ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৪ জুলাই ২০২০ ২০ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৪ জুলাই ২০২০

পুষ্টিভরা লতিরাজ ও মুখি কচু চাষে দিন এসেছে কৃষকের ঘরে
নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়া
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ৩০.০৬.২০২০ ৪:০২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 31

পুষ্টিভরা লতিরাজ ও মুখি কচু চাষে সুদিন এসেছে কৃষকের ঘরে। ভিটামিন সমৃদ্ধ সবজি কচুর বাজারদরও খুব ভালো আগাম জাতের কচু চাষে মুখে হাসি ফুটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষকদের।
এবার কচুর দাম বেশ ভালো। বছর বর্ষার প্রকোপ বেশি থাকায় কচুর সেচ খরচও কম হয়েছে। যেখানে দুদিনে একবার সেচ আর প্রতি সেচেই সার দিতে হয় সেখান এ বছর এসব খরচ কম হয়েছে। রোগ ও পোকার আক্রমণও ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আবার বিঘা প্রতি ১০০ থেকে ১২০ মণ কচু পাচ্ছেন কৃষক।
কৃষকরা স্থানীয় বাজারেই দর পাচ্ছেন কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি (২০২০-২১) মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ১৮০ হেক্টর, খোকসায় ৪০ হেক্টর, কুমারখালীতে ৭২ হেক্টর, মিরপুরে ১৭০ হেক্টর, ভেড়ামারায় ১৪৫ হেক্টও ও দৌলতপুরে ৪০৭ হেক্টর। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপর ইউনিয়নের কাতলামারী এলাকার কৃষক রাজা মিয়া এ বছর ১০ কাঁঠা জমিতে আগাম জাতের কচুর চাষ করেছেন।
রাজা মিয়া বলেন, আমি ১০ কাঠা জমিতে কচুর চাষ করেছি। এক কাঠা জমি থেকে আমি ৫ থেকে ৬ মণ করে কচু পাচ্ছি। জমি থেকেই আমি ৫৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি হারে কচু বিক্রি করে দিচ্ছি।
একই এলাকার কচু চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কচুতে যত সার দেওয়া হয় তা অন্য কোনো ফসলে আমরা দেই না। তা ছাড়া এক দিন পর পর কচুর জমিতে সেচ দিতে হয়। হাতি পোষা আর কচু চাষ সমান কথা। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির কারণে কচুতে বেশি সেচ লাগেনি। তারপরেও ভালোই সেচ দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে ৩ থেকে ৪ দিনে একবার সেচ আর সার দিতে হয়।
তিনি বলেন, আমি ১৫ কাঠা জমিতে এবার হাইব্রিড মুখি কচু চাষ করেছি। গত বছর ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে কচু বিক্রি করেছিলাম। এবার তো কচুর দাম বেশ ভালো। চাষি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পৌঁষ মাসের শুরুতে জমিতে বীজ
রোপণ করেছি। মাঘ মাসে কচু বের হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ৪ মণ করে কচুর বীজ লাগে। মণপ্রতি বীজ ৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া জমি চাষ, সার দেওয়া, সেচ দেওয়া, কচুর গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়াসহ নিড়ানি খরচ ভালোই হয়। দুই দিন পর পর সেচ না দিলে মাটি শুকিয়ে যায়। এতে কচু ভালো হয় না। আর প্রতিবার সেচ দেওয়ার পর সার দিতে হয়। এবার কচুর জমিতে সেচ কমই লেগেছে। কারণ মাঝে-মধ্যেই বৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠ থেকেই কচুর যে দাম পাওয়া যাচ্ছে এটা যদি আর দুয়েক মাস থাকে তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে। কচু চাষি আরব আলী বলেন, কচুতে এবার কোল মুখিও বেশি রয়েছে। মূল গাছের সঙ্গে সঙ্গে এসব কোলমুখিতেও কচু হয়েছে। কুষ্টিয়ায় সবচেয়ে কচু চাষ বেশি হয় দৌলতপুর উপজেলায়।
দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুÐি ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার কৃষক সোহেল রানা বলেন, আমি ১ বিঘা জমিতে কচুর চাষ করেছি। তবে একটু নাবি জাতের। এখন মাত্র গুটি গুটি হয়েছে। এক মাস পরে কচু তুলতে পারব। আগাম জাতের কচুতে লাভ বেশি। কারণ এ সময় দাম ভালো হয়।
এ ছাড়া মাঠ থেকে কচু তুলে এনে বাড়িতে পরিষ্কার করেও অর্থ উপার্জন করেন কৃষাণীরা। প্রতিমন কচু পরিষ্কার করে দিলে তারা পেয়ে থাকেন ২৫ থেকে ৩০ টাকা। একজন মহিলা ঘণ্টায় দেড় থেকে দুই মণ কচু পরিষ্কার করে থাকেন।
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, এই অঞ্চলের মাটি কচু চাষের জন্য উপযোগী। আর কচু চাষ বেশ লাভজনক। আগাম কচু চাষ করলে, বাজার দর ভালো পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে সবজি হিসাবে কচুর চাহিদা অনেক বেশি।
তিনি বলেন, এ বছর কচুর রোগবালাই কম। তা ছাড়া বৃষ্টির কারণে কচুর সেচ খরচও কম লেগেছে। আমরা কচুর আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। এ বছর কচুর দাম ভালো। এমন দাম দুয়েক মাস দাম থাকলে কৃষকরা ভালো লাভবান হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার প্রামানিক বলেন, কচু চাষ খুবই লাভজনক। কৃষকরা কচু চাষ করে বেশ ভালো লাভ করছেন। দিন দিন কচু চাষ এই অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কচুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও পুষ্টি থাকে। মুখিকচুর পাশাপাশি লতিরাজ কচু চাষ করেও কৃষকরা কম সময়ে লাভবান হচ্ছেন।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]