ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ
লায়ন মুজিবসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৬.০৬.২০২০ ২:৫০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

প্রায় ৩ কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিবুর রহমানসহ (লরেল মুজিব) ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই বিশ^বিদ্যালয়ের সরকার মনোনীত ট্রেজারার প্রফেসর আবদুল হামিদ বাদী হয়ে গত ২ জুন কক্সবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
কক্সবাজার সদর থানায় ২ জুন রেকর্ড হওয়া এ মামলার আসামিরা হলেন পেকুয়ার বাইন্যাঘোনা এলাকার মৃত আমির হোসাইনের ছেলে ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান, তার ভাই ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক অর্থ পরিচালক আবদুস সবুর, তার ভাই আবদুল মাবুদ, সিকিউরিটি ইনচার্জ ও মগনামার মুহুরিঘোনা এলাকার রাহমত উল্লাহর ছেলে মনির উদ্দিন আরিফ।
মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কর্তৃক ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে প্রতারণা ও বলপূর্বক চেক আদায়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেম, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক, সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আতিকুজ্জামাল ছোটন ও অ্যাডমিশন অফিসার মো. নূর উদ্দিন সেলিমকে।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার ও মামলার বাদী প্রফেসর আবদুল হামিদ এজাহারে দাবি করেন যে, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়। যার আবেদনকারী সালাউদ্দিন আহমেদ (জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী)। প্রধানমন্ত্রীর ২০১৩ সালে উখিয়ায় এক জনসভায় দেওয়া ঘোষণার আলোকে সালাহ উদ্দিন আহমেদের আবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু ১ নং আসামি মো. মুজিবুর রহমান বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষে যোগাযোগকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগে প্রতারণার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে নিজের নামে একটি পত্র হাসিল করেন। এ ছাড়াও বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজান্তে তিনি অন্য আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন কলাকৌশল ও ছল চাতুরির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপির স্বাক্ষর জাল করে ট্রাস্টি বোর্ডের অনেক রেজুলেশন তৈরি করেন এবং বিশ^বিদ্যালয়ের নামে জমি কেনার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের নামে বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন।
মামলার বাদী দাবি করেন, এ ছাড়াও আসামিরা বিনা অনুমতিতে বিশ^বিদ্যালয়ের নামে জনৈক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের কাছ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি বলেন, ট্রাস্টিবোর্ডের অগোচরে সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান যেসব অনিয়ম ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন, তা দেখে আমরা বিস্মিত ও লজ্জিত হয়েছি। এখন সরকারের অনুমোদন নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি পদ থেকে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের কোনো আর্থিক বিষয়ে আমি সিগনেটরি নই। তাই আমার স্বাক্ষরে কাউকে চেক দেওয়া হয়নি বা অর্থ দেওয়া হয়নি। আর এ বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা আমি এবং সমস্ত বিনিয়োগ আমার। সালাহ উদ্দিন আহমদকে আমার এলাকার মুরুব্বী হিসেবেই ট্রাস্টি বোর্ডে রেখেছি। কিন্তু তিনি অযোগ্য লোকদের ট্রাস্টি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। এ নিয়ে সম্প্রতি আমার সঙ্গে বিরোধ দেখা দেওয়ায় তিনি ট্রেজারারকে চাপ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন।
মুজিব আরও দাবি করেন, বিশ^বিদ্যালয়ের অনুমোদন আনার জন্য সালাহ উদ্দিন আহমদকে মিডিয়া হিসেবে অনেক অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয়টি এখন সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় লোভের বশবর্তী হয়েছেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি কাউকে বিশ^বিদ্যালয়ের মালিকানা বিক্রি করে দিইনি। পরিচালনা ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য শর্তসাপেক্ষে লায়ন মুজিবুর রহমানকে ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি করেছিলাম।




ভারত জুড়ে তোলপাড় তিনজনকে গ্রেফতারঅন্তঃসত্ত্বা হাতিকে নির্মমভাবে হত্যা111সময়ের আলো ডেস্ক222
ভারতের কেরালায় অন্তঃসত্ত্বা এক হাতিকে নৃশংসভাবে হত্যাকাÐের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হাতির মৃত্যুর খবর জানাজানি হতে না হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সারা ভারত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়ে যায় নিন্দার ঝড়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে মুখর হতে থাকেন সাধারণ মানুষ। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দোষীদের খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে নির্মমভাবে খুন করা হয় হাতিটিকে। আনারসের মধ্যে বাজি ভরে খেতে দেওয়া হয় তাকে। এরপরই ওই হাতির মুখের মধ্যে ফেটে যায় বাজিটি। ২৭ মে মর্মান্তিকভাবে মারা যায় হাতিটি।
শুক্রবার বাজি (বিস্ফোরক) সরবরাহকারী ব্যক্তিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান রাজ্যের বনমন্ত্রী কে রাজু।
মূলত উত্তর কেরালার মালাপ্পুরমের এক বন বিভাগের কর্মকর্তা বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হত্যাকাÐের বিশদ বিবরণ দেওয়ার পরে তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে। তার পোস্ট থেকে জানা যায়, হাতিটি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে কাছের গ্রামে উপস্থিত হয় খাবারের সন্ধানে। সে পথ দিয়ে হাঁটার সময় তাকে আনারস খেতে দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। বিস্ফোরণটি এত ব্যাপক ছিল যে, হাতিটির জিভ ও মুখে ভয়ঙ্করভাবে চোটপ্রাপ্ত হয়। হাতিটি যন্ত্রণা ও খিদেয় গ্রামের পথে ছুটতে থাকে। কিন্তু এই চরম অস্বস্তির মধ্যেও সে কোনো বাড়ি ভাঙেনি। কাউকে আক্রমণও করেনি বলেও ওই কর্মকর্তা তার পোস্টে জানিয়েছেন। পরে যন্ত্রণা থেকে উপশম পেতে সে স্থানীয় ভেলিয়ার নদীতে নেমে যায় পানি খেতে। তাকে পানি থেকে উদ্ধার করতে আরও দুই হাতিকে পাঠায় কেরালার বন দফতর। কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে নড়েনি হাতিটি। এরপর ২৭ মে বিকাল ৪টায় সে মারা যায়। পরে জঙ্গলের মধ্যে সমাধিস্থ করা হয় তাকে। ১৫ বছর বয়সি এই হাতিটি দুই মাসের অন্তঃসত্ত¡া ছিল।
হাতিটিকে হত্যা করা হয় কেরালার পালাক্কাদ জেলায়। জেলা পুলিশ প্রধান জি শিবা বিক্রম জানান, পুলিশ আরও সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া এদিন যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের একজন পেশায় রাবার সংগ্রহকারী শ্রমিক। বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি বিস্ফোরক সরবরাহ করে অন্যদের হত্যাকাÐে সহায়তা করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার থেকেই তদন্তে নামে ভারতীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা। এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি কেউ আনারসের ভেতরে বিস্ফোরক ভরে রেখেছিল ও কেন রেখেছিল সেসব এখনও পরিষ্কার নয়। কেরালার বন বিভাগ বৃহস্পতিবার জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধারণা করা হয় যে, ভারতে ২৭ হাজারের মতো বন্যহাতি রয়েছে। এ ছাড়া আরও প্রায় আড়াই হাজার হাতি রয়েছে বন্দি অবস্থায়।






এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]