ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ ২৩ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০

থানায় কাজ কমলেও করোনায় ব্যস্ততা বেড়েছে পুলিশের
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৬.০৬.২০২০ ২:৫৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

সারা দেশে চলমান করোনা মহামারিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হলেও বিশ্রাম নেই পুলিশের। করোনার এমন পরিস্থিতিতেও মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। করোনার আগে থানাগুলোতে কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল। তবে আগের তুলনায় বতমানে গতানুগতিক অপরাধ অনেকাংশে কমে যাওয়ায় সেই তুলনায় কাজের চাপও কমেছে। থানায় মামলার কাজ কমলেও করোনায় বাইরে পুলিশের মানবিক কাজে অংশগ্রহণ ও ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। করোনা সংক্রমণরোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জনগণের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বাহিনীর বহু সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন থানায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে কথা এসব বিষয় জানা গেছে।
পুলিশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার মধ্যে গতানুগতিক অপরাধ বহুলাংশে কমে যাওয়ায় পুলিশ এখন মানবিক কাজ করছে। পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, আক্রান্ত বা লক্ষণ বহনকারীদের হোমকোয়ারেন্টাইনে রাখা, বাজার মনিটরিং, অসহায় দরিদ্রদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া ও প্রশাসনের কাজে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন মানবসেবামূলক কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে পুলিশ। এর বাইরে মৃত ব্যক্তিদের সৎকার, জানাজা, করোনা আক্রান্ত পলাতক রোগীদের ধরে আনা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে করোনা আক্রান্তের বাসা ও এলাকা লকডাউন করাসহ অসহায় দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে।
থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ায় থানায় মামলা বা জিডির কাজও অনেকাংশে কমে গেছে। করোনাভীতিতে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমার কারণে পুলিশের কাজও কিছুটা কমে এসেছে। বতমানে দাগী অপরাধী ছাড়া সাধারণ অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনাসহ আগের মতো মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ রয়েছে। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মমাফিক দায়িত্ব আর পেট্রোল ডিউটি আগের মতোই চলমান রয়েছে।
কদমতলী থানার এসআই ইকবাল হোসেন জানান, করোনাকালীন ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেখা গেছে, মানুষ গতানুগতিক চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের চেয়ে বিভিন্ন সহযোগিতা চেয়ে বেশি কল করেছে। বেশিরভাগ কলকারী তার মহল্লার করোনা আক্রান্তদের বাসা, ভবন ও এলাকা লকডাউনসহ ত্রাণ চেয়ে কল করেছে। বহু সময় মিথ্যা বা ভুয়া কল করে অনেকে বিরক্তও করে।
পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে অপরাধ অনেকাংশে কমে যাওয়ায় থানায় এখন কাজের চাপ অনেক কম, যে কারণে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন মানবিক কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। একান্ত জরুরি ও দাগী অপরাধী না হলে গ্রেফতার বন্ধ আছে। এ ছাড়া কারাগারে আসামিদের চাপের কথা চিন্তা করে ঝুঁকিরোধে আগের মতো গ্রেফতার এড়ানো হচ্ছে। তবে বতমান পরিস্থিতিতে থানার বাইরে পুলিশের এমন মানবিক আচরণ দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ। অতীতে বাহিনীর নামে ওঠা বিভিন্ন বদনাম ঘুচে সুনামও অনেক বেড়ে গেছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ জানান, করোনার সময়ে আগের চেয়ে তুলনামূলক মামলা ও জিডি কম হয়েছে। তবে এ সময়ে ছিনতাই, মারামারি, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগেও মামলা হয়েছে।
খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, করোনায় থানার অভ্যন্তরীণ কাজ কমলেও বাইরে কাজের পরিধি অনেকে বেড়ে গেছে। আগের তুলনায় জিডি ও মামলা কম হওয়ায় পুলিশ এখন মানবিক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মাসিক অপরাধ প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে, রাজধানীতে আগের চেয়ে মামলার সংখ্যা কমেছে ৮৩ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রাজধানীর ৫০টি থানায় মাসে গড়ে মামলা হয়েছে ২ হাজার ২০০টি করে। গত এপ্রিলের ৩০ দিনে নগরের ৫০টি থানায় মামলা হয়েছে সর্বমোট ৩৪৯টি। অথচ মার্চ মাসে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৫টি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ও যাতায়াত ছিল নিয়ন্ত্রিত। করোনা আতঙ্কে রাজধানীর রাস্তাঘাট ও অনেক বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে অপরাধীরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে টহল পুলিশ। নগরবাসীর নিরাপত্তায় একাধিক গ্রæপে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টাই টহল দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়া অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণসহ করোনাভাইরাস থেকে জনগণকে মুক্ত রাখতে বিভিন্ন সময় পুলিশ সদর দফতর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, করোনার কারণে অপরাধপ্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ করোনা সংক্রমণরোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ সদস্যরা আগে থানায় বেশি সময় কাজ করলেও এখন মাঠে থেকে আরও বেশি কাজ করছে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, করোনার কারণে অপরাধপ্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে পুলিশের বসে থাকার সুযোগ নেই। করোনার দুর্যোগকালীন সারা দেশে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছে। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির সৎকার, জানাজা, করোনা আক্রান্ত পলাতক রোগীদের ধরে আনা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে করোনা আক্রান্তের বাসা-বাড়ি ও এলাকা লকডাউন করা এবং ত্রাণ বিতরণসহ বহু মানবিক কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, দেশে চলমান করোনা মহামারিতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত পুলিশের ১৭ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৬ হাজার পুলিশ সদস্য কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]