ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০ ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০

বিপর্যস্ত আবাসন ও সহযোগী শিল্পখাত সঙ্কট উত্তরণে যথাযথ পদক্ষেপ জরুরি
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 10

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে সারা বিশে^ই স্থবির অর্থনৈতিক কর্মকাÐ। এ অবস্থার বাইরে নয় আমাদের অর্থনীতিও। অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে বিশ^। সঙ্কট কাটিয়ে উঠে অর্থনৈতিক কর্মকাÐ সচল করতে দেশে দেশে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশেও সরকার আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তারপরও সব কিছু কবে নাগাদ পুরোপুরি সচল হবে, প্রাণ ফিরে পাবে তা অনিশ্চিত। মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতোই আমাদের দেশেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সঙ্কট চলছে। অন্যান্য খাতের পাশাপাশি এই সঙ্কটে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের আবাসন খাত। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই আক্ষরিক অর্থে বন্ধ হয়ে যায় এই খাতের কার্যক্রম। বিগত পাঁচ বছর দেশের আবাসন ও সহযোগী শিল্প চরম দুঃসময় কাটিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখনই থাবা মেলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়। সময়ের আলোর প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সালে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে সবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে আবাসন শিল্প। সে বছর এ খাতে ১৬-১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও হয়। কিন্তু চলতি বছরে করোনার আঘাতে একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আবাসন খাত। সঙ্গে এ খাতের সহযোগী ২১১ শিল্পও। এবারের পরিস্থিতির মতো এমন অবস্থায় আর কখনও পড়েনি এ খাতটি। করোনার কারণে আবাসন শিল্পের কী অপূরণীয় ক্ষতি হবে তার হিসাবও অজানা। বর্তমান অবস্থায় দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতে বড় অবদান রাখা এই খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা খুবই দুরূহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি দ্রæত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এই খাতকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে হলে তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক সময়ে যখন আবাসন খাতে গতি আসতে শুরু করে, তখনই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক নকুন সঙ্কটে ফেলে এই খাতকে। সঙ্কটের সহসা সমাধান হবে, এমন আশাও দুরাশা। ফলে দুর্ভোগ বাড়বে বলেই আশঙ্কা। দীর্ঘমেয়াদি এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে, নিতে হবে যথাযথ প্রস্তুতিও। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বিক্রি হওয়া ফ্ল্যাটের কিস্তি আদায়, বন্ধ হয়ে গেছে নতুন ফ্ল্যাট বিক্রিও। নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণ কার্যক্রমও বন্ধ। আবাসন খাত বন্ধ থাকায় দুরবস্থায় এ খাতের দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিকরাও। সঙ্কট আরও দীর্ঘমেয়াদি হলে সবার দুরবস্থাই বাড়বে, যা অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সঙ্কট মোকাবিলায় সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। এই শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জমি ও ফ্ল্যাটে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন মাসুল, সম্পদ কর, স্ট্যাম্প ডিউটি, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট এবং স্থানীয় সরকার কর কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিভিন্ন সময়ে আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগে সুযোগ রাখার পাশাপাশি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কালো টাকা বিনিয়োগে করহার কমানো হলেও খুব বেশি অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগ হয়নি। তাই আবাসন খাতের বর্তমান সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে আসছে বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন সহজে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে সেজন্য নিবন্ধন মাসুলসহ অন্যান্য মাসুল কমানোর বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতে যে স্থবিরতা চলছে তা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে উদ্যোগী হয়ে স্ট্যাম্প ও নিবন্ধন মাসুল কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করাও করা প্রয়োজন, যাতে করে আবাসন খাত তার সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়। এতে উচ্চবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্তের বড় অংশের মধ্যেও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ বাড়বে, যা আবাসন খাতে গতি আনার পাশাপাশি অর্থনীতিকেও সচল করতে ভ‚মিকা রাখবে। আবাসন মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। আমরা প্রত্যাশা করি, সবার সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আবাসন খাত আজ যে সঙ্কটে রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]