ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

তিতুমীর কলেজে নারকীয় হামলা-নৃশংসতা কেনো?
অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ৭:৩১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 572

চলমান করোনা বিপর্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প‌্রচেষ্টায় আমরা এখনও ঐক্যবদ্ধ থেকে তার সফল ও দক্ষ নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক পটভূমি থেকে শুরু করে কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্যসহ জীবন যাপনের প‌্রতিটি পর্যায়ে সু-সমন্বিত ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। 

তারই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল, সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসকেও করোনা আক্রান্তদের নমুনা সংগ‌্রহ ও প‌্রশিক্ষণ কেন্দ‌্র হিসেবে স্বস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনের প‌্রেক্ষিতে ‘জেকেজি হেলথ কেয়ারকে অনুমতি প‌্রদান করেছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় প‌্রফেসর মো: আশরাফ হোসেন।

অতঃপর, দীর্ঘ দুমাস যাবৎ তারা ক্যম্পাসে অবস্থানকালে প‌্রয়োজনীয় নানান আনুষঙ্গিক কার্যাদি মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয় তাদের সম্মান এবং সুবিধার্থে  লকডাউনের নিষেধাজ্ঞার ভেতরেই সম্পন্ন করে দিয়েছেন। একটি পরিবারে অবস্থান করতে গেলেও মতের অমিল হয়, মনোমালিন্য হয়। এটাই স্বাভাবিক।  কিন্ত বিষয়টা হলো, কারো ওপর আপনার ক্ষোভ থাকতেই পারে  কোনো কারণে ক্ষুদ্ধ হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই বলে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় আকস্মিক নারকীয় হামলা- নৃশংসতা কেনো? 
 
পৃথিবীর যে কোনো মহামারী বিপর্যয়ে মানবিক মন স্বভাবতই দুর্বল হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও তাই। মানব ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন এই ভাইরাসের আতঙ্ক যেমন সর্বগ‌্রাসী তেমনি সর্বজনবিদিত। 

চিকিৎসক, স্বাস্হ্যকর্মীরা এই মূহুর্তে সবচেয়ে আপনজন, উদ্ধারকর্তা। কিন্ত তাই বলে বিষয়টা ন্যায় অন্যায় বহির্ভূত নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টিকে নিয়ে কেউ যদি পরিস্থিতি ঘোলা করেন, জন সমর্থন, সহানুভূতি আদায় করতে চান তাহলে এর মহত্ব যেমন নষ্ট হয় তেমনি প‌্রকৃত সত্যও আড়ালে থেকে যায়। 

তিতুমীর কলেজের এক বর্ষীয়ান কর্মচারী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আপা আমরা পরাজিত হয়ে গেছি ’। নৃশংসতার হাত থেকে কেও রেহায় পাইনি।

তিতুমীরের সাবেক ও বর্তমান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শত শত শিক্ষার্থী মিলে তিতুমীর এক যৌথ পরিবার।  অথচ এই পরিবারের কিছু দুর্বল কর্মচারীর ওপর ‘জেকেজির তথাকথিত স্বাস্হ্যকর্মীসহ তাদের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ, এমন নোংরা, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ কটুক্তি করেছেন যা পুরো তিতুমীর পরিবারের জন্য মর্যাদা হানিকর, নিন্দনীয়ও বটে। 

প্রসঙ্গত, গত (১ জুন) সোমবার দিবাগত রাতে একজন নারী স্বাস্হ্যকর্মী তার নিজের ভবন থেকে মাঠ পারি দিয়ে তিতুমীরের কলাভবনের দিকে রাত ১ টার পর অশালীন পোশাকে একজন পুরুষ সহকর্মীর কাছে যাচ্ছিলেন। পথে নৈশ প‌্রহরীর সঙ্গে বাদানুবাদ উপেক্ষা করেই সে যখন ওই ভবন পর্যন্ত চলে আসে তখন পুরুষ সহকর্মীটি নেমে এসে মেয়েটিকে ওপরে নিয়ে যান। তারপর রাত তিনটা বেজে গেলেও যখন তারা নীচে নেমে আসছিলেন না, তখন কর্তব্যরত নৈশপ‌্রহরী ভেতরে অবস্হানরত তিতুমীরের কর্মচারীদের সাহায্যে নিরুপায় হয়ে পুলিশে খবর দেয়।

পরে বনানী থানার পুলিশের সহযোগিতায় সে রাতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটে। 

এদিকে, তিতুমীরের কর্মচারীরা আমাদের অধ্যক্ষ মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ‘জেকেজি হেলথ কেয়ারের দুজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সেদিন আর কোনো ধরণের উচ্চবাচ্য না হওয়ায় পরিস্হিতি স্বাভাবিক ছিলো।

২য় ধাপে পরেরে দিন দিবাগত রাতে আনুমানিক ১১ টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চলে নৃশংসতম হৃদয়বিদারক ঘটনা।  সেসময় জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফ সস্ত্রীক ক্যাম্পাসে প‌্রবেশ করেন। 

কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী সেসময় প‌্রায় দুইশত বহিরাগত সন্ত্রাসী লাঠি সোটা, রড, চাপাতি নিয়ে কলেজের ভেতরে প‌্রবেশ করে এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী  মহিলাদের প‌্রধান ফটকের মুখে দাঁড় করিয়ে ফটক ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। 

অন্যদিকে, জেকেজি হেলথ কেয়ারের দুই প‌্রধানের নির্দেশে  নৃশংস মধ্যযুগীয় কায়দায় বহিরাগতরা গ্রুপে গ্রুপে কর্মচারীদের কোয়াটারে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন ও ভাংচুর চালায়। 

সরেজমিন অনুসন্ধানেও সেই চিত্রের দেখা যায়। জানের ভয়ে লুকিয়ে থাকা কর্মচারীরা বের না হলে ঘরে আগুন দেবারও হুমকি দেওয়া হয়।

জীবনের ভয়ে কর্মচারীরা প‌্রাণভিক্ষা চান আবার কেউ কেউ বাউন্ডারী প‌্রাচীরের ওপর কাঁটাতার ডিঙিয়ে ওপারে পড়ে রক্তাক্ত হয়ে হাত পা ভেঙ্গে ফেলেন। মৃত্যুভয়ে ভীত কর্মচারীদের কেউ কেউ লুকিয়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ম্যাডামসহ যাকে যেভাবে পেরেছেন ফোনে চাঁপা আর্ত কন্ঠে বাঁচান স্যার! জানে বাঁচান স্যার বলে  কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

এদিকে,আগে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরকে তখন অডিটোরিয়াম থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। ততোক্ষণে ক্যাম্পাসের ভেতরের আর্তনাদে মহল্লাবাসী, রাস্তার সাধারণ মানুষ এবং মিডিয়াকর্মীরাও উপস্হিত হন কিন্ত কাউকেই ভেতরে প‌্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

উল্লেখ্য, জেকেজি হেলথ কেয়ারের সাথে তিতুমীর পরিবারের কোনো বিরোধ নেই। বরং তাদের সেবার ব‌্রতকে প‌্রতিপদে সম্মান জানিয়েছেন তিতুমীর পরিবার এবং তিতুমীর কর্তৃপক্ষ।

তবে, জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী বরাবরই পানি, বিদ্যুৎ এর সমস্যাগুলি সামনে নিয়ে এসেছেন। 

এক্ষেত্রে বলা যায়, তথাকথিত স্বাস্হ্যকর্মীদের নির্মানাধীন যে দুটো ভবনে থাকার ব্যবস্হা করা হয়েছিলো সে দুটি ভবনের একটি একাডেমিক কাম এক্সামিনেশন ভবন আর অন্য ভবনটি বিজ্ঞান ভবন হিসেবে পাঠদানের সাথে সম্পৃক্ত। কোনো আবাসিক ভবনের কাঠামোয় তৈরি নয় ভবন দুটি; তদুপরি পূর্বেই বলেছি দুটি ভবনই নির্মানাধীন। যে জন্য পানির যে ব্যবস্হা ছিলো সেটি তাদের প‌্রায় দু’শ স্বাস্হ্যকর্মীর জন্য পর্যাপ্ত না হলেও সাময়িক সমাধান দেওয়া হয়েছে প‌্রতিবারই। 

এদিকে, দু’মাসে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিলও, প‌্রায় দু’ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তবুও রাষ্ট্রীয়-মানবিক কাজ বিবেচনায় অধ্যক্ষ মহোদয় সে দায়িত্বও কলেজের পক্ষ থেকে গ‌্রহণ করেছেন অত্যন্ত সাবলীলভাবে। 

লকডাউন সীমিতকরণের প‌্রেক্ষিতে সকলেই জীবিকার সন্ধানে নেমেছেন। তিতুমীরের নির্মানাধীন ভবনের কাজ শুরু করার জন্য অধ্যক্ষ মহোদয়ের ওপর ঠিকাদারের অনবরত চাপ থাকলেও তিনি মহামারী এবং কোভিড যোদ্ধাদের প‌্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে নির্মান কাজও বন্ধ করে রেখেছেন। 

অথচ সেই সহজ সরল মানুষটিকে কী নির্মমতার চিত্রই না আজ দেখতে হচ্ছে । তার নিরীহ কর্মচারীরা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। 

ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কথিত এসব স্বাস্হ্যকর্মীরা তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতি সমন্বিতভাবে ক্ষোভ প‌্রকাশ করেছে। 




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]