ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ ২৩ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০

করোনায় ব্যস্ততা বেড়েছে পুুলিশের
আমাদের বিশ্বাস পুলিশ জনগণের বন্ধু
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 13

পুলিশ জনগণের বন্ধুÑ এই আপ্তবাক্য আমাদের দেশে চালু আছে। বিগত ২০০ বছরের ইতিহাসে এ দেশের মানুষ বাক্যটি বিশ্বাস করেনি বা যাপিত জীবনে পুলিশের ভ‚মিকা তেমনটি ছিল না। ইংরেজ আমল, পাকিস্তানি শাসন পেরিয়ে এ ভ‚খÐের জনগণ পুলিশ দ্বারা শুধু নিপীড়নটুকু দেখেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স অর্ধশতক ছুঁইছুঁই করছে। তারপরও পুলিশের সেবার প্রতি জনগণের অভিজ্ঞতা বিবমিষায় পূর্ণ। এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। স্বাধীন দেশের পুলিশ জনগণের সেবক হবে এমনটাই আশা ছিল। তা হয়নি। দুইশ বছরে ব্রিটিশ কাঠামো থেকে পুলিশের খোলস বদলাতে পারেনি। তার দোষ কি প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী শুধুই পুলিশের? কেন তাদের ভ‚মিকা বিতর্কিত? এ বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। বিগত ৪৮ বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রজাতন্ত্রের এ গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী রাজনৈতিক কঠোমোতে ব্যবহার হয়েছে। ফলে যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। পুলিশ জনগণের সেবক এ কথাটির প্রায়োগিক ক্ষেত্র থেকেছে বিতর্কিত। না হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির উন্নতি, না হয়েছে পুলিশ সদস্যদের উন্নয়ন। তবে বিগত দেড় দশকে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো পুরোপুরি বদলে গেছে। অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রতিটি সদস্যের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার প্রভ‚ত উন্নতি হয়েছে এটা গর্ব করে বলা যায়। দেশের প্রয়োজনে পুলিশের সদস্য সংখ্যাও বেড়েছে। অবহেলিত এ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের ফল আমরা এবার পেতে শুরু করেছি। বিগত তিন মাস দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করছে পুলিশের অসাধারণ সেবামূলক ভ‚মিকা। করোনার এমন পরিস্থিতিতেও মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। করোনার আগে থানাগুলোতে কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জনগণের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বাহিনীর বহু সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এখন করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে পুলিশের নাম অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। জনগণ পুলিশের নিকট এমনতর ভ‚মিকাই আশা করে। দেশের এ ক্রান্তিকালে স্বাস্থ্যকর্মীসহ পুলিশের কার্যক্রম জনগণের ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার মধ্যে গতানুগতিক অপরাধ বহুলাংশে কমে যাওয়ায় পুলিশ এখন মানবিক কাজ করছে। পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, আক্রান্ত বা লক্ষণ বহনকারীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা, বাজার মনিটরিং, অসহায় দরিদ্রদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া ও প্রশাসনের কাজে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন মানবসেবামূলক কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে পুলিশ। এর বাইরে মৃত ব্যক্তিদের সৎকার, জানাজা, করোনা আক্রান্ত পলাতক রোগীদের ধরে আনা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে করোনা আক্রান্তের বাসা ও এলাকা লকডাউন করাসহ অসহায় দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। করোনা আতঙ্কে রাজধানীর রাস্তাঘাট ও অনেক বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে অপরাধীরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে টহল পুলিশ। নগরবাসীর নিরাপত্তায় একাধিক গ্রæপে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টাই টহল দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।
করোনার কারণে অপরাধপ্রবণতা কিছুটা কমেছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ সদস্যরা আগে থানায় বেশি সময় কাজ করলেও এখন মাঠে থেকে আরও বেশি কাজ করছে। দেশে চলমান করোনা মহামারিতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত পুলিশের ১৭ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৬ হাজার পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন।
একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের পুলিশ বাহিনী জীবন বাজি রেখে মাতৃভ‚মির জন্য লড়াই করে গেছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা যুদ্ধে মানুষের কল্যাণে তাদের ভ‚মিকায় আমাদের বিশ্বাসে একটি শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে, পুলিশ জনগণের বন্ধু। মাতৃভ‚মির গর্বিত সন্তান। মাতৃভ‚মির ক্রান্তিকালে আবারও প্রমাণ হলো এই মাটির সন্তান হিসেবে তারা ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা। স্যালুট।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]