ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০ ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০

বাজেট অধিবেশনের সময় কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৬.০৬.২০২০ ২:৩৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 83

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েক জন এমপি ও সংসদের কয়েকজন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আগামী ১০ জুন অনুষ্ঠিতব্য সংসদের বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অধিবেশনে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের ঝুঁঁকি এড়াতে অধিবেশন চলাকালে পুরোটা সময় সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অধিবেশনের আগে তাদের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনাভাইরাস নেগেটিভ প্রমাণিত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেই দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কেবল দিনের কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য আইনপ্রণেতাদের নিয়েই এবারের বাজেট অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ। এক্ষেত্রে সংসদ অধিবেশনে এমপিদের রোস্টারভিত্তিক যোগ দিতে বলা হবে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ৪ জুন পর্যন্ত পাঁচজন সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েক জন কর্মচারী আক্রান্ত হওয়ায় অধিবেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। তাই এবার রোস্টারের ভিত্তিতে এমপিরা তাদের জন্য নির্ধারিত বৈঠকগুলোতে যোগদান করবেন। প্রতিদিনের রোস্টারে ওইদিন বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়া এমপিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন উপস্থিতি ৬০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বয়স্ক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অধিবেশন কক্ষের আসন বিন্যাসও আগের মতো থাকছে না। সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। সংসদ সদস্যরা সকলেই পাশের আসন ফাঁকা রেখেই বসবেন। অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর সকলকে ডিসইসফেকশন চেম্বার দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মূল ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে থার্মাল স্ক্যানারে তাপমাত্রা মেপে নিতে হবে। সংসদে যোগ দেওয়া এমপিদেরও গণহারে কোভিড-১৯ পরীক্ষার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তা ছাড়া মহামারির কারণে দুই মাসের বেশি সময় ছুটি থাকায় মন্ত্রণালয়গুলো থেকে সংসদ সদস্যদের করা প্রশ্নের উত্তর করা সম্ভব হবে না বলে এবারের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকছে না।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ের ৯৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে বাকিদেরও পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। সংসদ ভবনের মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই টেস্টে নেগেটিভ আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন। আর তারা যাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে না যেতে পারে সে জন্যই পুরো অধিবেশনকালে তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হবে।
করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকছে না। করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত হয়েই সংশ্লিষ্ট সকলে অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন। তারপরও যিনি ঝুঁকিপূর্ণ, তিনি অধিবেশনে যোগ দেবেন না বলে আমরা আশা করি।
আগামী ১০ জুন বিকাল ৫টায় চলতি সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিন বিকাল ৪টায় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কর্মসূচি চ‚ড়ান্ত হবে। এই সংসদের সদস্য ঢাকা-৫ আসনের হাবিবুর রহমান মোল্লা সম্প্রতি মারা যাওয়ায় রেওয়াজ অনুযায়ী ওই দিন অধিবেশন শুরুর পর শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে মুলতবি হবে। পরদিন বিকাল ৩টায় ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে ওইদিন সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রতিবছরই বাজেট পেশ করার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়ার সুবিধার্থে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির সুপারিশ নেওয়ার সুবিধার্থে সংসদ ভবনে তার উপস্থিতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবারও তাই হতে হবে। এরপর প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত একটানা অধিবেশন চলবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে, যা ৭ থেকে ১০ দিন চলতে পারে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সংসদের সপ্তম অধিবেশন একদিনের জন্য বসেছিল। নিয়মরক্ষার ওই অধিবেশনটি সোয়া ঘণ্টায় শেষ হয়। কিন্তু বাজেট অধিবেশনে তেমনটি করার সুযোগ নেই। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৩০ জুন তা পাসের রেওয়াজ রয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপন সরাসরি দেখার জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি মিশনের প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়ে থাকে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে এবার কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। গণমাধ্যমকর্মীদেরও সুযোগ দেওয়া হবে না সরাসরি সংসদে প্রবেশ করে সংবাদ সংগ্রহের।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, রোস্টার অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে অংশ নেবেন। অধিবেশন কক্ষে দূরত্ব বজায় রেখে বসবেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের স্বার্থে প্রতিবছরের মতো এবার বাজেট অধিবেশনে সকলের প্রবেশের সুযোগ থাকছে না। এ ছাড়া নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকছে না। অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। অধিবেশনে বাজেট সংক্রান্ত বিলের বাইরে কোনো বিল পাসের সম্ভাবনা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সঙ্কট-পরবর্তী অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটের (৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়) তুলনায় এর আকার প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এটি হবে স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৯তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]