ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৪ জুলাই ২০২০ ২০ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৪ জুলাই ২০২০

এক দিনে রেকর্ড রোগী শনাক্ত
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ৩০.০৬.২০২০ ৩:৪০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 13

দেশে আবার দিনে ৪ হাজার পেরোল করোনা ভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৪ জন। একদিনে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন। এই সময়ে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ৪৫ জন। সব মিলিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৭৮৩ জন। আগেরদিন রোববার দেশে করোনায় সংক্রমিত ৩ হাজার ৮০৯ জন
শনাক্ত হয়েছিল।  আর মারা গেছে ৪৩ জন। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৩ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার নিয়মিত অনলাইন বুলিটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।
এদিকে সরকারিভাবে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফি আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে বুথে গিয়ে নমুনা দিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য ২০০ টাকা লাগবে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্যও লাগবে একই পরিমাণ টাকা। তবে বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানোর জন্য দিতে হবে ৫০০ টাকা। সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে গতকাল পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। এত দিন সরকারিভাবে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছিল। সরকার মনে করছে, এর ফলে কোনো উপসর্গ ছাড়াই অধিকাংশ মানুষ পরীক্ষা করিয়েছে। অবশ্য বেসরকারি হাসপাতালে আগে থেকেই পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আর বেসরকারিভাবে বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য লাগছে সাড়ে চার হাজার টাকা।
পরিপত্র অনুযায়ী, এ বাবদ আদায় করা টাকা সরকারি কোষাগারে যাবে। এতে আরও বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সরকারি আদেশ বহাল থাকবে। আর চিকিৎসা সুবিধা বিধিমালার আওতায় সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। নতুন করোনা ভাইরাস শনাক্তে শুরু থেকেই আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৬৮টি ল্যাবরেটরি চালু হয়েছে। আর এই পর্যন্ত পিসিআরে মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ১৯৭টি নমুনা।
অনলাইন বুলিটিনে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, নতুন করে মারা যাওয়াদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। ৩০ জন হাসপাতালে এবং ১৪ জন বাড়িতে মারা গেছেন। একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৯০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ১ জনের বয়স ৯১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে, ৬ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। তিনি জানান, এই ৪৫ জনের মধ্যে ২২ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫ জন খুলনা বিভাগের, ১ জন রাজশাহী বিভাগের, ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের, ৩ জন সিলেট বিভাগের, ৩ বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
তিনি বলেন, দেশের ৬৫টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৮৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা  করা হয়েছে। এর আগের দিন ১৮ হাজার ৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি নমুনা। দেশে ৬৮টির মধ্যে ৬৫টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) করোনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। নাসিমা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যার বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
জুলাইয়ে চীনের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা  বাংলাদেশে : জুলাই মাসে চীনের করোনার টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাংলাদেশে শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভেকের অংশীদার হিসেবে এই পরীক্ষা চালাবে বলে জানা গেছে। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছিলেন চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা  বাংলাদেশে হবে, এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের কোন কোন প্রতিষ্ঠান ওই টিকা উৎপাদন করতে পারবে, তা-ও জানার চেষ্টা করছে সরকার।
বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ ২৪ জুনের খসড়া তালিকা অনুযায়ী এখন সারা বিশে^ টিকা বানাতে ১৪৩টি উদ্যোগ চালু আছে। ২ জুন এমন উদ্যোগের সংখ্যা ছিল ১৩৩। অর্থাৎ তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ১০টি টিকার উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে। এখন ১৪৩টি উদ্যোগের মধ্যে ১৬টির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষা চলছে। বাকি ১২৫টি টিকা প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে আছে।
আইসিডিডিআরবির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, চীনের সিনোভেক বায়োটেক ও আইসিডিডিআরবি যৌথভাবে বাংলাদেশের প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে নিয়ে টিকার এই পরীক্ষা  চালাবে। দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই সপ্তাহে চুক্তি হতে পারে। চুক্তি হওয়ার পর টিকা পরীক্ষার অনুমোদনের জন্য আইসিডিডিআরবি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন জানাবে।
খ্যাতিসম্পন্ন টিকা বিশেষজ্ঞ এবং আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় টিকার ট্রায়াল শুরুর পরিকল্পনা আছে আইসিডিডিআরবির। এটি কবে শুরু হবে, এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কেননা, অনেক বিষয়ের ওপর এটি নির্ভর করে।
করোনার চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তবে তা স্থায়ী সমাধান নয়। কার্যকর টিকা পাওয়া গেলে তা সংক্রমণ থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দেবে, মানুষ স্বস্তিতে থাকবে। সারা বিশ^ টিকার জন্য অপেক্ষা করে আছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও এ ব্যাপারে আগ্রহ আছে। পরীক্ষা  সফল হলে টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে।
চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার স্থানীয় কার্যালয় নতুন ভাইরাসের বিষয়ে ঘোষণা দেয় ৩১ ডিসেম্বর। ধারণা করা হয়, ভাইরাস প্রতিরোধে চীন শুরু থেকে যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল, তার মধ্যে টিকা উদ্ভাবনের প্রচেষ্টাও ছিল। সিনোভেক বায়োটেক এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। সিনোভেকের টিকার সম্ভাব্য নাম ‘করোনাভেক’।
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, টিকার পরীক্ষার কাজটি যেন দ্রæত এগিয়ে যেতে পারে, তার জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দেব। এতে বাংলাদেশের লাভ কী হবে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার পাব। তিনি আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাজ্য টিকা উদ্ভাবনের কাজে এগিয়ে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুটি দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে টিকা তৈরির কাঁচামাল যেন বাংলাদেশ পায়, সে বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
টিকার পরীক্ষা মূলক ব্যবহার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে আইসিডিডিআরবির। কলেরার টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তারা বড় গবেষণা করেছে। এই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অধ্যাপক ফেরদৌসী কাদরি। এ ছাড়া অতীতে সিনোভেকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাদের আছে।
কার্যকর টিকা উদ্ভাবিত হলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের মানুষের টিকা পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে। কারণ, এসব দেশের বিজ্ঞানী ও প্রতিষ্ঠান টিকা উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় যুক্ত এবং এসব দেশে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ টিকা উৎপাদন করার মতো প্রতিষ্ঠানও আছে। টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করবে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে এসব দেশের সব মানুষকে টিকা দেওয়ার মতো মজুত শিগগির গড়ে তুলতে পারবে না সংস্থাটি। প্রতিটি দেশের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি হচ্ছে। এই তালিকার শীর্ষে আছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
বাংলাদেশে টিকা ব্যবহারের হার অনেক বেশি। দেশে টিকাদান ব্যবস্থাপনাও অনেক উন্নত। বাংলাদেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির অনন্য সাফল্যের জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভ‚ষিত করা হয়। জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রীকে এ সম্মাননা দেয় গেøাবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই বা গ্যাভি)। ৪ মে এই গ্যাভি অ্যালায়েন্স আয়োজিত ভাচর্ুুয়াল বৈশি^ক টিকা সম্মেলনে বিশ^নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য দ্রæত টিকা উদ্ভাবনের তাগিদ দেন। বাংলাদেশের এই সাফল্য ও সুনাম মানুষের জন্য টিকা সংগ্রহে কাজ লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]