ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০

করোনাকালের গল্প
করোনা, মনোবল ও ইমিউনিটি
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২০, ৯:২১ এএম আপডেট: ২৮.০৬.২০২০ ১০:০২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 285

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে ‘উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা’ পদে কর্মরত মো. আহসান হাবীব। করোনাকালীন নিজ দপ্তরের নির্ধারিত কার্যক্রমের পাশাপাশি করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এরই মাঝে সস্ত্রীক কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন তিনি। বিশ^বিদ্যালয় জীবনে সাংবাদিকতা, আবৃত্তি, রোটার‌্যাক্টসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী এই মানবপ্রেমী করোনায় আক্রান্ত হয়েও দমে যাননি। কঠিন এই সময়ে যখন অনেকেরই মনোবল ভেঙে পড়ে, তখন তিনি ঘরে বসেই নতুন উদ্যমে শুরু করেছেন মানুষের মনোবল চাঙ্গা রাখার প্রক্রিয়া। সবাইকে সচেতন করার ব্রত নিয়ে করোনা মোকাবিলা ও জীবনবোধের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত ফেসবুক লাইভে এসে তুলে ধরছেন নিজের অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাসের গল্প। আহসান হাবীবের বলে যাওয়া সেসব অভিজ্ঞতা অনুলিখন করে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে
‘সময়ের আলো’তে। আজ তৃতীয় পর্বে থাকছে- ‘করোনা, মনোবল ও ইমিউনিটি

করোনার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে মনোবল চাঙা রাখা, ইতিবাচক কাজ করা, ইতিবাচক মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখা। কারণ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মানসিক শক্তি ও মনোবল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
মনোবল ধরে রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে মানসিকভাবে নির্ভার হওয়া। সম্ভাব্য সব ধরণের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরও যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেতেই পারে। এজন্য মনোবল হারালে চলবে না। ইমিউনিটি বা রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন ও ধরে রাখার জন্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই অর্থাৎ প্রতিরোধপর্বেই মনোযোগী হতে হবে। আর মনোবল দৃঢ় রাখার বিষয়টি বেশি কাজে লাগবে আক্রান্ত হবার পর।

অতীতের গ্লানি ও ভবিষ্যতের শঙ্কা নিয়ে বাঁচি আমরা। এই দুটোকেই বাদ দিতে হবে জীবন থেকে। যদি ভালোভাবে বাঁচতে চাই তবে বর্তমানের উপর ফোকাস করতে হবে। “এতো ব্যবস্থা নেবার পরও আমি করোনা পজিটিভ! হায় হায়!”- এই অতীত গ্লানি মনেও আনা যাবে না। “আমার এখন কি হবে? হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে? অক্সিজেন লাগবে? নাকি মারাই যাবো?’- এতসব ভবিষ্যৎ শঙ্কাও মনে আনা যাবে না।

 করোনায় আক্রান্ত হলে শরীরের অক্সিজেন কমে যায়। এই সময়ে দুশ্চিন্তা করলে মস্তিস্ক স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত অক্সিজেন খরচ করে ফেলে। ফলে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহে দেখা দেয় অক্সিজেনের ঘাটতি। তাই সবসময় দুশ্চিন্তা পরিহার করতে সচেষ্ট থাকতে হবে।

পাশাপাশি ইমিউন সিস্টেম চাঙা রাখতে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যখনই কিছু করবেন মনোসংযোগ দিয়ে আনন্দের সাথে করবেন। পুরো শরীর ও মনকে একত্রে কাজে লাগাবেন। তাহলেই ফল পাবেন।
শ্বাসতন্ত্র ঠিক রাখতে করতে পারেন ফুসফুসের ব্যায়াম। সাধ্যমতো ভেতরে শ^াস টেনে নিতে হবে। তারপর সেই শ্বাসকে স্বাভাবিকভাবে যতক্ষণ সম্ভব ধরে রাখবেন। এরপর যতটা গতিতে শ্বাস গ্রহণ করেছিলেন তার চেয়ে তুলনামূলক কম গতিতে ছেড়ে দিবেন। ব্যায়ামটি দৈনিক ৩/৪ বেলা করবেন এবং প্রতি বেলায় ৪/৫ বার করে করতে পারেন। এটি করার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। বরং ফুসফুসের ব্যায়ামটি করার সময় পুরো শরীর-মনকে আপন করে নিন, উপলব্ধি করুন নিজেকে।
প্রাথমিক পর্যায়ের শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় ’প্রনিং পজিশন’ খুবই উপকারি। বালিশ ছাড়া উপুড় হয়ে শুয়ে পরুন। শক্ত বিছানা হলে ভালো হয়। ১৫-৩০ মিনিট হাত দুটো হাত পাশে রেখে শুয়ে থাকবেন। তারপর স্বাভাবিকভাবে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবেন। আশে-পাশের ছোট ছোট বিষয়গুলোকে নিজের মতো করে ভাববেন। এরপর ডান কাত হয়ে ১৫-৩০ মিনিট শুয়ে থাকবেন। আবার একটু স্বাভাবিকভাবে কিছুক্ষণ শুয়ে একইভাবে বাম কাত হয়ে ১৫-৩০ মিনিট শুয়ে থাকবেন। সবশেষে পুনরায় উপুড় হয়ে ১৫-৩০ মিনিট শুয়ে থাকবেন। এটি সকাল-বিকাল বা শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা বোধ হলে করতে পারেন।

খাদ্যাভাস নিয়েও সচেতন হতে হবে। নিয়মিত খেতে হবে প্রোটিন, ভিটামিন সি, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, অধিক পিএইচ মানসমৃদ্ধ খাবার। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানি পান করতে পারেন।  ধূমপান, অতিরিক্ত লবণ, ফাস্টফুড,  চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

বাড়িতে বসেই ব্যায়াম ও ফ্রি হ্যান্ড এক্সসারসাইজ করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি। ঘুমের বিষয়ে কিছু টিপস মেনে চলা প্রয়োজন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে হবে, একই সময়ে উঠতে হবে। ঘুমানোর কমপক্ষে একঘন্টা আগে সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে থাকতে হবে। এই সময়টুকুতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। ঘুমানোর আগের এই সময়টাতে সামান্য হাঁটাহাঁটিশেষে পানি দিয়ে একটু চোখ-মুখ ধুয়ে নিতে পারেন।

একঘেয়েমি রুটিনে চলা যাবেনা। জীবনে আনতে হবে বৈচিত্র্য। বই পড়তে পারেন, গান শুনতে পারেন, সিনেমা দেখতে পারেন।
সুস্থ-অসুস্থ সবাইকে গরম পানির ভাপ নিতে হবে। অনেকেই ভাবেন, ভাপ নিলে করোনা ভাইরাস মারা যায়। এটা ভুল ধারণা। মূলত ভাপ নেওয়ার ফলে আপনার শ্বাসনালীটি পরিষ্কার থাকবে। ভাপ নেবার সময় গরম পানিতে হলুদ, আদা, লবঙ্গ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি মিশিয়ে নেবেন । নিরাপদ দূরত্বে থেকে মাথা তোয়ালে বা গামছা দিয়ে ঢেকে এটি করবেন। নাক বা মুখ উভয় অঙ্গ দিয়েই শ্বাস নিবেন এবং ছাড়বেন। এই মশলামিশ্রিত পানিটা আবার গরম চায়ের মতো পান করতে পারেন।
ভেষজের দোকানে একধরণের সৈন্ধব লবণ নামে বিশেষ ধরনের লবণ পাওয়া যায়। গোসলের শেষধাপে এক বালতি পানিতে এক চা চামচ পরিমাণ সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে গোসল করবেন। এতে অস্থিরতা কমবে বলে আশা করা যায়।

সবশেষে হাতে বানানো বিশেষ এক চকলেটের কথা বলি আপনাদের। শুকনো আদার গুঁড়া/ ব্ল্যান্ড করা আদা, পিপুলের (ভেষজের দোকানে পাবেন) গুঁড়া, গোলমরিচের গুঁড়া সমপরিমাণে নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করবেন। তারপর আধা চা চামচ মিশ্রণের সাথে সমপরিমাণ মধু দিয়ে চকোলেট আকৃতিতে বানাবেন। এই চকোলেট দিনে তিনবার প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চুষে চুষে খাবেন।  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]