ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০ ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ল্যাবে করোনা পরীক্ষায় আস্থা নেই
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 55

কুমিল্লায় পিসিআর মেশিনের করোনা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স¤প্রতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে (কুমেক) স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসা নাঙ্গলকোট উপজেলার ১০ জনকে ঢাকায় পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেব দাশ দেব বলেন, ভুল রিপোর্টের কারণে সংশ্লিষ্টরা সামাজিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব নাঙ্গলকোট হাসপাতালের সাতজন চিকিৎসকসহ ১৪ জনের ফলাফল পজিটিভ ঘোষণা করে। এরপর আমরা নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন ঘোষণা করি।
ডা. দেব দাশ দেব বলেন, কুমেক পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষা আমাদের সন্দেহ হয়। তাই তিনদিন পর আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের নমুনা আবার ঢাকায় পাঠাই। ৩ মে ওই ১০ জনেরই নেগেটিভ ফলাফল আসে। এছাড়া কুমেকে দুইজনকে নেগেটিভ বলা হলেও ঢাকায় তাদের পজেটিভ ঘোষণা করে। এ নিয়ে সবাই মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবেও ভোগান্তিতে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক ও স্টাফদের নেগেটিভ ঘোষণা করে কাজে যোগদান করতে বলেছেন আইডিসিআরের বায়োলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. তাহমিনা শিরিন। তিনি বলেন, অন্যদের পজিটিভ ফলাফল নিয়েও আমার সন্দেহ রয়েছে। তাই সামনে আর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নমুনা পাঠাব না।
এদিকে জেলার দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল সময়ের আলোকে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফেসবুক পেইজে দেওয়া তথ্যগুলো তুলনা করলে দেখা যায়, কুমিল্লা মেডিকেল থেকে আসা রিপোর্টগুলো বেশি পজিটিভ আসে। ৫০টি নমুনা পাঠালে ১৫/২০জন পজিটিভ আসে। ঢাকায় পাঠালে এই হার নেমে আসে ৮/১০ জনে।
দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর বলেন, আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না। তবে, আমাদের কাছেও বিষয়টি এমনই মনে হয়েছে। তাই, আমরা সিভিল সার্জন অফিসে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সেখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছি যে, আমাদের প্রেরিত নমুনার ফলাফল পেতে অনেক বিলম্ব হয়, ফলাফল আনুপাতিকহারে পজিটিভ বেশি আসে এবং কিছু ফলাফল অসম্পূর্ণ থাকে।
সেন্টার ফর সোসাল সার্ভিসের পরিচালক অধ্যক্ষ সায়েম মাহবুব বলেন, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম হতে সংগ্রহ করা ৬০৪ জনের নমুনার মধ্যে ৭০ ভাগই কুমিল্লা মেডিকেলের রিপোর্ট বলে জানা গেছে। এছাড়া এখনও ৯২ জনের রিপোর্ট প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ভুল হতেই পারে। এতে চিকিৎসকদের কিছু সমস্যা হয়েছে। এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তফা কামাল আজাদ বলেন, এই পরীক্ষার ৩০ ভাগ বদলে যেতে পারে। তাছাড়া নমুনা সংগ্রহে সতর্ক না হলে কিংবা দেরিতে জমা দিলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি নমুনা ভালো থাকে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিদিন দুই শিফটে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করতে পারি। কিন্তু নমুনা আসছে সাড়ে চারশ-পাঁচশ জনের। মেশিন ও জনবলের সঙ্কট রয়েছে। চিকিৎসক ও স্টাফরা রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করছেন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]