ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০ ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০

লিবিয়ায় মানব পাচার
পল্টন থানায় ভুক্তভোগীর বাবা ও সিআইডির পৃথক মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৬.০৬.২০২০ ২:৩৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 8

রাজধানীর পল্টন থানায় লিবিয়ায় মানব পাচার, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে মানব পাচার ও সন্ত্রাস দমন আইনে দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটির একটি করেছেন লিবিয়ায় আটকা পড়া একজন ভুক্তভোগীর বাবা ও আরেকটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলা দুটিতে মোট ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পল্টন থানায় মামলা দুটি করা হয় বলে জানা গেছে। পল্টন থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন উদ্দিন জানান, পল্টন থানায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা মান্নান মুন্সি। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। সাত মাস আগে  মান্নান মুন্সির ছেলে রাকিব সাত লাখ টাক খরচে লিবিয়া যান। এরপর সেখানে গিয়ে আটকা পড়েন। সেই যুবকের বাবা বৃহস্পতিবার মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। তিনি এই মামলায় ১৬ জনকে আসামি করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবে ডিবি পুলিশ। তবে শুক্রবার মামলাটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান। তিনি জানান, পল্টন থানায় ভুক্তভোগীর বাবার করা মামলাটি  মানবপাচার ও সন্ত্রাসবাদ দমন আইনে হয়েছে। সেটি তারা (ডিবি উত্তর) তদন্ত করার দায়িত্ব পেয়েছেন। বাদীর ছেলে রাকিবসহ অন্যান্যদের কীভাবে লিবিয়ায় নেয়া হয়েছে এবং মামলার আসামিরা ছাড়াও আর কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হবে।
মামলার বাদী মান্নান মুন্সি জানান, গত ৭-৮ মাস আগে তার ছেলেকে তিনি সাত লাখ টাকা খরচ দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাঠিয়েছেন। সেই সময় তার পরিচিত মোহসিন ও মনির নামের দুই ব্যক্তি তার ছোট ছেলে রাকিবকে লিবিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। সেখানে গেলে ভাল বেতন পাবে বলে তারা প্রলোভন দেখালে তিনি তাদের কথায় রাজি হয়ে যান। সেই টাকা সংগ্রহের করার জন্য  প্রথম দফায় কিছু জমি-জমা বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা মোহসিনের হাতে দেন মান্নান মুন্সি। এরপর রাকিবকে লিবিয়ায় পাঠান তারা। কিন্তু সেখানে তাকে জিম্মি করে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে ছেলের মারধর ও নির্যাতনের কথা সহ্য না করতে পেরে আবারও সাড়ে তিন লাখ টাকা পাঠান। তিনি বলেন, ওই সময় মনির লিবিয়ায় ছিল। সাত লাখ টাকা দিলেও আমার ছেলের কান্না শুনতে হয়েছে। যা বাবা হয়ে সহ্য করা কঠিন। তবে ছেলেকে আর পাইনি। সেখানে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ছেলে আবার পালিয়েছে। এরপর থেকে রাকিবের আর কোন যোগাযোগ আমরা পাচ্ছি না।
অন্যদিকে একই লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশীর মৃত্যু ও ১১ জন আহতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার রাতে করা মামলাটিতে মানবপাচার ও  আঘাতে খুনের অভিযোগে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ৯টি। ওইসব মামলায় এখন বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার হলেও বেশিরভাগ মানবপাচারকারী পলাতক রয়েছেন। পল্টনে সিআইডি কর্তৃক দায়ের করা মামলার পাশাপাশি অন্যান্য মামলাও সিআইডি ছায়া তদন্ত করছে। তদন্তে মানব পাচারকারী হিসেবে যাদের তথ্য উপাত্ত ও নাম উঠে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলার দ্রæত চার্জশিট আদালতে দাখিল করবো এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট জারির পর ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হবে। তিনি আরো বলেন, নিরীহ মানুষের জীবনের বিনিময় যে অর্থ-সম্পদ তারা করেছেন এই সম্পদ তারা ভোগ করতে পারবেন না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করব। যত প্রভাবশালী মানব পাচারকারী হোক না কেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বুধবার গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে সেন্টু শিকদার ও নার্গিস আক্তার নামে দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তারও আগে হাজী কামাল নামে এক মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়। লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও সিআইডি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]