ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০ ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০

তরুণদের রক্ষায় তামাকের কর বৃদ্ধি : প্রাসঙ্গিক ভাবনা
এস এম নাজের হোসাইন
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

করোনাভাইরাসের ত্রাসে কাঁপিছে গোটা বিশ্ব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ সব বয়সিদের জন্য বিপজ্জনক হলেও ধূমপায়ীদের মৃত্যুঝুঁকি দ্বিগুণ বেশি। এক সমীক্ষা বলছে বাংলাদেশে করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ধূমপায়ী তরুণরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরে রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ গবেষেণা কেন্দ্রের (আইইডসিআির) ওয়েবসাইটে তুলে ধরা তথ্য মতে, ২১-৩০ বছর বয়সিদের করোনা শনাক্ত হচ্ছে বেশি। এ জনগোষ্ঠীর ২৬ শতাংশই করোনা আক্রান্ত। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বতসোয়ানা ইতোমধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বাংলাদেশে এখনও চালু রয়েছে তামাক উৎপাদন ও বিপণন। আর তামাকের প্রতি আসক্তি বাড়াতে নানা রকম ক‚টকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে তামাক কোম্পানিগুলো। আর এক্ষেত্রে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে উঠতি বয়সি তরুণরা। রমরমা বিজ্ঞাপন ও লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলছে স্কুলপড়–য়া তরুণদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে গড়ে উঠছে তামাকপণ্যের দোকান। এমন তথ্য পাওয়া গেছে তামাকবিরোধী সংগঠন বিটার এক গবেষণা প্রতিবেদনে।
পৃথিবীর কম ধূমপায়ী দেশগুলোর মধ্যে ধূমপান ও তামাক পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা হ্রাস পাওয়ার কারণগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ধূমপান ও তামাকপণ্য রোধে এসব দেশের সরকারের কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন। উচ্চহারে কর আরোপ যার অন্যতম কারণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ঘানা, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, ইরিত্রিয়া এবং পানামার কথা। ফ্রান্সেও ধূমপান রোধে দ্রæত অগ্রগতি লাভ করছে। লক্ষ করলে দেখা যায় তামাকপণ্যে উচ্চহারে কর বৃদ্ধি ও তার যথাযথ প্রয়োগ অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। তার বিপরীতে  বাংলাশের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের তথ্য মতে, পৃথিবীতে যেসব দেশে সিগারেটের মূল্য অত্যন্ত কম তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। তাই ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে আমাদের প্রত্যাশা, তামাক পণ্যে কার্যকর ও বর্ধিত হারে করারোপ করা হোক। এ ছাড়া নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রায় ৩.২ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী তামাক ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ১ মিলিয়ন বর্তমান ধূমপায়ীর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে এবং ৬ হাজার ৬৮০ কোটি থেকে ১১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকার মধ্যে (জিডিপির ০.৪ শতাংশ পর্যন্ত) অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে। সুপারিশসমূহ হলোÑ সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা ৪টি থেকে কমিয়ে ২টিতে (নিম্ন এবং উচ্চ) নিয়ে আসা। অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে একটি মূল্যস্তর (নিম্নস্তর) এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরকে একত্রিত করে আরেকটি মূল্যস্তরে (প্রিমিয়াম স্তর) নিয়ে আসা। নিম্নস্তর ও প্রিমিয়াম স্তর উভয়ক্ষেত্রেই ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার পাশাপাশি বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার মূল্য বিভাজন তুলে দেওয়া এবং কার্যকর তামাক কর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, যা তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভ‚মিকা রাখবে; সব ধরনের ই-সিগারেট এবং হিটেড (আইকিউওএস) তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি এবং বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা; কঠোর লাইসেন্সিং এবং ট্রেসিং ব্যবস্থাসহ তামাক কর বাস্তবায়নে প্রশাসনকে শক্তিশালী করা, কর ফাঁকির জন্য শাস্তিমূলক জরিমানার ব্যবস্থা করা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪০ সালে মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ আগামী ও নিষ্কটক পৃথিবীর পাশাপাশি তামাকমুক্ত সুস্থ সুন্দর তারুণ্য গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এর লক্ষ্যে তাই তামাকমুক্ত দিবসে সব তামাকবিরোধী সংগঠনের আহŸান, তামাক কোম্পানির ক‚টচাল রুখে দিয়ে, তরুণদের জন্য একটি সুন্দর তামাকমুক্ত পৃথিবী গড়ার।

ষ ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]