑ যার অর্থ ফড়িং। প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার সমাধি থেকে প্রায় সব ধর্মগ্রন্থে পঙ্গপালের উল্লেখ রয়েছে। পঙ্গপালের আক্রমণের জেরে বহু দেশে মানুষ তার বসতি পাল্টাতে বাধ্য হয়েছে। নিজেদের মতো মানুষকেও পরিযায়ী করেছে পঙ্গপাল বাহিনী। পঙ্গপালের আক্রমণের পরই সে জায়গায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে অতীতে। অন্যদিকে পঙ্গপালকেও মানুষ নিজের খাদ্য বানিয়েছে। বিশে^র অনেক দেশেই পঙ্গপাল লোভনীয় খাবার। পঙ্গপালের মধ্যেও বিভিন্ন রকম প্রজাতি রয়েছে। তাদের মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতি করে ‘ডেজার্ট লোকস্ট’।
২৪৭০-২২২০ খ্রিস্টপূর্ব সময়ে মিসরীয়রা তাদের সমাধিতে পঙ্গপালের ছবি আঁকত। প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ এবং ইলিয়ডে পঙ্গপালের উল্লেখ রয়েছে। পঙ্গপালের আক্রমণের পর সেই স্থানের অবস্থা শোচনীয় হতো বলে বর্ণনা করা হয়েছে সব বিবরণে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল এবং রোমান ঐতিহাসিক টাইটাস লিভিয়াস গবেষণা করেছিলেন পঙ্গপালের আচরণের ওপর। বিশ শতকের গোড়া থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয় পঙ্গপালের প্রাদুর্ভাব। সে সময়ে বেশ কিছু উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হতে থাকে ঝাঁকবদ্ধ এই পতঙ্গদের। জমিতে কীটনাশক ছড়িয়ে, যন্ত্রের সাহায্যে, আগুনের হলকা ছুড়ে, জলাশয়ে ফাঁদ পেতে ধরা হয়েছে পঙ্গপালদের। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এদের প্রকোপ কমেছে; কিন্তু কম হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এর আক্রমণ। ওয়েবসাইট




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]