ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০ ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০

কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
সচেতনতার বিকল্প নেই
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০, ১১:৪৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে সরকার শুরু থেকেই নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। করোনার প্রতিষেধক নেই, কিন্তু শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এই দুটি হাতিয়ারকে সম্বল করেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। মানুষ যেন শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে পারে এজন্য দেওয়া হয় লকডাউন, কারফিউ এবং ছুটির মতো কর্মসূচি। বাংলাদেশেও সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মার্চের শেষে। এরপর দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। উদ্দেশ্য একটাইÑ মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, সুস্থ থাকে। করোনার সংক্রমণ যেন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। কিন্তু সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে ঘরে থাকার আহŸান জানায়, সরকারের সেই লক্ষ্য বিভিন্ন কারণে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এর পেছনে প্রধান কারণ আমাদের অসচেতনতা। আমরা সাধারণ ছুটির মধ্যেও নিজেদের খেয়ালখুশিমতো অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া বন্ধ করতে পারিনি। সাধারণ ছুটির মধ্যেও বারে বারে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ডেকে আনা হয়েছে, রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ করোনায় সংক্রমিত হবার পর ভয়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থেকেছে, এতে করেও বেড়েছে সংক্রমণ হার। তবে সরকারে ছুটি ঘোষণার প্রাথমিক সুফল আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে করোনার সংক্রমণ আমাদের দেশে নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল। কিন্তু জীবন ও জীবিকাকে স্বাভাবিক করার তাগিদ আসছিল বিভিন্ন মহল থেকে। দীর্ঘদিন অর্থনীতির চাকা বন্ধ, তা সচল করার তাগিদও ছিল। অন্যথায় যে নতুন সঙ্কট তৈরি হবে, তা সামলানোর ঝুঁকিও কম নয়। তাই সরকার মে মাসের পরে সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সীমিত পরিসরে পনের দিনের জন্য গণপরিবহনসহ লোক চলাচলের অনুমতি দেয়। আশা করা গিয়েছিল, আমরা দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থেকে করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে যেসব স্বাস্থ্যবিধি রপ্ত করেছি, তা যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তুলে দেওয়া হচ্ছে লকডাউন। স্বাভাবিক হচ্ছে জীবন ও জীবিকা। মানুষ কর্মস্থলে যাচ্ছে। আমরাও সেদিকেই এগিয়ে যাব, এই প্রত্যাশাতেই সাধারণ ছুটি আর বাড়েনি। কিন্তু বর্তমান অবস্থা ইঙ্গিত দিচ্ছে আমাদের চূড়ান্ত অসচেতনতার। সাধারণ ছুটির সময়ে যেভাবে সারা দেশে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, ছুটি শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোঘণার পর তা বাড়তে শুরু করেছে আশঙ্কাজনক হারে। শ্রমজীবী ও নি¤œ আয়ের মানুষের জীবিকা ও দেশের অর্থনীতিকে সচল করার মানসেই সাধারণ ছুটি ও লকডাউন তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ছুটির প্রথম সপ্তাহ পেরুনোর আগেই চারদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা আমাদের সামনে বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সময়ের আলোর প্রতিবেদন বলছে, এ অবস্থায় সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন তিন জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বাধ্য হয়ে পুনরায় সাধারণ ছুটি ও বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড জোন চিহ্নিত করে লকডাউন দেওয়ার কথাও ভাবছে।
করোনার প্রতিষেধক যেহেতু এখনও আসেনি, কবে নাগাদ আসবে তাও অনিশ্চিত। এ অবস্থায় করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের এগুতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই, তাহলে সরকারের পক্ষে কোনো উদ্যোগই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সরকার সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার সময় এবং আগেপরে স্বাস্থ‌্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন‌্য জনগণের প্রতি বারবার আহŸান জানিয়েছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তা মানার প্রবণতা কম। আমরা যদি ব্যক্তিগতভাবে সচেতন না হই তাহলে বারবার ছুটি ঘোষণা হলেও তার উদ্দেশ্য ফলপ্রসূ হবে না। তাই আমাদেরই সচেতন হয়ে শারীরিক সংস্পর্শ ও মানুষের নৈকট্য এড়িয়ে চলতে হবে। এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুইই বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]